রাজীব-শতাব্দী কি একই পথে এগোচ্ছেন! কোন ইস্যুতে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে
রাজীব-শতাব্দী কি একই পথে এগোচ্ছেন! কোন ইস্যুতে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে
একুশের ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই বাংলার রাজনীতিতে দলবদল প্রকট হতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে বীরভূমের মাটিতে বোলপুরের পদযাত্রায় মমতার পাশে যে শতাব্দী রায়কে দেখা গিয়েছিল, সেই শতাব্দী রায়ই এদিন 'বেসুরো' পোস্টে পারদ চড়িয়েছেন। এদিকে, ইতিমধ্যেই তৃণমূলে অস্বস্তিতে ধরিয়েছেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই দুই নেতা নেত্রী কেন হঠাৎ জল্পনা শুরু হয়েছে তা দেখা যাক।

বীরভূমের আঙিনা ও শতাব্দী
এদিন শতাব্দী রায়ের পোস্টে একটি উল্লেখযোগ্য
লাইন ছিল, ' ইদানিং অনেকে আমাকে প্রশ্ন করছেন কেন আমাকে বহু কর্মসূচিতে দেখা যাচ্ছে না। আমি তাঁদের বলছি যে আমি সর্বত্র যেতে চাই। আপনাদের সঙ্গে থাকতে আমার ভালো লাগে। কিন্তু মনে হয় কেউ কেউ চায় না আমি আপনাদের কাছে যাই। বহু কর্মসূচির খবর আমাকে দেওয়া হয় না। ' প্রশ্ন উঠতে থাকে, তাঁর এই 'কেউ কেউ চায়না ' মন্তব্যে কি রাঢ় বাংলার কোনও দোর্দণ্ডপ্রতাব তৃণমূল নেতাকেই শতাব্দী ইঙ্গিত করছেন? সেক্ষেত্রে কানাঘুষো শোনা যায়, শতাব্দীর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের দূরত্বের। যার বীরভূমের মাটিতে বহু জায়গায় অস্বস্তিতে ফেলেছে দলকে বলে সূত্রের দাবি।

মমতার সঙ্গে হেঁটে শতাব্দীর মিছিল ও তৃণমূল
এদিকে, শতাব্দী রায়ের এমন পোস্টে কার্যত হতভম্ব তৃণমূল। সৌগত রায় নিজের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, 'দলের কর্মসূচিতে শতাব্দীকে ডাকা হয়না বলছেন...কিন্তু মমতার সঙ্গে সেদিনও তো বীরভূমের পদযাত্রায় শতাব্দী ছিলেন।' বীরভূমে মমতার পাশে থাকার পর পরই শতাব্দীর এমন বার্তা কার্যত তৃণমূলে নাড়া দিয়েছে। এবার বীরভূমের সাংসদকে নিয়ে ড্যামেজ কন্ট্রোলে ফের বৈঠকে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল।

রাজীব ইস্যু ও তৃণমূল
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একাধিক পোস্টার থেকেই তৃণমূলে অস্বস্তির সূত্রপাত। একটা সময়ে প্রতীকহীন পোস্টারে শুভেন্দু, রাজীব পাশাপাশি উঠে আসতেই দলের অন্দরে অস্বস্তি বাড়ে। পরবর্তীকালে শুভেন্দু বিজেপিতে যোগদান করেন।
রাজীবের সঙ্গে তৃণমূল নেতারা বসে বৈঠকের পর রাজীব জানান তিনি দলের সঙ্গেই আছেন। এরপর যেদিন হাওড়ার বিধায়ক লক্ষ্মীরতন তৃণমূল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান, মন্ত্রিত্ব ছাড়েন, সেই দিনই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজীব অনুপস্থিত ছিলেন। এই নিয়ে পর পর ২ টি বৈঠকে রাজীব অনুপস্থিত ছিলেন। যা তৃণমূলকে স্বস্তি দেয়নি।

বেসুরোরা জোট গড়ছেন!
হাওড়ায় কার্যত তৃণমূলের অন্দরে ব্যারক ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে বহুদিন ধরেই। যে হাওড়ার কো অর্ডিনেটর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
এর আগে, লক্ষ্মীরতন শুক্লার পদত্যাগের দিন হাওড়ার প্রাক্তন মেয়র রথীন চক্রবর্তী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে বলেন, হাওড়ায় সংগঠনের কোনও শৃঙ্খলা নেই। কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। সেকারণেই লক্ষ্মীরতন শুক্লা পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছিলেন রথীন। সেই রথীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই পরে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘক্ষণ বৈঠক নিয়েও হাওড়ার জেলা তৃণমূলে বিস্তর আলোচনা হয়। এই প্রসঙ্গে নানান অভিযোগও তোলেন সুভাষ রায়।

ফোকাসে ১৬, রাজীব-শতাব্দী কি একই পথে!
একজন বিধায়ক ও একজন সাংসদ। তবে শতাব্দী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ঘিরে একযোগে জল্পনা শুরু হয়েছে ১৬ জানুয়ারি তারিখকে ঘিরে। শতাব্দী জানিয়েছেন, 'যদি কোনও সিদ্ধান্ত নিই আগামী ১৬ জানুয়ারি ২০২১শনিবার দুপুর ২ টোয় জানাব'। অন্যদিকে, এই একই দিনে অর্থাৎ ১৬ জানুয়ারি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফেসবুক লাইভে আসবেন বলে জানিয়েছেন। সময়টা দুপুর ৩ টে। সেই তথ্য তিনিও এক ফেসবুক পোস্টে জানান। ফলে, দুই নেতা নেত্রীর আগামী পদক্ষেপের যোগসূত্র ১৬ জানুয়ারি হতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এবার এই তারিখের দিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।












Click it and Unblock the Notifications