আমি যা বলেছি ঠিকই বলেছি, এখনও বলছি! নেতৃত্বের নিষেধ উপেক্ষা করে ফের বোমা ফাটালেন সব্যসাচী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে কোনও বাঙালি মুখ তুলে ধরতে না পারাতেই বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। বৈঠক থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। এমনকি হিন্দি ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিপক্ষ হিসেবে কোনও বাঙালি মুখ তুলে ধরতে না পারাতেই বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বিজেপির। বৈঠক থেকে বেরিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সব্যসাচী দত্ত। এমনকি হিন্দি ভাষা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি বলেও মন্তব্য করেছিলেন এই বিজেপি নেতা।
কার্যত সরাসরি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে তোপ দেগেছেন। আর তা মোটেই ভালো ভাবে নেয়নি বিজেপি। আর এরপরেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে।

আমি যা বলেছি ঠিকই বলেছি!
সংবাদমাধ্যমকে এই ধরনের মন্তব্য করাটা দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ বলেই মনে করছে রাজ্য বিজেপি। এ নিয়ে দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে অভিযোগও জমা পড়েছে। তবে তার পরেও নিজের বক্তব্য অটল সব্যসাচী। তিনি বলেন, ''আমি যা বলেছি ঠিকই বলেছি। এখনও বলছি, গ্রামবাংলার মানুষ ভিন্ রাজ্যের নেতাদের কথা বুঝতে পারেননি।'' তিনিও যে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এদিন আরও একবার আগেভাগে বুঝিয়ে দিয়েছেন সব্যসাচী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিলে তাঁর যে কিছু যায় আসেনা তা হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুকুল ঘনিষ্ঠ এই নেতা।

বলতে না দেওয়ার অভিযোগ!
ভোটের পর কয়েকদিন আগেই বৈঠক ডাকেন দিলীপ ঘোষ। সে বৈঠকে অংশ নেননি মুকুল রায়। কিন্তু সব্যসাচী দত্ত ছিলেন ওই বৈঠকে। দিলীপ ঘোষের ডাকা বৈঠকে এই সব অভিযোগ জানাতে শুরু করেছিলেন সব্যসাচী। কিন্তু তাঁকে তা বলতে দেওয়া হয়নি। তিনি শুরু করতেই 'সময় কম' জানিয়ে থামিয়ে দেন দিলীপ। এর পরে সব্যসাচী সংবাদমাধ্যমে মুখ খোলেন। যাবতীয় ক্ষোভ জানিয়ে দেন। এটাকেই শৃঙ্খলাভঙ্গ বলে মনে করছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাতে তাঁর কিছু যায় আসেনা বলেই মন্তব্য প্রাক্তণ এই তৃণমূল নেতার।

তৃণমূলে যেতে পারেন সব্যসাচী!
মুকুলের অন্যতম ঘনিষ্ঠ সব্যসাচী। তৃণমূলে থাকাকালীন একাধিকবার সব্যসাচীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। এরপর তাঁর হাত ধরেই দলবদল। জানা গিয়েছে, ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই মুকুল রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন সব্যসাচী। মনে করা হচ্ছে মুকুল রায়ের সঙ্গেই হয়তো তৃণমূলে ফিরতে পারেন সব্যসাচী। গত কয়েকদিন আগেই দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেণ তিনি। স্পষ্ট বলে দিয়েছিলেন, মমতার বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মতো মুখ বিজেপির ছিল না। হিন্দিভাষী নেতাদের দিয়ে বাংলা দখল সম্ভব নয়। যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে বিজেপি শিবির।

ফেসবুকে কার্যত বোমা ফাটিয়েছেন রাজীবও
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ডোমজুড়ের বিজেপি প্রার্থী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি বোমা ফাটিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে প্রকাশ্যেই সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। দলের নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, বারবার রাষ্ট্রপতি শাসন বা ৩৫৬ ধারার জুজু দেখালে মানুষ ভালভাবে নেবে না। উল্লেখ্য, রাজীব ভোটের পর থেকেই কার্যত বেপাত্তা। দলের কোনও মিটিং-মিছিলে দেখা যায় না। দিলীপ ঘোষেরাই নাকি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। যদিও সুভাষ সরকারের দাবি, তিনি সব্যসাচী এবং রাজীব দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন।

ব্যাখ্যা চেয়েছে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি!
এখনও সরকারিভাবে শো-কজ না করা হলেও, তাঁদের কাছে এই ধরনের বক্তব্যের কারণ জানতে চেয়েছেন বিজেপির শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান তথা সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার। আসলে গেরুয়া শিবিরের একাংশের আশঙ্কা, মুকুল তৃণমূলে ফিরলে অনেকেই তাঁর পিছু নেবেন। সেই তালিকায় প্রথম নাম হতে পারে সব্যসাচী এবং রাজীবের। সুভাষ সরকারের দাবি, তিনি সব্যসাচী এবং রাজীব দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন। এমনকি ফেসবুকে বোমা ফাটাতেই রাজীবের সঙ্গে কথা বলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাতেও বরফ গুলেনি বলেই খবর।












Click it and Unblock the Notifications