খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশে অশান্তির আশঙ্কা, মতুয়াভূমে আশ্বস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী মানুষের পাশে প্রশাসনও পথে নাম
বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ শেষ হতে আর কয়েক দিন। ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। আর সেই তালিকা প্রকাশের পরই রাজ্যে তৈরি হতে পারে গুরুতর জটিলতা এমনই তীব্র আশঙ্কা তুলে ধরলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে আতঙ্ক নয়, বরং আশ্বস্ত করতেই বনগাঁর মতুয়াভূম থেকে পরিষ্কার বার্তা দিলেন তিনি "মানুষের পাশে সরকার দাঁড়াবে, প্রশাসন মাঠে নেমে সাহায্য করবে।"
মঙ্গলবার বনগাঁর সভায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর বহু মানুষের নাম ভুলভাল হয়ে যেতে পারে। তাঁর কথায়, "তালিকা বেরোলে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাবে এটা এখন থেকেই অনুমান করতে পারছি।"তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, বুথ লেভেল অফিসাররা ইন্টারনেট সমস্যায় ঠিকমতো নথি আপলোড করতে পারছেন না। তার উপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কারণে অনেকের নামে ভুল তথ্য ঢুকে যাচ্ছে রামের জায়গায় শ্যাম, শ্যামের জায়গায় যদু! ফলে খসড়া তালিকায় বড় ধরনের গণ্ডগোল তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচির মাধ্যমে যেভাবে সরকার বুথে বুথে সমস্যার সমাধান করছে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেও সেই ধাঁচে শিবির খোলা হবে বলে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। নথি, জাতিগত শংসাপত্রসহ সব ধরনের কাগজপত্র পেতে যাতে সাধারণ মানুষের কোনও অসুবিধা না হয় তার দায়িত্ব নেবে সরকার।
মতুয়াদের উদ্দেশে তাঁর দৃঢ় আশ্বাস "ভয় পাবেন না। কথার খেলাপ করি না। তৃণমূল থাকতে কেউ আপনাদের গায়ে হাত দিতে পারবে না।"
সোমবার দলের নেতাদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এসআইআর এর দ্বিতীয় ধাপ আরও গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে কোনও ঢিলেমি চলবে না। মঙ্গলবার মমতাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন দল যেমন থাকবে, তেমনই সমান্তরালে সক্রিয় থাকবে রাজ্য প্রশাসনও।
সভা শেষে চাঁদপাড়া পাটপট্টি মোড় থেকে ঢাকুরিয়া হাইস্কুল মোড় পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার পদযাত্রা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
বিহারের উদাহরণ টেনে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি।বিহারে এতেই ৬০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন,
"ওরা গেম ধরতে পারেনি। কিন্তু বাংলা বিহার নয়!"
বঙ্গ দখল করতে বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নিজেকে আক্রমণ করা হলে গোটা দেশকে নাড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও শোনা গেল তাঁর গলায়,
"আমাকে আঘাত করলে সারা ভারত কেঁপে উঠবে। নির্বাচনের পরে দেশটা চষে বেড়াব।"
এছাড়া নাম না করে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে 'ইয়েস স্যার' ও 'ছোট স্যার' বলে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে এত কম সময়ে 'অপরিকল্পিত' এসআইআর করার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মতুয়া মহাসংঘের কার্ড অর্থের বিনিময়ে বিলি এ অভিযোগে সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরকে। ঠাকুরবাড়িতে আন্দোলন চলাকালীন শান্তনুর বিদেশ সফরের প্রসঙ্গও টেনে তীব্র সমালোচনা করেন।
"টাকা নিয়ে ফর্ম বিলি করে বিদেশে? বড় রহস্য আছে। পালিয়েছে কেন? অন্যায় করলে গ্রেপ্তারের দাবি আমরাও তুলব," সাফ মন্তব্য মমতার।
ডিসেম্বরেই 'দুর্গাঙ্গনের ভিত্তিপ্রস্তর,দিঘায় জগন্নাথ ধাম তৈরির পর এবার কলকাতায় 'দুর্গাঙ্গন' তৈরির ঘোষণা। নিউ টাউনে ইকোপার্কের বিপরীতে জমিও নির্ধারিত। ডিসেম্বর জানুয়ারিতেই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি শিলিগুড়ির মহাকাল মন্দিরের জন্য প্রায় ২৯ একর জমিতে সোমবারই মন্ত্রিসভার সিলমোহর পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications