ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে নদী বাঁধ আতঙ্কে দিন গুজরান ঘোজাডাঙ্গায়
ঘূর্ণিঝড়ে ভেঙেছে নদী বাঁধ আতঙ্কে দিন গুজরান ঘোজাডাঙ্গায়
আমফানের তাণ্ডবে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নদী গর্ভে কংক্রিটের বাঁধ। ভরা কোটালের দুদিন আগে আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ইছামতির পাড়ের বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা পানিতরের বাসিন্দারা।

গত ১২ দিন আগেই আম্ফানের তান্ডব দেখেছে গোটা রাজ্য। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এই ঘোজাডাঙ্গা পানিতর সীমান্ত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আম্ফানের তাণ্ডবে। সীমান্তবর্তী ইটিন্ডা ফেরিঘাট থেকে পানিতর সীমান্ত পর্যন্ত ইচ্ছামতী নদীর ওপর প্রায় তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ নদীগর্ভে। পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি লেগেই আছে ইছামতি লাগোয়া পানিতার গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম।
মৎস্যজীবীদের তিনশতাধিক নৌকা ডুবলো ইচ্ছামতীর গর্ভে। বিপন্ন ৪০০০ মৎস্যজীবী পরিবারের প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ। লকডাউনের জন্য মজুদ করা চাল, ডাল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, বই এবং নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র আম্ফানের জেরে কেড়ে নিয়েছে ইছামতি নদী।
ওপারে বাংলাদেশ, এপারে ভারতবর্ষ। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতি নদী। কোটাল সময়ে ভয়ঙ্কর চেহারার নেয় এই ইছামতি। আমফানের সময় ও ভয়ঙ্কর রূপ দেখিয়েছে এই ইচ্ছামতী। তাই আগামী ৩ জুন ভরা কোটালের আগে আতঙ্কের সিঁদুরে মেঘ দেখছে সীমান্তের এই মৎস্যজীবী থেকে মৎস্যজীবীর পরিবার। সর্বহারা হয়েছেন তারা। এখনো ত্রান শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন পাঁচশতাধিক মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবী শারিফুল মন্ডল।
তারই উদ্যোগে চলছে এই দুর্গতদের দু'বেলা খাবারের বন্দোবস্ত। সবমিলিয়ে দুর্যোগের দিন থেকে যতদিন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়হীন এই মানুষদের পাশে থাকবেন বলে জানান তিনি। ২০শে মের সেই অভিশপ্ত রাতের কথা ভাবলে শিউরে উঠছেন গ্রামবাসীরা। সামনে ভরা কোটাল। তাই এখন নদীর দিকে তাকিয়ে রাত পাহারায় বসেছে ইছামতী পাড়ের মানুষেরা। নদীগর্ভে চলে যাওয়া তিন কিলোমিটার কংক্রিটের বাঁধ অবিলম্বে মেরামতি না হলে আরো বড় বিপদ।
জীবনের শেষ সম্বলটুকুও নদীগর্ভে চলে যাবে। ইতিমধ্যে ইছামতি নদীর জলে তিনটি গ্রাম জলবন্দি রয়েছে। নদীতে প্রায় ৩০০ নৌকা ডুবেছে। তেমনি নদীর পাড়ে থাকা নৌকাগুলি ঝড়ের তাণ্ডবে তছনছ হয়ে কঙ্কালসার চেহারা নিয়েছে। সবমিলিয়ে ইটিন্ডা পানিতার গ্রাম পঞ্চায়েতের তিনটি গ্রাম ইটিন্ডা, পানিতর, নাগরাজ পাড়া প্রহর গুনছে সামনে ভরা কোটালে আবার কি নতুন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়।












Click it and Unblock the Notifications