মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তিন তালাক’ দিন! মমতার সেই ‘মহাপ্রস্থান’-এ নামাবলি উপহার দেবে বিজেপি
উলুবেড়িয়ার জনসভায় ইশরাত জাহানকে পাশে বসিয়ে রাহুল সিনহা মুখ্যমন্ত্রীকেই তিন তালাক দিয়ে বিদায় করে করে দেওয়ার ডাক দেন।
'তিন তালাক' বিল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা। উলুবেড়িয়ার জনসভায় ইশরাত জাহানকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, 'বিলের বিরোধিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি তিন তালাকের পক্ষে।' তিনি এদিনের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীকেই তিন তালাক দিয়ে বিদায় করে করে দেওয়ার ডাক দেন।

তিন তালাক বিল নিয়ে মমতার বিরোধিতার পাশাপাশি রাহুল সিনহা এদিন নাম না করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একতারা বাজানোরও সমালোচনা করেন। বাউল মেলায় এসে উনি নাটক করেছেন বলে রাহুলের কটাক্ষ। তিনি বলেন, 'একতারা বাজিয়ে বাউলের সুরে সুর মেলানো- এসব মহাপ্রস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। উনি যদি সত্যিই মহাপ্রস্থানে যান, তবে ওনাকে নামাবলি উপহার দেব আমি।'
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নেও মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী মমতার সমালোচনায় সরব হন রাহুল সিনহা। বলেন, 'রাজ্যে পুলিশেরই কোনও নিরাপত্তা নেই। সেখানে এই সরকার রাজ্যের মানুষের নিরাপত্তা দেবে কীভাবে। যেখানে পুলিশকে খুন করা হয়, নির্বিবাদে পুলিশ পেটানো হয়, সেই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য। আজ এটা বুঝতে রাজ্যের মানুষের বাকি নেই যে, রাজ্যে অরাজকতা শুরু হয়েছে তৃণমূল সরকারের আমলে। তাই পরিবর্তন জরুরি।'

উলুবেড়িয়ার সভায় রাহুল সিনহার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায় ও সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া ইশরাত জাহানও। ইশরাতও তিন তালাক নিয়ে সরব হন। তিনি বলেন, 'তিন তালাক বন্ধের বিরোধিতা করছে যারা, তাঁদের বিরুদ্ধেও সবাইকে এক হতে হবে। তিন তালাক বন্ধের জন্য যতদূর যেতে হয়, আমি যাব।' ইশরাতের এই মন্তব্যের পরই তিন তালাক প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় আক্রমণ করেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা।
রাজ্যের প্রতীকে বিশ্ববাংলার স্বীকৃতি নিয়েও মুখ খোলেন রাহুল সিনহা। প্রথমে লকেট চট্টোপাধ্যায় গৌরচন্দ্রিকা করে যান। লকেট বলেন, 'বিশ্ববাংলাকে স্বীকৃতি দেয়নি কেন্দ্র। স্বীকৃতি দিয়েছে বিশ্ববাংলার 'ব'-টাকে।' তারপরই সেই কথার সুর ধরেই রাহুল বলেন, 'বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বিশ্ববাংলার লোগোও আমরা বাতিল করে দেব। তার কারণ ওটা মুখ্যমন্ত্রীর পারিবারিক সম্পত্তি। তাই মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতেই পাঠিয়ে দেব বিশ্ববাংলার 'ব'-কে।'












Click it and Unblock the Notifications