Rajya Sabha Election 2023: নজরে রাজবংশী ভোট! বিজেপির রাজ্যসভার প্রার্থী অনন্ত মহারাজ আসলে কে?
Rajya Sabha Election 2023: বাংলা থেকে অনন্ত রায় মহারাজকে প্রার্থী করেছে বিজেপি! ইতিমধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে 'গ্রেটার কোচবিহার' আন্দোলনের এই নেতা। বছর ঘুরলেই লোকসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের আগে অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠানোটা বিজেপির মাস্টারস্ট্রোক হিসাবেই দেখা হচ্ছে।
লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরে বঙ্গ বিজেপির রাশ থাকলেও সময়ের সঙ্গে তা হালকা হচ্ছে! একের পর এক নির্বাচনে তা স্পষ্ট। আর এই পরিস্থিতিতে রাজবংশী সমাজের নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী করাটা রাজনৈতিক ভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। পাশাপাশি রাজবংশী ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতেই বিজেপির এহেন সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কিন্তু কে এই অনন্ত মহারাজ?
রাজবংশী সমাজের নেতা অনন্ত মহারাজ। নব্বই দশকের শেষদিকে হঠাত করে উত্তাল হয়ে ওঠে কোচবিহার। উত্তরবঙ্গ ভাগের আন্দোলন ব্যাপক আকার নেয়। একদিকে কামতাপুর লিবারেশন অর্জানাইজেশন ( কেএলও) করে একেবারে জঙ্গি আন্দোলন শুরু করেন জীবন সিং। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক ভাবেও আন্দোলন শুরু হয়। আর তাতে কেপিপি নেতা অতুল রায়ের মতো একাধিক নেতারা যোগ দেন। আর এর মধ্যেই মাথাচাড়া দেয় কোচবিহারের ভারতভুক্তি চুক্তি রূপায়ণের দাবি
আর এই দাবিতে তৈরি হয় গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশন (জিসিপিএ)। অনন্ত রায় (মহারাজ), বংশীবদন বর্মণরা এই আন্দোলন শুরু করেন। কোচবিহার সহ উত্তরবঙ্গের বড় একটা অংশ জুড়ে রাজবংশী মানুষের বসবাস। কোচবিহারের ভারতভুক্তি চুক্তি রূপায়ণের দাবিতে সেই সমস্ত মানুষকে পাশে পান অনন্ত রায় (মহারাজ), বংশীবদন বর্মণরা। যদিও অনন্ত রায় সেই সময় অতটা সামনে আসেননি। কিন্তু এই আন্দোলন ব্যাপক আকার নিয়েছিল।
কি নিয়ে ছিল আন্দোলন?
সংগঠনের মূল দাবি ছিল, ১৯৪৯ সালে কোচবিহারের রাজা ভারতভূক্তির যে চুক্তি করেছিলেন সেটা মানা হয়নি। ভারত সরকার কোচবিহারকে জেলা করে রেখেছে। কিন্তু এটা আলাদা রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করতে হবে।
তাঁর এলাকা শুধু কোচবিহার জেলা নয়, নরনারায়ণ রাজা থাকাকালীন রাজ্যের যে আয়তন ছিল, সেটাই ফেরাতে চায় জিসিপিএ। সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের করতোয়া নদী থেকে অসমের বেশ কিছু অংশ নিয়ে গ্রেটার কোচবিহারের দাবিদার তারা। জিসিপিএ-র অনন্ত গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগও অনেক
সংগঠনেও ভাঙন ধরে
তবে সময়ের সঙ্গে এই আন্দোলনের তেজ দেখা যায় না। এমনকি সংগঠনেও ভাঙন ধরে। অনন্ত রায় (মহারাজ), বংশীবদন বর্মণরা একসঙ্গে আন্দোলন শুরু করলেও দুজনের সম্পর্কও ভেঙে যায়। দু'জন দুই মেরুতে চলে যান। কোচবিহারের একাধিক সংগঠন ধীরে ধীরে মাথা তুলে দাঁড়ায়।
রাজবংশী মানুষের উপর বড় প্রভাব
তৈরি হয় গ্রেটার কোচবিহার ডেমোক্রেটিক পার্টি। যদিও আজও অনন্ত মহারাজের একটা দাপট রয়েছে উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী মানুষের উপর বড় প্রভাব রয়েছে মহারাজের। আর সেই প্রভাবকে কাজে লাগতেই বিজেপির এহেন কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications