বউ থেকেও অন্য মহিলাকে ধর্ষণ কাউন্সিলরের! গর্ভবতী তরুণী...জন্মাল সন্তান, হইচই কাণ্ড বাংলায়
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বদনাম দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। দুর্নীতি থেকে তোলাবাজি, খুন থেকে ধর্ষণ সবেতেই নাম জড়াচ্ছে তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী ও কর্মীদের। আবারও এক তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বীরভূমের রামপুরহাটে। ধর্ষণের ফলে ওই তরুণী গর্ভবতী হওয়ার অভিযোগও সামনে উঠে এসেছে। ওই তরুণী রামপুরহাট পুরসভার 8 নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ২০১৫ সালে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত এক বিষয় জানার জন্য অফিসে গিয়ে কাউন্সিলর প্রিয়নাথ সাউয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় ওই তরুণীর। অভিযোগ অনুসারে, ভোটার কার্ড তৈরিতে সাহায্যের নাম করে বহুবার তরুণীকে বিভিন্ন জায়গায় ডেকে পাঠান কাউন্সিলর প্রিয়নাথ সাউ। বহুবার যাতায়াতের সুযোগে দুজনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এমনকি ওই তরুণী সন্তানের জন্মও দেন বলে দাবি। সেই অভিযোগ ও দাবি ঘিরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আশেপাশে। অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কিন্তু এতকিছুর পরেও অভিযুক্ত কাউন্সিলর দলীয় বৈঠকে যোগ দিয়েছেন বলেও অভিযোগ।

তরুণীর অভিযোগ অনুসারে, কাউন্সিলর প্রিয়নাথ সাউ তার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন। এমনকি সেই বিয়ের কথা তরুণীর মা-বাবা জানার পরে তাঁরাও সম্মতি জানান। প্রিয়নাথ জানিয়েছিলেন তিনি অবিবাহিত। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরে অভিযুক্ত কাউন্সিলর দিনের পর দিন তরুণীর সঙ্গে সহবাস করেন। বছর পাঁচেক পর তরুণীর বাড়ি থেকে বিয়ের জন্য জোর করলে প্রিয়নাথ সাউ বিয়েতে অস্বীকার করেন। সেসময় প্রিয়নাথ জানান, তাঁর স্ত্রী ও একটি পুত্র রয়েছে। তারপর ওই তরুণী কাউন্সিলরের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দিলে প্রিয়নাথ নিজেকে প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচয় দিয়ে তরুণীর পরিবারকে খুনের হুমকি দিয়ে সহবাস চালিয়ে যান বলে অভিযোগ।
কোনোরকম উপায় না পেয়ে তরুণীর পরিবার বাধ্য হয়েই মেয়ের অন্য জায়গায় বিয়ে দিয়ে দেয়। কিন্তু, তারপরেও নাকি ওই অভিযুক্ত কাউন্সিলর তরুণীর পিছু ছাড়েননি। অভিযোগ অনুসারে, তরুণীর স্বামীকে তাঁদের সহবাসের সম্পর্কের কথা জানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সহবাস করেছেন তিনি। ২০২২ সালে অক্টোবর মাসে ওই তরুণী পুত্র সন্তানেরর জন্ম দেওয়ার পরেই তরুণীর স্বামী তাঁর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান। বর্তমানে ডিভোর্সের মামলা চলছে তাদের। তারপরও অভিযুক্ত কাউন্সিলর তরুণীর সঙ্গে সহবাস করে চলেছেন বলে অভিযোগ। নিজের প্রভাব খাটিয়ে খুনের হুমকিতে ভয় পেয়ে কাউন্সিলরের কথা মতোই সহবাসে রাজি হন তরুণী। কিন্তু, দিনের পর দিন অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বুধবার সকালে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী।
যদিও ওই তরুণীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর প্রিয়নাথ সাউ। তিনি বলেছেন, এরকম অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই এরকম অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
রামপুরহাট থানার সূত্রে খবর, তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তরুণীকে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রামপুরহাট ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications