রাজীবের ত্রিপুরায় পা অভিষেকের সফরের আগেই! অন্দরে চলছে কোন সমীকরণ, জল্পনা
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফরের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছে। অভিষেকের আগেই ত্রিপুরায় পৌঁছে গিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফরের আগে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে বিস্তর জল্পনা তৈরি হয়েছে। অভিষেকের আগেই ত্রিপুরায় পৌঁছে গিয়েছেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই ত্রিপুরা-সফর নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে কি এতদিন পা বাড়িয়ে থাকা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এন্ট্রি হয়ে গেল তৃণমূলে? নাকি এর মধ্যে রয়েছে অন্য কোনও খেলা?

দলবদলের বাজারে যাঁর নাম নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা
মুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফিরে আসার পর দলবদলের বাজারে যাঁর নাম নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা হয়েছে, তিনি হলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেও তৃণমূলের কাছাকাছি আসার বহু চেষ্টা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বন্দনা তো করেছেনই, অনেকের সঙ্গেই যোগাযোগ রেখেছেন। কিন্তু তৃণমূলে ফেরা হয়নি নিচুতলার নেতৃত্বের অসন্তোষে।

সব্যসাচী দত্তও ফিরলেন, রাজীব কি দোষ করলেন?
সম্প্রতি তৃণমূলে ফিরেছেন দলবদলু অনেকেই। এমনকী তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া অনেকেও। রয়েছেন বিজেপির বিধায়ক, নেতা-নেত্রীরাও। বিজেপির প্রার্থী হয়ে হেরে বসা প্রাক্তন তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তও ফিরে এসেছেন তৃণমূলে। তাহলে রাজীব কি দোষ করলেন? হঠাৎ করে তাঁর এই ত্রিপুরা সফর কিন্তু আলাদাভাবে ভাবাচ্ছে রাজনৈতিক মহলকে।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফরে জল্পনা
৩১ অক্টোবর রবিবার আগরতলায় জনসভা করবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনের মাসে পুরসভা ভোট ত্রিপুরায়। ফলে জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল, বিজেপি-সহ সমস্ত রাজনৈতিক দলই। এই অবস্থায় অভিষেকের সফরের আগে বাংলা থেকে তৃণমূলে পা বাড়িয়ে রাখা বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ত্রিপুরা সফর জল্পনার পারদ বাড়িয়েছে।

রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় কি ত্রিপুরা থেকেই তৃণমূলে যোগ দেবেন?
তবে কি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরা থেকেই তৃণমূলে যোগ দেবেন? রাজীব নিজে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন। রাজীব জানান, ত্রিপুরায় তাঁর অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। একটা সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছি। ব্যক্তিগত কাজেই এই সফর আমার। এর আগেও ত্রিপুরায় গিয়েছিলেন রাজীব। সেবার ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়।

রাজীবের ইমেজ অনেক দলবদলুর থেকে ভালো
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আগেও ত্রিপুরায় কাজ করেছেন। তৃণমূলের সম্প্রসারণের কাজ করে গিয়েছেন ২০১৬ সালের পরে। এখন তিনি তৃণমূল থেকে দূরে, বিজেপি নেতা তিনি এখনও। এখন অভিষেকের আগে রাজীবের সফর নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজীবের ইমেজ অনেক দলবদলুর থেকে ভালো। তাই তাঁকে ফিরিয়ে নেওয়ার পথ খোলাই রয়েছে।

আবারও রাজীবের দলবদল নিয়ে গুঞ্জন উঠল রাজ্য রাজনীতিতে
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ছেড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি বুকে নিয়ে। নিজে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও আক্রমণ শানাননি বিজেপিতে গিয়েও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করার পরই তিনি মুখ খুলেছিলেন। ভোটের পর থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় বারবার পঞ্চমুখ হয়েছেন। আর একইভাবে তিনি সমালোচনা করে গিয়েছেন বিজেপির। ফলে তাঁর তৃণমূলে ফেরা নিয়ে বারেবারেই জল্পনা তৈরি হয়েছে। আবারও সেই গুঞ্জন উঠল রাজ্য রাজনীতিতে।

তৃণমূলে ফিরতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন রাজীব
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগেও তৃণমূলে ফিরতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। গিয়েছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বাড়িতে। দীর্ঘক্ষণ আলাপচারিতার পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছিলেন। পুরো সম্পর্কের জেরেই এই সাক্ষাৎ বলে ব্যাখ্যা করেছিলেন তিনি। এছাড়া তৃণমূল মহাসচিব পার্ত চট্টোপাধ্যায়ের মায়ের মৃত্যুর পর তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া, কিংবা মুকুল রায়ের পত্নীবিয়োগের পর রাজীবের সাক্ষাৎপর্ব নিয়েও জল্পনার পারদ চড়ে।

ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূল বিরোধিতা করেননি রাজীব
রাজীবের মুখে ভোট পরবর্তী সময়ে কোনও তৃণমূল বিরোধিতা শোনা যায়নি। উল্টে তিনি বিজেপির কঠোর সমালোচনা করে গিয়েছেন। এমনকী তৃণমূল সুপ্রিমোকে বারবার নিশানা করা যে বিজেপির ভুল হয়েছে, তাও তিনি তুলে ধরেন টুইট বার্তায়। এছাড়া তিনি শুভেন্দু অধিকারীর সমালোচনাও করেন তৃণমূলকে ধর্মের ভিত্তিতে নিশানা ও সিবিআই-ইডি দেখানো প্রসঙ্গে।

বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির আমন্ত্রিত সদস্য রাজীব
এরপর অবশ্য বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির আমন্ত্রিত সদস্যদের মধ্যে রাজীবের নাম দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই আবার রাজীবকে নিয়ে উল্টো জল্পনাও শুরু হয়ে যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি তৃণমূলে ঘরওয়াপসি নিয়ে বার্তা দেন, সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া হবে কর্মীদের।

দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর চেষ্টা রাজনৈতিক মহলের
কর্মীদের অসন্তোষ থাকলে নেতাদের দলে ফেরানো হবে না। এ প্রসঙ্গে তিনি কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পা ধরে জানান। তিনি বলেন, কর্মীরা অনুমতি দিলেই প্রায়শ্চিত্ত করে ফিরতে পারেন তৃণমূল নেতারা। এখন সেই রাজীব ত্রিপুরা সফরে যেতেই দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর চেষ্টা রাজনৈতিক মহলের।












Click it and Unblock the Notifications