Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

রাষ্ট্রপতির শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা, তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ দ্রৌপদী মুর্মুর

শিলিগুড়িতে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগের পাশাপাশি তাঁর কণ্ঠে ছিল অভিমানের সুর, যা প্রোটোকল লঙ্ঘনের গুরুতর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিন শনিবার শিলিগুড়ির গোঁসাইপুরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিলের সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। তবে আয়োজকরা শুরু থেকেই প্রশাসনিক অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রাথমিকভাবে শিলিগুড়ির বিধাননগরে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, 'ছোট জায়গা’-র অজুহাতে ২৫ কিলোমিটার দূরে গোঁসাইপুরে স্থানান্তরিত করা হয়। মঞ্চ সাজানো ও শৌচালয়ের অব্যবস্থাও তাঁদের অসন্তোষের কারণ ছিল।

রাষ্ট্রপতি যখন গোঁসাইপুরের অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছন, উদ্যোক্তারা সরাসরি তাঁর কাছেই অভিযোগগুলি তুলে ধরেন। প্রোটোকল অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বা রাজ্যের মন্ত্রীরা অনুপস্থিত থাকলেও, রাষ্ট্রপতিকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান শুধু শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। রাজ্য সরকারের এই আচরণ প্রোটোকল লঙ্ঘনের ইঙ্গিত দেয়।

গোঁসাইপুরের মূল অনুষ্ঠান শেষ করে রাষ্ট্রপতি অপ্রত্যাশিতভাবে বিধাননগরে যান, যেখানে প্রাথমিকভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজনের কথা ছিল। সেখানকার বিশাল মাঠ দেখে তিনি প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে এত বড় মাঠ ছিল। এখানেই অনুষ্ঠান হতে পারত। জানি না প্রশাসনের মনে কী হল।”

প্রশ্নের সুরে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “আমি তো সহজেই এখানে এসেছি। কিন্তু প্রশাসন নাকি বলেছে এখানে ভিড় হয়ে যাবে। আমি তো দেখছি এখানে ৫ লক্ষ লোকেরও জমায়েত হতে পারবে। এখানকার প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্তরা তো খুবই বুদ্ধিমান। জানি না কেন এখানে অনুষ্ঠান করতে দিল না।”

আদিবাসীদের সার্বিক অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি যোগ করেন, “যেখানে অনুষ্ঠান করা হচ্ছে সেখানে সাঁওতালরা সবাই যেতে পারবেন না। আমার মনে হল, এখানকার ভাইবোনরা সবাই অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না। তাই ভাবলাম আমিই আপনাদের কাছে আসি। আপানারা কেমন করে থাকেন, দেখে আসি।”

প্রোটোকল প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আরও দুঃখ প্রকাশ করেন, “সাধারণত রীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রীদের উপস্থিত থাকার কথা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ম্যাডাম তো আসেননি। সবকিছু দেখে আমি খুবই দুঃখিত।” আগাম ঠিক হওয়া অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ায় তিনি হাজার হাজার মানুষকে ধন্যবাদ জানান।

এরপর সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কণ্ঠে অভিমানের সুর শোনা যায়। তিনি বলেন, “আমি তো বাংলারও মেয়ে। কিন্তু আমাকে তো এখানে আসতেই দেন না। মমতাদিদি আমারও ছোট বোন। জানি না, হয়তো আমার উপরে কোনও কারণে রাগ করেছেন।”

ঘিঞ্জি এলাকার অজুহাত প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি আরও যোগ করেন, “প্রশাসন বলেছিল এখানে নাকি খুব ঘিঞ্জি এলাকা। আমি ভাবলাম দেখেই আসি কতটা ঘিঞ্জি জায়গা। কিন্তু এখানে তো এমনিতেই এত বড় জায়গা রয়েছে।” শেষে তিনি বলেন, “যাই হোক, আমার কোনও অভিযোগ নেই। উনিও ভাল থাকুক। আপনারাও ভাল থাকবেন।”

রাষ্ট্রপতির এই অভিযোগ অবশ্য মানতে নারাজ রাজ্যের জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি পাল্টা দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আদিবাসী সমাজের সর্বাধিক উন্নতি হয়েছে, যার প্রমাণ 'অলচিকি’ ভাষায় পঠন-পাঠনের সুযোগ। তিনি রাষ্ট্রপতিকে রাজ্যের সারি ও সারনা ধর্মকে অবিলম্বে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান এবং মেয়র গৌতম দেবের উপস্থিতিতেও তাঁর কোনো আপত্তি নেই, কারণ তিনি প্রশাসনিক পদেই রয়েছেন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+