তৃণমূলে ঘর ওয়াপসির পরও বিজেপিতে রাজীব! ৭ মাসেও কাটল না ৯ মাসের ‘মায়াজাল’
তৃণমূলে ঘর ওয়াপসির পরও বিজেপিতে রাজীব! ৭ মাসেও কাটল না ৯ মাসের ‘মায়াজাল’
তৃণমূলের ঘরের ছেলে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সেই কবে ঘরে ফিরেছেন। নয় নয় করে সাত মাস হল তিনি তৃণমূলে ফিরে ত্রিপুরার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অথচ এখনও তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি গেরুয়া শিবিরে। গেরুয়া শিবির রাজীবের মায়া কাটাতে পারেনি আজও। তাই তিনি বাদ পড়েননি বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে।

রাজীব তৃণমূলে যোগ দিয়েও বিজেপিতে!
তৃণমূলের যোগদানের সাত মাস পরও বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য রয়ে গিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। গেরুয়া শিবিরের ওয়েবসাইটে জ্বলজ্বল করছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। জাতীয় কর্মসমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজন তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতার নাম সাত মাস রয়ে গেল, তাই অবিশ্বাস্য সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে বিজেপির মতো সংগঠিত একটা দলের ক্ষেত্রে।

রাজীবের নাম বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতিতে
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ফোন নম্বর রয়েছে জলপাইগুড়ির সাংসদ জয়ন্তকুমার রায় ও বালুরঘাটের বিধায়ক অশোক লাহিড়ীর নামের মাঝখানে। যে জাতীয় কর্মসমিতিতে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহের মতো নেতারা, সেখানে বিজেপির সদস্য হিসেবে নাম থাকা গৌরবের বলে মনে করেন নেতারা। কিন্তু সেখানে দলত্যাগী এক নেতার নাম সাত মাসাবধি কাল রয়ে গেল কী করে, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।

২০২১-এর নির্বাচনের পর থেকেই রাজীব তৃণমূলমুখী
২০২১-এর নির্বাচনের পর থেকেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। তিনি ভোটে হেরে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছিলেন। তৃণমূলের সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ রেখে চলতে শুরু করেছিলেন তারপর থেকেই। শেষে ২০২১-এর ৩১ অক্টোবর ত্রিপুরার গিয়ে তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তৃণমূলের পতাকা তুলে নেন। ফের শামিল হন তৃণমূল পরিবারে।

চাটার্ড ফ্লাইটে বিজেপিতে, পতাকা তুলে দেন অমিত শাহ
তারপরও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় রয়ে গিয়েছেন বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতিতে। রাজীব বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে। ২০২১-এর ৩০ জানুয়ারি চাটার্ড ফ্লাইটে দিল্লি উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে অমিত শাহ তাঁকে বিজেপিতে শামিল করেন। তার পরদিন হাওড়ার ডুমুরজোলায় একটি অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে বিজেপির পতাকা তুলে দেন অমিত শাহ।

চার মাস বিজেপি, পাঁচ মাস তৃণমূল রাজীব
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বুকে নিয়ে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপিতে। স্বপ্ন ছিল বিজেপি বিধায়ক হয়ে বাংলার রাজনীতিতে গুরুত্বশালী হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন সফল হয়নি। তিনি বিধানসভা নির্বাচনে হেরে ফের তৃণমূলমুখী হতে শুরু করেন। মাত্র চার মাস বিজেপিতে ছিলেন বিজেপি নেতা হিসেবে। তারপর বাকি যে পাঁচমাস তিনি ছিলেন, তাঁর বিজেপিতে থাকা তৃণমূলমনস্ক হয়ে।

২০২১-এর অক্টোবরে ফের পাকাপাকি তৃণমূলে
তিনি তৃণমূলে ফেরার পথে পা বাড়িয়ে দেওয়ার পরই তাঁকে স্থান দেওয়া হয়েছিল বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতিতে। সেই থেকেই রাজীব রয়ে গিয়েছেন বিজেপির জাতীয় কর্ম সমিতির সদস্য হিসেবে। তারপর ২০২১-এর অক্টোবরে তিনি ফেরেন তৃণমূলে। ফেরার পর সাত মাস কেটে গিয়েছে, এখনও তিনি বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য হিসেবে রয়ে গিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications