তিনঘন্টারও বেশি তল্লাশি শেষে গ্রেফতার রাকেশ সিংয়ের দুই ছেলে
তিনঘন্টারও বেশি তল্লাশি শেষে গ্রেফতার রাকেশ সিংয়ের দুই ছেলে
প্রায় তিন ঘন্টা তল্লাশি চলার পর গ্রেফতার রাকেশ সিংয়ের দুই ছেলে। ছোট এবং বড় দুই ছেলেকেই গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাকেশ সিংয়ের মেয়ে। তাঁর দাবি, পুলিশ দুই ভাইকে কিডন্যাপ করে নিয়ে গিয়েছে। এই বিষয়ে তাঁদের কিংবা তাঁর মাকেও কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রাকেশ সিংয়ের মেয়ে।

তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ
কোকেন-কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার সকালে জেরার জন্যে ডেকে পাঠানো হয় রাকেশ সিংকে। কিন্তু তা এড়িয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। হাইকোর্টে রাকেশ থাকাকালীন তাঁর আলিপুরের বাড়ি ঘিরে ফেলে কলকাতা পুলিশ। প্রথমে সিআইএসএফ তাঁদের বাড়ির ভিতরে ঢুকতে বাধা দেয়। এরপর সামনে আসেন রাকেশ-পুত্র। পুলিশ আধিকারিকদের ভিতরে ঢুকতে তিনি বাধা দেন বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, পুলিশের কাছে যথাযথ নথি নেই। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বচসা। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। প্রায় কয়েক ঘন্টা ধরে চলে বচসা। শেষে বিকেল পাঁচটা নাগাদ বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয় তদন্তকারীদের।

গোটা বাড়ি তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা আধিকারিকরা
দীর্ঘ বচসার পর রাকেশের দুই ছেলে তাঁদের বাড়িতে ঢোকার অনুমতি দেয়। বিকেল ৫ টায় অবশেষে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন আধিকারিকরা। দীর্ঘ কয়েক ঘন্টা ধরে চলে তল্লাশি অভিযান। গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করে খোঁজেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপর তল্লাশি শেষে রাত আটটা নাগাদ রাকেশ সিংয়ের বাড়ি থেকে বের হন পুলিশ আধিকারিকরা। সেই সময় জোর করেই রাকেশের দুই ছেলে সাহেব ও শুভমকেও ধরে নিয়ে যান তদন্তকারীরা। কিন্তু কেন তাঁদের আটক করা হয় সে বিষয়ে কিছুই জানাননা পুলিশ আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের তরফে জানানো হয়েছে, কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগেই আটক করা হয়েছে এই দুই যুবককে। যদিও পরে গ্রেফতার দেখানো হয় তাঁদের।

এরপরেই রাকেশ সিংয়েরও গ্রেফতারের খবর সামনে আসে
মঙ্গলবার সকালে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয় রাকেশ সিংকে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। রক্ষাকবচ চান আদালতের কাছে। কিন্তু দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত তা খারিজ করে দেয়। এরপর থেকেই রাকেশ সিংয়ের আর খোঁজ পাওয়া যায় না। সুইচ অফ পাওয়া যায় তাঁর ফোনও। ততক্ষণে বিজেপি নেতার বাড়ি ঘিরে ফেলে পুলিশও। একেবারে টানটান উত্তেজনা। বিজেপি নেতার খোঁজে শুরু হয় জোর তল্লাশি। বিভিন্ন জায়গায় রাকেশের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি। জেলা প্রশাসনকেও এই বিষয়ে অবহিত করা হয়। সুইচ অফ থাকলেও ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করার চেষ্টা চলে। জানা যায়, বর্ধমান লোকেশনে শেষ টাওয়ার দেখাচ্ছে রাকেশ সিংয়ের। বর্ধমান জেলা পুলিশকে দেওয়া তথ্য। সূত্রের খবর, এরপরেই বর্ধমানের বিভিন্ন অংশে শুরু হয় তল্লাশি। হাইওয়েতেও চলে তল্লাশি অভিযান। আর তা চলার সময় দেখা যায় সিআরপিএফ রয়েছে একটি গাড়ি আসতে। সেটিকে থামিয়ে তল্লাশি চালাতেই খোঁজ পাওয়া যায় বিজেপি নেতার। এরপরেই কলকাতা পুলিশকে এই বিষয়ে জানানো হয়।












Click it and Unblock the Notifications