বামেদের সঙ্গে জোট নাকি মমতার সঙ্গে সমঝোতা, বিজেপি-বিরোধিতায় দ্বিধায় রাহুল
বামেদের সঙ্গে জোট নাকি মমতার সঙ্গে সমঝোতা, বিজেপি-বিরোধিতায় দ্বিধায় রাহুল
একুশে আবার ভোটের আসর বসছে দেশজুড়ে। পাঁচ-পাঁচটি রাজ্যে নির্বাচন। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুতে দুবার, অসম ও কেরালায় একবার করে পা রেখেছেন রাহুল গান্ধী। কিন্ত বাংলায় এখনও তিনি পা রাখেননি। কিন্তু কী তার কারণ? বাংলার নির্বাচনে কংগ্রেসের অবস্থান নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কারণেই কি রাহুল গান্ধী বাংলা থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন?

দু-নৌকায় পা কংগ্রেসের, বাংলা নিয়ে দ্বিধা
কংগ্রেস দু-নৌকায় পা দিয়ে চলছে। দুটি নৌকায় পা দিয়ে চলছে যে সমস্যা হওয়ার কথা, রাহুল গান্ধী সেই সংকটেই পড়েছেন। দুটি নৌকায় পা দিয়ে চলা কঠিন। রাজনীতিতে যদি তা করা হয়, তবে সেটা শিল্প হিসাবেই বিবেচিত হয়। বাংলায় আসন্ন নির্বাচনে বামদের সঙ্গে জোট করে লড়ার ব্যাপারে মনস্থ করেছে কংগ্রেস। কিন্তু বামেদের সঙ্গে মঞ্চ শেয়ার করতে গিয়ে দুবার ভাবছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী।

রাহুল বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে কেউ একজন
আসন্ন একুশের ভোটের আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস যৌথ ব্রিগেড সমাবেশ ডেকেছে। সেই সমাবেশে বামপন্থীরা চাইছেন রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মধ্যে কেউ একজন উপস্থিত থাকুন। ওইদিন ব্রিগেড সমাবেশের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে আদৌ তাঁরা কেউ আসবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে।

রাহুল গান্ধীকে অল্প ব্যবহার করা হবে বাংলায়
যেহেতু দিল্লিতে কংগ্রেস ও তৃণমূল হাত ধরাধরি করে চলে, সেহেতু একটি বিকল্প উপায় বের করতে চাইছেন রাহুল গান্ধী। একটি সমাধান সূত্র মিলেওছে। স্থির হয়েছে, রাহুল গান্ধীকে অল্প ব্যবহার করা হবে বাংলায়। বিকল্প হিসেবে যাবেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তারপর রাহুলের কেরালার জয় সমালোচিত। কারণ রাহুল তাঁর নিজের কেন্দ্র আমেথিতে হেরে গিয়েছেন।

তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোনও সখ্যতা নেই
আর পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের কম গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হল- কংগ্রেসের আক্রমণাত্মক প্রচার বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাবনা কমিয়ে দিতে পারে। রাজ্যে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের মধ্যে কোনও সখ্যতা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বামেদের সঙ্গে জোট দৃঢ় করতেই বেশি সচেষ্ট।

ভোট যত এগিয়ে আসে, কংগ্রেস ততই নরম
তবে রাহুল গান্ধীরা বাংলায় তাদের আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু বিজেপির দিকে বেশি এবং তৃণমূলের দিকে কম রাখবেন এটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি দীনেশ ত্রিবেদী রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করার পর অধীর চৌধুরীও জানান, তৃণমূলের পক্ষে কোনও ক্ষতি হবে না। কারণ দীনেশ ত্রিবেদীর কোনও স্থানীয় যোগ নেই। তৃণমূল তাঁর এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন। আর বাংলায় যত ভোট এগিয়ে আসে, ততই কংগ্রেস নরম হয়ে যায় এবং ভোট ভাগ করে না বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞ মহলের।












Click it and Unblock the Notifications