রাহুল পুজোয় আসছেন মমতার বাংলায়, লোকসভা ভোটের আগে এ কীসের বার্তা
সোমেন মিত্রের সময়েই মমতা কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, তাঁর আমলে কি ফের মমতার হাত ধরবে কংগ্রেস? এই প্রশ্নের মাঝেই প্রদেশের নয়া কমিটির আর্জি মেনে বাংলায় আসছেন রাহুল গান্ধী।
বাংলায় প্রদেশ কংগ্রেস পরিবর্তন এসেছে। অধীর চৌধুরীর পরিবর্তে ফের প্রদেশের ব্যাটন উঠেছে সোমেন মিত্রের হাতে। তিনি প্রদেশ সভাপতি থাকাকালীনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস ছেড়েছিলেন, সেই সোমেনের আমলে কি ফের মমতার হাত ধরবে কংগ্রেস? এই প্রশ্নের মাঝেই প্রদেশের নয়া কমিটির আর্জি মেনেই বাংলায় আসছেন রাহুল গান্ধী।

কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী এবার পুজোয় আসছেন কলকাতায়। তিনি পুজোয় সময় জনসংযোগে অংশ নেবেন। কংগ্রেসের হারানো গৌরব ফেরাতে কংগ্রেস সভাপতি এবার পা রাখছেন মমতার বাংলায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি মোদী বিরোধী জোটে যাবেন, কি যাবেন না সেটা পরের কথা। রাহুলের এই আগমন কংগ্রেসকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার জন্য।
এদিন প্রদেশ কংগ্রেসের নয়া কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেসকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস কারও সঙ্গে নির্বাচনী আঁতাতে যাবে না এবং নির্বাচনী সমঝোতা ও জোটের ব্যাপারে রাজ্য কংগ্রেসের মনোভাব ও সিদ্ধান্তই অগ্রাধিকার পাবে।
একইসঙ্গে রাহুল গান্ধী জানিয়ে দেন, আসন্ন শারদোৎসবের দিনগুলির মধ্যে একদিন তিনি বাংলায় আসবেন। প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে দুর্গাপুজোর অষ্টমীর দিন তিনি কলকাতায় আসছেন। কলেজ স্কোয়ারের পুজোয় উপস্থিত হবেন তিনি। সেখানে জনসংযোগেও অংশ নেবেন। কথা বলবেন দর্শনার্থীদের সঙ্গে। মত বিনিময় করবেন।
রাহুলে গান্ধীকে পুজোর আমন্ত্রণ জানানোর পর তিনি নিজে প্রদেশ নেতৃত্বকে বলেন, তিনি পুজোর বাংলায় জনসংযোগে অংশ নিতে চান। যাতে দর্শনার্থীদের সঙ্গে তিনি কথা বলতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে। তিনি শুধু পুজো দেখচে আসবেন না, বাংলার মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করতে চান তিনি। তিনি প্রাণ দিতে চান বাংলার কংগ্রেসকে। আর তা শুরু করতে চান মায়ের অকালবোধনের সময় থেকেই।
পুজোর পর তিনি যাতে আরও একদিন এসে প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব ও পদাধিকারীদের সঙ্গে মিলিত হন, সেই অনুরোধও করা হয়। রাহুল গান্ধী তাতে সম্মতি জানান। রাহুল এদিন কংগ্রেসকে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে শক্তিশালী করার বার্তা দেন। তিনি বলেন নিদের পায়ে দাঁড়ানোর লক্ষে নবনিযুক্ত প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে।
তিনি আরও জানান, বাংলার মানুষের একটা ঐতিহ্যপূর্ণ কৃষ্টি ও সংস্কৃতি বরাবর আছে। যেকারণে কখনই বাংলার মানুষ বিপথগামী শক্তিকে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেন না। সেই পথ ধরেই কংগ্রেসকে বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে আবার গ্রহণযোগ্য ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে। সেই লক্ষ্য নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আর তা শুরু হোক শুভ শারদীয়া থেকেই। রাহুলও চান সেটাই। তাই তিনি নিজে আসছেন মমতার বাংলায় কংগ্রেসের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে।












Click it and Unblock the Notifications