লড়াই পিকে বনাম শুভেন্দুর! তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন রুখতে কোন পথে ঘুঁটি সাজাবেন প্রশান্ত কিশোর
শুভেন্দু অধিকারী চলে যেতেই প্রশান্ত কিশোরের স্ট্র্যাটেজি নিয়ে প্রশ্ন আরও প্রবল হয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই। সেই প্রশ্নের মুখে পড়ে এবার ফুঁসে উঠলেন প্রশান্ত কিশোর। সরাসরি বিজেপিকে আক্রমণ করার লক্ষ্যেই টুইট করলেন আইপ্যাক প্রধান। তাঁর সাফ বক্তব্য, ডবল ফিগার পার করতে পারবে না বিজেপি। প্রশান্তের এই টুইট কিছুটা হলেও জখম বাঘের হুঙ্কার বলে মনে করছেন অনেকেই।

প্রশান্ত কিশোরের চ্যালেঞ্জ
প্রশান্ত কিশোর এদিন এক টুইট বার্তায় লেখেন, 'আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি 'ডবল ডিজিট' বা দুই অঙ্কের সংখ্যা পেরোতে পারবে না। আগামী নির্বাচনে বিজেপি যতই প্রচারের হাইপ তুলুক, ভোটের পর মুখ থুবড়ে পড়বে। টুইটটি সেভ করে রাখুন। যদি ভুল প্রমাণত হই, তাহলে আমি আমার কাজ ছেড়ে দেব।' বিশেষজ্ঞের মত, তৃণমূল সরকার তাদের বিভিন্ন প্রকল্পকে মানুষের হাতে পৌঁছে দিয়েছে। ফলে বিজেপি সংবাদমাধ্যমে প্রচার কৌশল জারি রাখলেও আদতে বাংলার মানুষ ভোট দেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।

শুভেন্দুকে হারিয়ে নাজেহাল তৃণমূল
তৃণমূল অন্য দল ভাঙানোর কাজে দুই জনকে ব্যবহার করেছে বার বার। মুকুল রায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। মুকুল বছর তিনেক আগেই তৃণমূলের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন। কিন্তু, নিজের কাজটা ঠিক মতোই করে চলেছিলেন শুভেন্দু। একাধিকবার গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, বিজেপিতে যোগ দেবেন তিনি। কিন্তু, প্রতি বারই সেই গুঞ্জন উড়িয়ে নিজের কাজ করে গিয়েছেন অধিকারী পরিবারের মেজো ছেলে। পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে বেশি সময় লাগেনি। ধাপে ধাপে একাধিক পদক্ষেপ যেন বুঝিয়ে দিতে শুরু করে পরিস্থিতি বদলের ছবি। কখনও তা ইতিবাচক। কখনও আবার নেতিবাচক।

প্রশান্ত কিশোরের বাড়বাড়ন্ত
তবে এসবের মাঝেই প্রশান্ত কিশোর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়বাড়ন্তের মাঝেই দল ছাড়েন শুভেন্দু। সঙ্গে তৃণমূলের একঝাঁক নেতা এবং ৬ বিধায়ক ও ১ সাংসদ বিজেপিতে নাম লেখান। পাশাপাশি আরও বড় ভাঙনের হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন শুভেন্দু। অন্যদিকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েও অস্বস্তিতে প্রশান্ত কিশোর। ভাঙন রুখতে অসমর্থ হন পিকে।

অভিযোগের আঙুল পিকের দিকে
মেদিনীপুরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সকলেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে। প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সব দলছুট নেতা। ব্যারাকপুরের বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত হোক বা সাংসদ সুনীল মণ্ডল, সবাই টিম পিকের হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে দল ছেড়েছেন বলে জানান। এই পরিস্থিতিতে এখন প্রশান্ত কিশোরের চ্যালেঞ্জ হবে তৃণমূলে ভাঙন রোখা।

রাজীবের ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী প্রশান্ত
এদিকে কয়েকদিন ধরেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠছিল। শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে দল যখন বিব্রত, তখনই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য তাদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। শুভেন্দুর মতো একাধিক জায়গায় তাঁর ছবি সম্বলিত পোস্টারও পড়ে। এই নিয়ে জল্পনা বাড়তেই তাঁর ক্ষোভ প্রশমনে উদ্যোগী হয় তৃণমূল নেতৃত্ব।

বাংলায় গেরুয়া শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াই
এই আবহে যেকোনও উপায়েই হোক ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে উৎখাত করে বাংলায় গেরুয়া শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ময়দানে নেমে পড়েছেন অমিত শাহ, দিলীপ ঘোষরা। সেই গেরুয়া শিবিরকে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে ঘুঁটি সাজাচ্ছেন ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তাঁর সংস্থা মাঠে ময়দানে নেমে ব্লক স্তরে, বুথ স্তরে তৃণমূলের সংগঠনকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে।

প্রশান্ত কিশোরের দাবি সত্যি হবে?
যদিও এখনও পর্যন্ত প্রশান্ত কিশোরকে শীর্ষ নেতৃত্ব দোষারোপ করেনি। তবে তাঁর সংস্থার দিকে আঙুল তুলে দল ছেড়েছেন একের পর এক নেতা, বিধায়ক। বিভিন্ন জেলায় জেলায় উল্টো ফল হয়েছে। এখন ঘটনা হল, প্রশান্ত কিশোরের এই দাবিকে কতটা মান্যতা দেওয়া যেতে পারে?
{quiz_455}












Click it and Unblock the Notifications