শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার ‘বৈশাখী’তে, উত্থানের বার্তা দিলেন খোদ রত্না
শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকার ‘বৈশাখী’তে, উত্থানের বার্তা দিলেন রত্না
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে আর কোনও উত্থান দেখতে পাচ্ছেন না রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভনের উত্থানের সম্ভাবনা শেষ করে দিয়েছে এক সিদ্ধান্তই। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও তিনি গৃহবন্দি হয়ে গিয়েছেন। এদিকে তৃণমূলের পথও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছে শোভনের। এই পরিস্থিতিতে রত্না চট্টোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করলেন কেন এমন হল শোভনের পরিস্থিতি।

যতদিন শোভন ঘরে ছিলেন, সব ছিল
শোভন-জায়া রত্না মনে করেন, শোভন যতদিন ঘরে ছিলেন, তৃণমূলে ছিলেন, তাঁর কাছে ছিলেন, ততদিন শোভনের শুধু উত্থানই হয়েছে। শোভন যখন শুধুমাত্র একজন কাউন্সিলর, তখন আমাদের বিয়ে হয়েছিল। তারপর শোভন বরো চেয়ারম্যান হয়েছে, মেয়র পারিষদ হয়েছে, সর্বোপরি মেয়র হয়েছে। তিনটি দফতরের মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।

ঘর ছেড়ে সর্বহারা শোভন
শোভন যখন রত্নাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন তখনও তিনি মেয়র এবং তিন দফতরের মন্ত্রী। তারপর বৈশাখীর সময়ে একে একে সর্বহারা হয়ে গিয়েছেন শোভন। তিনি আর মেয়র নন। মন্ত্রীও নন। তিনি তৃণমূলেও নেই, বিজেপিতে থেকেও নেই। এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।

বিকল্প বেছে নিতে শুরু করেছে তৃণমূল
এখন তিনি খাতায় কলমে কাউন্সিলর এবং বিধায়কও কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস তাঁর জায়গায় বিকল্প ভাবতে শুরু করে দিয়েছে। যেমন ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর না হয়েও কাউন্সিলরের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন তিনি। তেমনই বেহালা পূর্ব কেন্দ্রেও শোভনের বিকল্প বেছে নিতে শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল।

শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশ্নে
শোভন বিজেপিতেও সক্রিয় হননি। বৈশাখী তাঁকে বিজেপিতে নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু তারপর দুজনেই বিজেপিতে ব্রাত্য হয়ে গিয়েছেন। বিজেপি শোভনকে চাইলেও বৈশাখীকে চাইছে না। তাই শোভনের কাছে ফের সেই দুটি পথ তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক পথে আছে বিজেপি, অন্য পথে বৈশাখী। তিনি কোন পথ বেছে নেবেন, তার উপরই নির্ভর করবে শোভনের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ।

তৃণমূলে এখনও শোভনের সম্ভাবনা!
রত্না স্থির করে দিয়েছেন, তৃণমূলে এখনও শোভনের সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা সম্ভব যদি তিনি আবার ঘরে ফিরে আসেন। একমাত্র ঘরে ফিরে এলেই তিনি ফের পুরনো সবকিছু ফিরে আসতে পারে। কিন্তু শোভনের এখন যে পরিস্থিতি তাতে কোনও উত্থানের পথ দেখতে পাচ্ছি না। শোভনের জন্য আমার আর আমার দজুই সন্তানের কম স্বার্থত্যাগ নেই। সেটা আর কে করবে!

বঙ্গে ফের মমতার সরকার, বার্তা রত্নার
এখানে উল্লেখ্য, শোভন চট্টোপাধ্যায় বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্ব হারিয়ে বিজেপিতে যোগদানের পর রত্না চট্টোপাধ্যায়ের উত্থান হয় বঙ্গ রাজনীতিতে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নি্র্দেশেই তিনি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওয়ার্ডের দায়িত্ব নেন। এখন তিনি শোভনের অভাব পূরণ করছেন ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর কাছে। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে দক্ষ রাজনীতিবিদের মতোই তিনি জানালেন, আরও একবার মমতার সরকার

শোভনের দলকে তীব্র কটাক্ষ রত্নার
শোভন এখন যে দলে রয়েছেন, সেই দলকে নিশানা করে রত্না বলেন, এখন বাংলার মমতাকে হারানোর মতো কোনও নেতা নেই বিজেপিতে। বিজেপির কোনও নেতার এখনও জন্ম হয়নি যে বাংলা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও নিশান মিটিয়ে দিতে পারেন। তাই ২০২১-এ বাংলার বুকে জিতবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। জিতবে তৃণমূল। আরও একবার মমতার সরকার আমাদের বাংলায়।












Click it and Unblock the Notifications