বিজেপির জারিজুরি শেষ পিকে-র তিন মন্ত্রেই! প্রথম পরীক্ষাতেই অভূতপূর্ব সাফল্য
৪২-এ ৪২-এর টার্গেট নিয়ে ২০১৯ লোকসভার ভোটযুদ্ধে নেমে ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল। বিজেপির উত্থান হয়েছিল বঙ্গে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল, হারার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল
৪২-এ ৪২-এর টার্গেট নিয়ে ২০১৯ লোকসভার ভোটযুদ্ধে নেমে ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির উত্থান হয়েছিল বঙ্গে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল, হারার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তৃণমূলীদের। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করেছিলেন মমতা।

হাতেনাতে ফল পেলে তৃণমূল
প্রশান্ত কিশোরকে ভোট কৌশলী হিসেবে নিয়োগ করার পরই হাতেনাতে ফল পেলে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রশান্ত ম্যাজিকে ভর করেই মাত্র ছ-মাসের মধ্যে বিজেপির বাড়বাড়ন্ত আটকে পাল্টা জবাব দিল। উপনির্বাচনে তিনে তিন করল তৃণমূল স্রেফ প্রশান্ত কিশোরের তিন মন্ত্রকে জপ করে। তিন মন্ত্রেই বিজেপির জারিজুরি শেষ।

মুকুলের খেলা আটকে জয়
বিগত লোকসভায় তৃণমূলকে ভেঙেই তৃণমূলকে হারের মুখ দেখিয়েছিলেন তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায়। বিজেপি দুই থেকে বেড়ে ১৮ হয়েছিল। তারপর ফের দল ভাঙার খেলায় মাতেন তিনি। কিন্তু মমতা পাল্টা প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করে মুকুলের খেলা আটকে দেয়। হারানো পুরসভা, পঞ্চায়েত ফিরে আসতে শুরু করে।

প্রশান্ত কিশোরের প্রথম পরীক্ষা
আর প্রশান্ত কিশোর আসার পর এই উপনির্বাচন ছিল তাঁর প্রথম পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় লেটার মার্কস নিয়ে পাস করলেন তিনি। কোন জাদুবলে তা সম্ভব হল? এক কথায় উত্তর তিনটি মন্ত্র। তা পালন করেই উপনির্বাচনে ম্যান অফ দ্য ম্যাচ প্রশান্ত কিশোর। প্রশান্ত ম্যাজিকে বিজেপি সাফ।

প্রথম ‘মন্ত্র’ প্রশান্ত কিশোরের
কী সেই মন্ত্র? প্রশান্ত তৃণমূলের দায়িত্ব নিয়েই প্রয়োগ করেছিলেন তিন মন্ত্রের প্রথমটি। দিদিকে বলো কর্মসূচির মাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়েছিল ঘরে ঘরে। জনসংযোগে জোর দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছিলেন- দোরে দোরে নেতাদের পৌঁছে যেতে হবে। উদ্ধত্যহীন হতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে।

দ্বিতীয় ‘মন্ত্র’ প্রশান্ত কিশোরের
তাঁর দেওয়া দ্বিতীয় মন্ত্র হল বুথ স্তরে সংগঠনকে জোরদার করতে হবে। তিনি সেই কারণে বেছে নিয়েছিলেন কতিপয় নেতাকে। সেই নেতাদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। বুথ ধরে ধরে সংগঠনকে শক্তিশালী করা, এরপর পঞ্চায়েত ও ব্লকস্তরে সংঘটের উন্নতি ঘটিয়ে তিনি চাঙ্গা করার চেষ্টা করে গিয়েছেন।

তৃতীয় ‘মন্ত্র’ প্রশান্ত কিশোরের
আর তার তৃতীয় মন্ত্রটি হল এনআরসি বিরোধী প্রচার। এনআরসির ভয়াবহতা তিনি জনমানসের সামনে তুলে ধরার কথা বলেছেন। এতে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, কতটা সাংঘাতিক ঘটনা ঘটে যেতে পারে যদি বাংলার বুকেও এনআরসি চালু হয়। এই তিন মন্ত্র বুমেরাং করে ছেড়েছে বিজেপির যাবতীয় প্রচার-ইস্যু। ফের সাফল্যের মুখ দেখেছে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications