রাহুলকে এক কাপ চা দিতে ‘নারাজ’ দোকানদাররা, নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে তাজ্জব কর্মীরা
হাওড়ার উলুবেডিয়া লোকসভা কেন্দ্রের উদয়নারায়ণপুরের রাজাপুরে একটার পর একটা দোকানে গিয়েও এক কাপ চা পাননি নেতার জন্য। ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছে বিজেপি কর্মীদের।
প্রচণ্ড ব্যস্ততা। নির্বাচনী প্রচারে অতটা রাস্তা হেঁটে বেশ ক্লান্তও হয়ে পড়েছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা। তাই কর্মীদের কাছে আবদার করেছিলেন এক কাপ চায়ের জন্য। আর নেতার জন্য এক কাপ চায়ের ব্যবস্থা করতে গিয়েই মস্ত ফাঁপরে পড়েন বিজেপি কর্মীরা। হাওড়ার উলুবেডিয়া লোকসভা কেন্দ্রের উদয়নারায়ণপুরের রাজাপুরে একটার পর একটা দোকানে গিয়েও এক কাপ চা পাননি নেতার জন্য। ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁদের।

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহার অভিযোগ, সন্ত্রাসের ভয়ে কেউ এক কাপ চা দিতে চাননি। তাঁরা চা দিতে চাননি শুধু ভয়ে, সন্ত্রাসের আতঙ্কে। বিজেপি নেতার জন্য চা গেলে যে দোকানদানিই পাটে উঠবে, অভিযোগ রাহুলবাবুর। কে আর বিজেপি নেতাকে এক কাপ চা খাওয়ানোর জন্য রুটি-রুজি মার খাওয়ায় চায়! তাই চা না খেয়েই ফিরতে হয়েছে তাঁদের।
তিনি আরও বলেন, 'সবাই করজোড়ে জানিয়েছেন, আমাদের মাপ করবেন, চা দিতে বলবেন না। আমরা চা দিতে পারব না।
আমরা চাই আপনাদের চা খাওয়াতে। চা খাওয়াতে পারছি না এ জন্য আমরা দুঃখিত। আমাদের হাত-পা বাঁধা।' রাহুলবাবু দাবি করেন, এরপর উদয়নারায়ণপুর ছেড়ে এসে আমতা বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে একটি দোকানে এসে তাঁরা তেষ্টা নিবারণ করেন।
এদিন তিনি তৃণমূলের আমলে এই বাস্তবচিত্রের সম্মুখীন হন বলে দাবি মুকুল রায়ের। চা দোকানে দাঁড়িয়ে দলীয় প্রার্থী অনুপম মল্লিককে নিয়ে চা খেতে খেতে রাহুল সিনহা তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ করেন। বলেন, 'এই সন্ত্রাসের বাতাবরণ থেকেই উলুবেড়িয়াকে মুক্ত করতে হবে। তার জন্যই দরকার সব ভয় দূরে সরিয়ে বিজেপি প্রার্থী জয়যুক্ত করা।' তিনি বলেন, 'একমাত্র বিজেপিই পারে রাজ্যকে সুশাসন দিতে।'

এদিন হাওড়ার উলুবেডিয়া লোকসভা কেন্দ্রের উদয়নারায়ণপুরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে পদযাত্রা করেন রাহুল সিনহা। সেখানে গিয়েই এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। তাঁর ব্যাখ্যা, 'যেখানে বিরোধী দলের কোনও নেতাকে এক কাপ চা খাওয়াতে ভয় পায় দোকানদাররা, সেই এলাকা কত সন্ত্রাস কবলিত, তা সহজেই অনুমেয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতেই হবে।'












Click it and Unblock the Notifications