রাতারাতি ‘সেলিব্রেটি’ রানু, স্টেশনে ভবঘুরের গাওয়া গান ভাইরাল হতেই এল মুম্বইয়ের ডাক
রাতারাতি সেলিব্রেটি রানাঘাটের রানু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গান ভাইরাল হতেই ডাক এসেছে মুম্বইয়ের। তাই আর স্টেশনের প্লাটফর্মে ঘুরে ঘুরে গান নয়, বাড়িতেই তাঁর গান শুনতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
রাতারাতি সেলিব্রেটি রানাঘাটের রানু। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গান ভাইরাল হতেই ডাক এসেছে মুম্বইয়ের। তাই আর স্টেশনের প্লাটফর্মে ঘুরে ঘুরে গান নয়, বাড়িতেই তাঁর গান শুনতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অভাবের অনটনে যে গান এতদিন চাপা পড়েছিল, সেই গানেই এখন মাতোয়ারা দর্শককুল। সোশাল মিডিয়ায় লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে ভিউ।

সত্যিই তাঁর গানের গলা যে চমকে দেওয়ার মতোই। এতদিন তা চাপা পড়েছিল দারিদ্র্যের যুপকাষ্ঠে। সোশাল মিডিয়ায় একটা পোস্টই আমূল বদলে দিয়েছে তাঁর জীবন। একেবারে সাদামাটা। মুখ দেখলে বোঝার উপায় নেই কী প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে তাঁর ভিতরে। তাঁর গানের গলা যে মোহিত করে দিতে পারে সঙ্গীতপ্রেমীদের তা এতদিন বোঝেনি কেউ।
প্রায়ই আর্থিক দুরবস্থার মধ্যে দিনযাপন করা রানাঘাট স্টেশনের প্লাঠফর্মে বসে গান গায়। দু-চার পয়সা কেউ দিয়ে যান, তাতেই কোনওরকমে চলে পেট। সাতকুলে একমাত্রে মেয়ে ছাড়া তার কেউ নেই। মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সেই মেয়ের কথাও তিনি ভুলেছিলেন এতদিন। এতদিন পর মনে পড়েছে সব। আর গান ভাইরাল হতেই তাঁর বাড়িতে সাহায্যের আশ্বাস নিয়ে আসছেন বিডিও থেকে এসডিপি অনেকেই।
শুধু কি তাই, রানু হান শুনে ফোন আসছে সুদূর মুম্বই-দিল্লি থেকেও। মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের তরফে ফোন করে রানুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দিল্লির একটি সমাজসেবী সংস্থাও যোগাযোগ করছে রানুর সঙ্গে। প্রতিবেশী তপন দাসের ফোনে যোগাযোগ করছে সংস্থাগুলি। রানুর গান শোনার পর তাঁরা ব্যবহার করতে চাইছেন রানুর কণ্ঠ।
তাঁর পুরো নাম রানু মারিয়া মণ্ডল। নতুন যে সব যোগাযোগ এসেছে, তাতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি পরিচয়পত্র। তাঁর কোনও পরিচয়পত্র না থাকায় বিমানা বা দূরপাল্লার ট্রেনে টিকিট কাটা যাবে না। তবে বিডিও, এসডিপিও স্বয়ং উপস্থিত হওয়ায় সেই সমস্যা কেটে যাবে বলে আশাবাদী প্রতিবেশীরা।
এই সুখবরের মধ্যে রানুর কাছে একের পর এক অনুরোধ আসছে। আর রানু তাঁদের অনুরোধ রক্ষা করে সুরেলা কণ্ঠে গান গেয়ে চলেছেন এক এক করে। পেয়ার কা নাগমা হ্যায়, বন্দেমাতরম, মেরে বতন কি লোগো, আকাশ প্রদীর জ্বলে, সোনার বাংলা, ম্যায় ভুল গিয়ারে হরবাত- কোনও গানই তিনি বাদ দিচ্ছেন না। এক কলি করে অন্তত শোনাচ্ছেনই।
এরই মধ্যে তাঁর মেয়ের সঙ্গেও কথা হয়েছে। মেয়ের নাম স্বাতী রায়। তাঁর বাড়ি বীরভূমের সাঁইথিয়ায়। রানু বলেন, স্বাতীর সঙ্গে কথা হয়েছে। মেয়ে বলেছে, আমাকে দেখতে আসবে। তবে মাঝেমধ্যেই ভুলে যাচ্ছেন রানু। কোথায় বাড়ি মেয়ের পরক্ষণেই ভুলে গেলেন। তবে এত কিছুর পরও রানু মেয়ের অপেক্ষায় রয়েছে, কবে আসে মেয়ে, তাঁর সঙ্গে দেখা করে যায়।
মেয়েকে একবার দেখতে মুখিয়ে আছেন রানু। চার বছর দেখা সাক্ষাৎ নেই। তাই খুব দেখতে ইচ্ছা করছে মেয়েকে। রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া রানুর পা কিন্তু মাটিতেই রয়েছে। তাই কারও অনুরোধ-উপরোধ ফেলছেন না, দর্শকদের মন ভরিয়ে দিচ্ছেন গানে গানে। তাঁর গান রেকর্ড করে নিয়ে যাচ্ছেন সবাই।












Click it and Unblock the Notifications