বাঁধের জল ছাড়ার কারণে বন্যা পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে, ক্ষুব্ধ মমতা চিঠি দিলেন প্রধানমন্ত্রীকে

ঝাড়খণ্ড সরকারের অধীনে থাকা গালুডিতে কংসাবতী নদীর জল ছাড়ার কারণে পূর্ব মেদিনীপুরের গড়পুরুষোত্তমপুর, রানিহাটি, নন্দকুমার ও পাঁশকুড়া ব্লকে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। জলের তলায় চলে গিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর (১ এবং ২), গোপীবল্লভপুর (১ এবং ২) নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল, দাঁতন (১) এবং কেশিয়াড়ি ব্লকের বেশ কিছু এলাকা। মেদিনীপুরের পাশাপাশি হুগলি, হাওড়ার মানুষও প্রবলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিমবঙ্গের ২০ হাজার মানুষ
ঘূর্ণিঝড় পিলিন-এ প্রভাবে পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তন্ময় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রবিবার রাত থেকে হওয়া টানা বৃষ্টিতে ২০০০
বাড়ি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ১৫০০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলাসূত্রের খবর, রবিবার রাত থেকে রেকর্ড পরিমান বৃষ্টি হয়েছে জেলায়। বৃষ্টির পরিমান ১৬৫ মিলিমিটার । সরকারি
ত্রাণ ইতিমধ্যেই বন্যাকবলিত জেলাগুলিতে পাঠানো হয়েছে। জেলার ২০ জন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিককে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির অবস্থা সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট পাঠাতেও বলা হয়েছে।
রাজ্য সেচ দফতর আধিকারিকদের কথায়, বুধবার সকাল পর্যন্ত ডিভিসি ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়বে অনুমিত ছিল। কিন্তু দেখা যায়, এদিন সকাল সাতটার মধ্যেই ১.৬৩ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়া হয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত জল হুগলির পুরশুড়া ও খানাকুল ব্লক এবং হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ব্লককে প্লাবিত করবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়েই যেভাবে ডিভিসি ও ঝাড়খণ্ড সরকার যথেচ্ছভাবে জল ছাড়ছে তাতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই ক্ষোভের কথা জানিয়েই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন তিনি। রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নিজের বাড়িতে বৈঠকও করেন তিনি।
অন্যদিকে ডিভিসি কর্তাদের কথায়, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার কারণে মঙ্গলবার মাইথন থেকে ৩৫ হাজার কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় জল কমিশনের অনুমতি নিয়ে বুধবার সকালে মাইথন থেকে ২৭ হাজার কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে ৭০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications