কংগ্রেস থেকে তৃণমূল- বিধানসভা নির্বাচনে চিরকাল অপরাজেয়ই থেকে গেলেন সাধন
কংগ্রেস থেকে তৃণমূল- বিধানসভা নির্বাচনে চিরকাল অপরাজেয়ই থেকে গেলেন সাধন
অপরাজেয় থেকেই জীবন শেষ হল সাধন পাণ্ডের। কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়েছিলেন, কিন্তু জয়লক্ষ্মী কোনওদিন তাঁর পিছু ছাড়েনি। সেদিনের বড়তলা হোক বা আজকের মানিকতলা- সর্বত্রই তাঁর বিজয়রথের চাকা গড়িয়েছে মসৃণভাবে। ১৯৮৫ সাল থেকে তিনি বিধানসভার সদস্য ছিলেন, আমৃত্যু তিনি বিধানসভার সদস্য থেকে গিয়েছেন।

পূর্ব বড়তলা হয়ে উঠেছিল তাঁর নিজস্ব কেন্দ্র। হালে মানিকতলা। টানা ন-বার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। একমাত্র সুব্রত মুখোপাধ্যায় তাঁর থেকে বেশিবার বিধায়ক হয়েছেন। অজিত পাঁজা ঘনিষ্ঠ ছিলেন সাধন পাণ্ডে। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসন বড়তলায় উপনির্বাচনে প্রথমবার তিনি জয়ী হন। তারপর থেকে কংগ্রেসের টিকিটে ২০০১ পর্যন্ত তিনি জয়ী হয়েছিলেন টানা।
১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বড়তলার বিধায়ক ছিলেন। তারপর আসন পুনর্বিন্যাসে লুপ্ত হয়ে যায় বড়তলা আসনটি। ২০১১ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তিনি মানিকতলা থেকে বিজয়ী হন সাধন পাণ্ডে। ১৯৮৫, ১৯৮৭, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তিনি বড়তলা থেকে জয়ী হন কংগ্রেসের টিকিটে। আর ২০০৬-এ বড়তলা থেকে জয়ী হন তৃণমূলের টিকিটে। তারপর ২০১১, ২০১৬ ও ২০২১-এও তিনি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন মানিকতলা কেন্দ্র থেকে। অর্থাৎ আমৃত্যু তিনি বিধানসভা নির্বাচনে অপরাজেয় থেকেছেন। শেষ নির্বাচনেও তিনি বিজেপির কল্যাণ চৌবেকে হারিয়েছিলেন পর্যাপ্ত প্রাধান্য নিয়ে।
তবে বিধানসভা নির্বাচনে অপরাজেয় থাকলেও লোকসভা নির্বাচনে কিন্তু তাঁকে শোচনীয় পরাজয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি হয়। অজিত পাঁজাও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তৃণমূলে গিয়েছিলেন। ১৯৯৮-এর লোকসভায় অজিত পাঁজা প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূলের টিকিটে। একদা অজিত-ঘনিষ্ঠ সাধ পাণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে কংগ্রেসের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই ভোটে শোচনীয় পরাজয় হয় সাধন পাণ্ডের।

তবে ২০০১ সালে তিনিও কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলের হাত ধরেন। তারপর তৃণমূলের টিকিটে তাঁর জয়ের ধারা অটুট থাকে। ২০০১ ও ২০০৬ সালের তৃণমূলের টিকিটে বড়তলা থেকে তিনি জয়ী হন। ২০০৯ সালে আসন পুনর্বিন্যাস হয়। তখনই বিলুপ্ত হয় বড়তলা কেন্দ্র। তারপর থেকে মানিকতলা কেন্দ্রই হয়ে ওঠে তাঁর সেকেন্ড হোম। বিধানসভা ভোটে না পরাজিত হওয়ার রেকর্ড রেখেই তিনি চলে গেলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ রাজনৈতিক মহল।
সাধন পাণ্ডে অজিত পাঁজার ঘনিষ্ঠ হয়ে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। তিনি এআইসিসি-তেও তাঁর গুরুত্ব বাড়াতে থাকেন। কংগ্রেসের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। অজিত পাঁজা ১৯৮৪-র লোকসভায় উত্তর-পূর্ব কলকাতা থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর বড়তলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়যাত্রা শুরু হয় সাধন পাণ্ডের। পরে রাজনৈতিক গুরু অজিত পাঁজার সঙ্গে তাঁর মতবিরোধী হয়। ২০০৬-এ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও তাঁর মতবিরোধ হয়েছিল। পরে সেই মতপার্থক্য দূরে ঠেলে তিনি সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে মমতার শরিক হয়েছিলেন। সেই একসঙ্গে পথচলা শেষ হল অবশেষে। অপরাজেয় বিধানসভা সদস্য সাধন চলে গেলেন অমৃতলোকে।












Click it and Unblock the Notifications