পিকের টার্গেটে বাংলার যুব সম্প্রদায়, তৃণমূলের নেতৃত্বে পাল্লা ভারী অনুর্ধ্ব ৫০-এর
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়ের কড়ি জোগাড় করে দিতে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর টার্গেট করেছেন বাংলার যুব সমাজকে।
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসকে জয়ের কড়ি জোগাড় করে দিতে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর টার্গেট করেছেন বাংলার যুব সমাজকে। তাই মূলত তাঁর আর্জিকে প্রাধান্য দিয়েই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে অনুর্ধ্ব ৫০ নেতা-নেত্রীদের। দলের নেতৃত্বে এসেছে অনেক নতুন মুখও।

৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর
২০২১-এর নির্বাচন তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে একটা অগ্নিপরীক্ষা হতে চলেছে এবার। এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের প্রস্তুতিতে তাই কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না ভোটকৌশী প্রশান্ত কিশোর। বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে হ্যাটট্রিকের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে তিনি বাংলার যুব সমাজকে টার্গেট করেছেন। কেননা এবার ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরাই ডিসাইডিং ফ্যাক্টর হতে চলেছেন।

৫০ বছরের কম বয়সীদের অগ্রাধিকার
প্রশান্ত কিশোর চাইছেন দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ফেরাতে। সেজন্য প্রভাব প্রতিপত্তি থাকলেও দুর্নীতির কালি লাগা নেতাকে সামনের সারিতে চাইছেন না প্রশান্ত কিশোর। শাসকদলকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে দলের মূল দায়িত্ব এখন তাঁদের দেওয়া হচ্ছে, যাঁরা ৫০ বছরের কম বয়সী এবং তাদের নিজ নিজ এলাকায় পরিষ্কার ইমেজ রয়েছে।

প্রশান্ত কিশোরের রিপোর্টেই রদবদল সংগঠনে!
প্রশান্ত কিশোরের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করেই দলীয় সংগঠনে তরুণদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে জেলা বা ব্লক স্তরে। সমস্ত জেলা ও ব্লক কমিটিকে এই নির্দেশ অনুসরণ করতে হচ্ছে। রাজ্য নেতৃত্ব রাজ্যজুড়ে প্রতিটি বুথ স্তরে এই নির্দেশ পাঠিয়েছে যে, ৫০ বছরের বেশি বয়সের লোকদের জেলা কমিটিগুলিতে স্থান দেওয়া হবে না।

যুব সমাজকে আরও আগ্রহী করে তুলতে
আগামী দিনে জেলা কমিটির আকার আরও সঙ্কুচিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট কমিটি করে কাজ ও দক্ষতায় জোর দিতে চাইছে তৃণমূল। তৃণমূলের একজন প্রবীণ নেতা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে যুব সমাজকে আরও আগ্রহী করে তুলতে চাইছে তৃণমূল। আগামী দিনের লক্ষ্যে যুব সমাজকে দলে টানতে চাইছে তৃণমূল।

গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ নেতৃত্বের উপর
বয়সের কারণ এবং দলীয় কর্মীদের স্বচ্ছ ইমেজকে মাথায় রেখে তৃণমূল সুপ্রিমো জুলাই মাসে দলের সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুনভাবে পরিবর্তন করেছেন। পরের বছরের নির্বাচনের আগে দলের ভাবমূর্তি ফেরাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকগুলি পরিবর্তন করেছেন। মূল কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে জেলা সভাপতি পর্যন্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তরুণ নেতৃত্বের উপর।

তরুণ ও নতুন মুখকে বেশি অগ্রাধিকার
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষাকৃত পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ইমেজ নিয়ে দলের অগ্রভাগে তরুণ ও নতুন মুখকে বেশি অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি ২১ সদস্য বিশিষ্ট একটি নতুন রাজ্য কমিটি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সাত সদস্যের মূল প্যানেল ঘোষণা করেছেন। যেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও শান্তা ছেত্রির নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

জেলার দায়িত্ব এসেছেন যাঁরা
এছাড়া হাওড়া, কোচবিহার, পুরুলিয়া, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম ও দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ বেশ কয়েকটি জেলার সভাপতিদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাওড়ায় ক্রিকেটার-রাজনীতিবিদ লক্ষ্মীরতন শুক্লা, নদিয়ার মহুয়া মৈত্র, ঝাড়গ্রামের দুলাল মুর্মু, পুরুলিয়ার গুরুপদ টুডু এবং বাঁকুড়ার শ্যামল সাঁতরার মতো নতুন ও তরুণ মুখকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications