কে এই স্বামী? ২০২১-এর ভোটে যাঁকে বাংলার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে আরএসএস
কে এই স্বামী? যাঁকে ২০২১-এ বাংলার ভাবী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তুলে ধরতে চাইছে আরএসএস
বাংলার রাজনীতিতে এবার এক স্বামীজির উত্থান হতে পারে। উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথের পর আরও এক স্বামীজিকে বাংলার সক্রিয় রাজনীতিতে তুলে আনতে পারে আরএসএস। তিনি হলেন স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ। তিনি কোনও রাজনৈতিক জগতের মানুষ নন। তার কোনও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও নেই। তাহলে তিনি কে? সামনে এল তাঁর নাম ও পরিচয়।

বাংলায় বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে, সামনে এল স্বামীজির নাম
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলার রাজনীতিকে এরকম বিস্ময়কর পরিবর্তন ঘটতে পারে। যদি বিজেপি নেতৃত্ব ওই যোগী মহারাজকে সক্রিয় রাজনীতিতে আনতে পারে কিংবা তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিতে রাজি হন। বঙ্গ বিজেপির মুখ নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হচ্ছে, তাতে ২০২১ সালের বাংলার নির্বাচনী লড়াইকে সামনে রেখে দলের শীর্ষে উঠে আসতে পারেন রাজনীতিরে বাইরের কেউ। তিনি হলেন স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ।

কৃপাকরানন্দ মহারাজ আসলে কে? কী তাঁর পরিচয়
দেবতোষ চক্রবর্তী বাংলায় মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অর্জন করেছিলেন। সপ্তম হয়েছিলেন উচ্চমাধ্যমিকে। তারপরে তিনি মেডিকেল জয়েন্ট এন্ট্রান্সে ১৭তম স্থান অর্জন করেন এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। এরপরে তিনি দিল্লির এইমস থেকে এমডি করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে হার্ট রিসার্চ করতে যান। সেই দেবতোষই আজ কৃপাকরানন্দ মহারাজ।

হঠাৎ অদৃশ্য,কয়েক বছর পর আবির্ভাব বেলুড় মঠে
আমেরিকাতে তার গবেষণার দিনগুলির পরে দেবতোষ অদৃশ্য হয়ে যান। তাঁর এনআরএসের রুমমেটরা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন সেই তথ্য। কয়েক বছর পরে কৃপাকরানন্দ নামে এক যুবক সন্ন্যাসী বেলুড় মঠে হাজির হন এবং স্বাস্থ্য ভবনের দায়িত্ব নেন। তিনি হলেন দেবতোষ চক্রবর্তী। আজকের কৃপাকরানন্দ মহারাজ।

বহু প্রতিভার অধিকারী যোগী মহারাজ কৃপাকরানন্দ
একজন দক্ষ ডাক্তার এবং আকর্ষণীয় বক্তা হওয়ার পাশাপাশি তিনি শিল্পী ও গায়ক। আশ্চর্যরকমভাবে নিখুঁত শাস্ত্রীয় সংগীত গাইতে পারেন তিনি। একসব গুণে গুণান্বিত তিনি। তাঁর মতো যোগ্য ব্যক্তি খুব কমই হন। কিন্তু তাঁর পাশাপাশি এটাও প্রযোজ্য যে তাঁর মতো যোগ্যর রাজনীতিতে আশা মানে নিজেকে মেরুকরণ করে দেওয়া। সেটা একেবারেই হওয়া উচিত নয়।

কৃপাকরানন্দ মহারাজ বিজেপিতে আশার আলো!
বিজেপি যদি কৃপাকরানন্দ মহারাজকে আনতে পারে সক্রিয় রাজনীতিতে, তবে গেরুয়া শিবিরের কাছে তা সোনায় সোহাগা হবে। বিজেপির কাছে সবদিক দিকে আদর্শ মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী হবেন তিনি। তবে রামকৃষ্ণ মঠের আদর্শ, তাঁর নিজের আদর্শের পরিপন্থী হবে এই সিদ্ধান্ত। তাই তিনি হয়তো এই সম্ভাবনার জলাঞ্জলি দিয়েছেন।

কৃপাকরানন্দ যোগ্যতম ঠিকই, বাধা নোংরা রাজনীতি
বিজেপি মনে করছে, তিনি যদি রাজি হন, তবে তাঁর পক্ষে কোনও সমস্যা হবে বাংলার কুর্সিতে বসা। কেননা এই রাজ্যে বিশিষ্ট মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বিধানচন্দ্র রায়, সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়, জ্যোতি বসু এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতো মুখ এসেছেন আগে। ফলে কৃপাকরানন্দের মতো শিক্ষিত-মার্জিত-রুচিশীল মানুষ বসলে সব দিক দিয়ে উজ্জ্বল হবে।

স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ রাজি হবেন কি?
রামকৃষ্ণ মিশন রাজনীতির প্রতি স্পর্শকাতর থেকেছে। কৃপাকরানন্দ নিজেই নিজের জন্য রাজনৈতিক ভবিষ্যতের কথা অস্বীকার করেছিলেন। তবে এই সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এটি আরএসএসের একটি অন্যতম গোপন পরিকল্পনা। বাংলার জনসাধারণকে চমকে দিতে রাজনীতির বাইরের কোনও মানুষকে প্রশাসনিক শীর্ষ পদে বসানো। তাই যদি হয়, কৃপাকরানন্দ মহারাজ অন্যতম মুখ হয়ে উঠতে পারেন।

রামকৃষ্ণ মিশন ও বর্তমান রাজনীতি এবং কৃপাকরানন্দ
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করা যায় যে, রামকৃষ্ণ মিশন সর্বদা রাজনীতির বাইরে থেকেছে। আর রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ হিসেবে প্রত্যক্ষ রাজনীতিতে আসার পক্ষে নয় কেউই। আগে এক সাক্ষাৎকারে কৃপাকরানন্দ মহারাজ নিজেই বলেছিলেন যে, এ জাতীয় কোনও পরিকল্পনা তাঁর নেই। তাই তিনি রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।

বাংলায় পরিবর্তন আনতে ব্যতিক্রমী পন্থা বিজেপির
তবে রাজনীতিতে কোনও কিছুই অসম্ভব নয়। আর কোনও কিছুই চিরস্থায়ী নয়। তাই সেই সম্ভাবনা ধরে নিয়েই বলা যায় অবাক করার মতো কোনও ঘটনা ঘটতেই পারে। কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বাংলায় পরিবর্তন আনতে এমন কোনও পন্থা অবলম্বন করতেই পারে। সেটা যদি হয় তা একাবারে অবাস্তব হবে না।

উত্তরপ্রদেশে মতো বাংলার কুর্সিতেও যোগী মহারাজ!
এখন সবটাই নির্ভর করবে ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যের উপর। তাহলেই উত্তর প্রদেশের পর বাংলাতেও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে পারেন এক যোগী পুরুষ। রামকৃষ্ণ মিশনের যোগী কৃপাকরানন্দ মহারাজ হতে পারেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য রাজনীতিতে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, দিলীপ-মুকুলদের হাত ধরে বাংলা জয় সম্ভবপর হলেও কুর্সিতে বসবেন যোগী মহারাজ।












Click it and Unblock the Notifications