সন্দেশখালিতে মানবাধিকার লঙ্ঘন! কারা কারা দায়ী, বিস্ফোরক NHRC রিপোর্ট, সঙ্গে সুপারিশও
সন্দেশখালির সব ঘটনার তদন্তভার হাতে পেয়েছে সিবিআই। তারপরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তদন্তও শুরু করেছে। অন্যদিকে ইডিও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। এরই মধ্যে শনিবার জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সন্দেশখালিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে শিলমোহর দিয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বলেছে, সরকারি কর্মীদের অবহেলার কারণে এই ধরনের লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ওই রিপোর্ট রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং পুলিশের মহানির্দেশকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এব্যাপারে অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট আট সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনের তরফে ওয়েবসাইটে তদন্ত রিপোর্ট আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যেতে পারে গত ২১ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের ওপরে ভিত্তি করে তদন্তের কথা জানিয়েছিল। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, সন্দেশখালিতে নিরীহ মহিলারা হয়রানি ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই সময় সন্দেশখালিতে স্থানয় মহিলারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তরফে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলবের পাশাপাশি পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে একসদস্যের তদন্তকারী দল নিযুক্ত করা হয়েছিল।
রিপোর্টে যা প্রকাশিত হয়েছে
মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কথিত ব্যক্তিদের যোগসাজসে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বৈষম্যের কারণে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্প যেমন, বার্ধক্য পেনশন, এমজিএনআরইজিএ, রেশন, বাড়ি ও শৌচাগার তৈরিতে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সেখানে ভোটের অধিকার থেকে মঞ্চিত করার অভিযোগ গুরুতর।
অভিযোগ করতে বাধা
রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্থানীয় মানুষকে ভয় দেখিয়ে, বাধা দিয়ে তাদের অভিযোগ তুলে ধরতে বাধা গিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে নির্যাতিতদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ভয়ের পরিবেশ শুধু ভুক্তভোগীদের প্রভাবিত করে না, বরং শিশুদের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের ওপরে প্রভাব ফেলে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে রিপোর্টে।
উত্তর দেয়নি প্রশাসন
রিপোর্টে বলা হয়েছে, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের দল পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের কাছে তথ্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও, তা করা হয়নি।
কমিশনের সুপারিশ
- সন্দেশখালি নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে,
- সেখানে আইনের শাসন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থা পুনঃস্থাপন করতে হবে।
- সাক্ষীদের সুরক্ষা ও অভিযোগের প্রতিকার করতে হবে।
- যৌন অপরাধের শিকারদের কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের ব্যবস্্থা করতে হবে।
- জমির বৈধ মালিকদের জমি ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।
- কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
- এলাকায় বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
- জমিকে কৃষির উপযোগী করতে ব্যবস্থা নিতে হবে।
- সন্দেশখালি থানা এলাকা থেকে নিখোঁজ মহিলাদের নিয়ে মামলার তদন্ত শুরু করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications