মমতাই বাধা, নইলে ‘পছন্দের লোক’ অধীরকেই দায়িত্বে চান ‘সভাপতি’ রাহুল
বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির লড়াইয়ে অধীর-মান্নান ছাড়াও আরও একটি নাম ভেসে উঠেছে।তিনি হলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। সেখানেও সেই একই সমীকরণই কাজ করছে-আসন্ন লোকসভা ভোটে রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূলের কাছাকাছি আশা
মেয়াদ শেষ হয়েছে অধীর চৌধুরীর। এবার কে হবেন পরবর্তী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি? তা নিয়েই তরজা শুরু রাজনৈতিক মহলে। অধীর চৌধুরীর হাতেই প্রদেশ কংগ্রেসের ব্যাটন রাখবেন, নাকি এমন একজন কাউকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদে বসাবেন, যাতে রাজ্যে তৃণমূলের সঙ্গে পথ চলা সহজতর হয়? আপাতত এই প্রশ্নেই আটকে রয়েছে প্রদেশের কংগ্রেস সভাপতি নির্ধারণ।

ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কয়েকপ্রস্থ বৈঠক হয়ে গিয়েছে দিল্লিতে। অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে আবদুল মান্নান- অনেকের সঙ্গেই পৃথক পৃথক বৈঠক সেরেছেন অদূর ভবিষ্যতের কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির লড়াইয়ে অধীর-মান্নান ছাড়াও আরও একটি নাম ভেসে উঠেছে। তিনি হলেন প্রদীপ ভট্টাচার্য। সেখানেও সেই একই সমীকরণই কাজ করছে- আসন্ন লোকসভা ভোটে রাজ্যে কংগ্রেস-তৃণমূলের কাছাকাছি আসা।
রাহুল গান্ধী খুব সম্প্রতি সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে বসছেন। তার আগে তিনি রাজ্যে রাজ্যে নিজের পছন্দের লোককে প্রদেশ সভাপতির পদে বসাচ্ছেন। সেই দিকে থেকে অধীর চৌধুরী রাহুলের পছন্দেরই প্রার্থী। কিন্তু অধীর চৌধুরীর একটাই সমস্যা তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোর বিরোধী। তিনি চান না যে মমতা কংগ্রেস ভেঙেছেন, তাঁর সঙ্গে জোট গড়ে নির্বাচনী লড়াই করতে। তাঁর থেকে একলা চলা অনেক শ্রেয়।
তারপর রাহুলের কাছে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকবার পদত্যাগের ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন অধীর চৌধুরী। রাহুল তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন- তোমার এত বিরোধী কেন? কেন সবাই এসে তোমার বিরুদ্ধে নালিশ জানিয়ে আসছে? তার জবাবে অধীর পাল্টা জানিয়ে দিয়েছিলেন, যাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন, তাঁদেরই কাউকে প্রদেশের দায়িত্ব দিয়ে দিন। যদিও রাহুল এখনও অধীরকে সরানোর সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেননি। তিনি এখনও বিবেচনাধীন রেখেছেন বিষয়টি।
তিনি চাইছেন অধীর চৌধুরীকে যদি বৃহত্তর স্বার্থে তৃণমূলের সঙ্গে পথচলার ব্যাপারে রাজি করানো যায়, তবে তাঁর হাতেই প্রদেশের দায়িত্ব রাখবেন তিনি। কেননা, অধীর চৌধুরীর লড়াকু মানসিকতাকে তিনি সম্মান করেন। তাঁকে যোগ্য মর্যাদাও দিতে চান তিনি। কিন্তু বাধা একটাই বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কংগ্রেস একলা চলা মানে ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাওয়া। তবু সিপিএমকে সঙ্গে নিলেও যদিও বা অস্তিত্বটুকু বজায় থাকত, একা ভোটে লড়লে কংগ্রেস রাজ্যে কতটা কী করতে পারবে, তা নিয়ে রাহুলের মনেও সন্দেহ রয়েছে।
সিপিএমের কেরল লবি চায় না কংগ্রেসের সঙ্গে জোটে করতে। তাই রাহুলের কাছে খোলা রয়েছে একমাত্র তৃণমূলের পথ। কিন্তু সেক্ষেত্র বাধা অধীর চৌধুরী-রা। আবদুল মান্নানও সিপিএমের সঙ্গে চলার পক্ষপাতী। তাঁর সঙ্গে সিপিএমের রসায়নও এখন বেশ ভালো। তাঁকে দায়িত্ব দিলে আদৌ উদ্দেশ্য সিদ্ধ হবে কি না নিশ্চিন নন রাহুল। তাই রাহুলের হাতে পড়ে থাকছেন একমাত্র প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁকে ফের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব দিলে মমতার সঙ্গে রাজ্যে একসাথে চলার পথে কোনও বাধা থাকবে না।
এই অবস্থায় কোন পথে যাবেন রাহুল, সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সঙ্কট-মুক্তির জন্য রাহুল প্রথমে চাইছেন অধীরকে বুঝিয়ে বাগে আনতে। তা না হলে প্রদীপ ভট্টাচার্যের উপরই দায়িত্ব বর্তাবে। এমতাবস্থায় প্রদেশ কংগ্রেসের দায়িত্ব কার হাতে যায় সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications