উত্তরবঙ্গে প্রায় স্বাভাবিক হলেও অনেকটাই কম বৃষ্টিপাত দক্ষিণবঙ্গে! কলকাতার পরিস্থিতি আরও খারাপ
চারমাসের বর্ষাকালের তিম মাস কার্যত শেষ। বাকি রয়েছে আর এক মাস। সারা দেশের সঙ্গে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে এই রাজ্যেও বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গে। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে তার থেকেও কম। দক্ষিণবঙ্গ তথা কলকাতায় বৃষ্টিপাতের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা এবারের মতো পূরণ করা সম্ভবপর হবে না বলেই মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের থেকে কম হওয়ায় প্রভাব চাষীর ওপর পড়তে শুরু করেছে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে নদীগুলি এই মুহূর্তে শুকনো। বাকি আট থেকে নটা মাস কীভাবে চলছে তা চিন্তাই করতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা।

আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এবার উত্তরবঙ্গে স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেও, সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি প্রায় ২৬ শতাংশের মতো। কলকাতায় এই ঘাটতির পরিমাণ আরও বেশি। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ২৮ শতাংশের মতো বলে জানানো হয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে।
বৃষ্টি কম হওয়ায় কলকাতার যেসব জায়গায় একটু বৃষ্টিতেই জল জমে সেইসব এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তিতে, স্বস্তিতে পুরসভাও। কিন্তু অস্বস্তির বাতাবরণ দক্ষিণবঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষরকদের মধ্যে। অনেক জায়গাতেই বর্ষার ধানের পরিবর্তে কৃষকরা ঝুঁকেছেন অন্য ফসলের দিকে।

পশ্চিমবঙ্গে তথা দক্ষিণবঙ্গে যেমন এবার কম বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা হয়েছে ঝাড়খণ্ড, বিহার-সহ অন্য রাজ্যগুলিতেও। ঝাড়খণ্ডে ৩৮ শতাংশ, বিহারে ২৭ শতাংশ, উত্তর প্রদেশে ৩০ শতাংশ, পশ্চিম মধ্যপ্রদেশে ২১ শতাংশ, মধ্য মহারাষ্ট্রে ২৪ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। কম বৃষ্টিপাতের তালিকায় রয়েছে কেরলও।
কম বৃষ্টিপাতের প্রভাব শুরু ধান চাষেই নয়, আখ, ডাল, সোয়াবিন ও সবজির উৎপাদনের ওপরে প্রভাব ফেলতে পারে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের একটা অংশ আবার একমাস সময়ের মধ্যে ঘাটতির বৃষ্টিপাত কিছুটা পূরণে আশাবাদী। শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত ঘাটতির কিছুটা পূরণ করে গড় বৃষ্টিপাতের ৯৬ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।












Click it and Unblock the Notifications