বিজেপিতে বিদ্রোহী আরও এক সাংসদ! কলকাতা পুরভোটের বৈঠকে বিদ্রোহ রূপার
ফের বিদ্রোহ বিজেপিতে। এবার বিদ্রোহী বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন সভাপতির সামনেই তিনি বিদ্রোহী হয়ে বৈঠক ছেড়ে চলে যান।
ফের বিদ্রোহ বিজেপিতে। এবার বিদ্রোহী বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। রাজ্য বিজেপির বর্তমান ও প্রাক্তন সভাপতির সামনেই তিনি বিদ্রোহী হয়ে বৈঠক ছেড়ে চলে যান। রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের বিদ্রোহে হতভম্ব হয়ে যান রাজ্য বিজেপির পদাধিকারীরা। কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে যা বিজেপিক চরম অস্বস্তিতে ফেলে দিল আবার।

কলকাতা পুরসভার ভোট ঘোষণার সাতদিনের মাথায় প্রার্থী তালিকা প্রকাস করে বিজেপি। তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই ফিসফাস শুরু হয়ে যায়। তবে কি বিজেপি ১৪৪টি ওয়ার্ডে প্রার্থী খুঁজে পাচ্ছে না। তারপর অবশ্য আটঘাট বেঁধে বিজেপি প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। প্রার্থী তালিকায় দলের আদি নেতা-কর্মীরাই গুরুত্ব পান।
বিধানসভা নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে বিজেপি এবার তারকা প্রার্থী বা দলবদলুদের প্রার্থী করার দুঃসাহস দেখায়নি। পুরনোদের সামনের সারিতে তুলে এনে প্রার্থী করা হয়েছে। ফলে সে অর্থে বড় নাম নেই বিজেপির। বিজেপি মীনাদেবী পুরোহিত ও বিজয় ওঝা-সহ পুরনো কয়েকজনকে টিকিট দিয়েছে। তবে কে হবেন মেয়র পদপ্রার্থী তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে।
এই অবস্থায় বিজেপি এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করে। সেই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয় দলের রাজ্যসভার সাংসদ রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে। রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ভার্চুয়ালি হাজিরও হন। বৈঠকে ছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সর্বভারতীয় সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এছাড়াও ছিলেন কলকাতার দুই সাংগঠনিক জেলার সভাপতিরাও।
এদিন বৈঠকের মাঝেই বিরক্ত রূপা গঙ্গোপাধ্যায় বলে বসেন, কেন আমাকে এইসব বৈঠকে ডাকেন। দলের কার্যকর্তাদের সামনেই তিনি বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন। তারপর বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে যান। এই পরিস্থিতিতে উপস্থিত নেতৃত্ব হতভম্ব হয়ে পড়েন। কিংকর্তব্য বিমূঢ় হয়ে পড়ায় তাল কেটে যায় বৈঠকে। কিন্তু কী এমন ঘটল, যার জন্ এমন প্রতিক্রিয়া দিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, তা অবশ্য স্পষ্ট হয়নি।
ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে তিনি একটা তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন টুইটারে। টুইটে তিনি লেখেন- আজ আমার বিশ্বস হল তিস্তা মৃত্যু রহস্য নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। তারপর লেখেন- সরি, বিজেপি ফর বেঙ্গল। আমি আমার সামান্য সামর্থ্যে গৌরবের সঙ্গে আছি। এই টুইট করে তিনি বিজেপিকে অভিযুক্ত করেন। তবে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়ের এই টুইটের ফলে তাঁকে নিয়ে আবার জল্পনা বাড়ল কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে।
এর আগেও রূপা গঙ্গোপাধ্যায় টালিগঞ্জের নায়ক-নায়িকাদের মুড়ি-মুড়কির মতো দলের নেওয়ার বিরুদ্ধাচারণ করে ক্ষোভ উগরে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি তাঁদের ভোটের টিকিট দেওয়া নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। বিজেপিতে তিনি বিদ্রোহী বিধানসভা নির্বাচনের সময় থেকেই। এদিন কলকাতা পুরসভা ভোটের আগে তাঁকে সক্রিয় করতে গিয়ে ফের অস্বস্তি ডেকে আনল বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications