প্রশান্ত কিশোর বুঝতে পেরেছিলেন শুভেন্দুর ‘যড়যন্ত্র’! একুশের আগে ফাঁস করলেন অভিষেক
শুভেন্দুর ষড়যন্ত্র কি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তা না হলে প্রশান্ত কিশোর দলের দায়িত্বে আসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী দলের প্রতি বিমুখ কেন?
শুভেন্দুর ষড়যন্ত্র কি বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। তা না হলে প্রশান্ত কিশোর দলের দায়িত্বে আসার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী দলের প্রতি বিমুখ কেন? শুভেন্দু অধিকারী বিমুখ হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রতিও। অবশেষে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। শনিবার শুভেন্দুর গড়ে দাঁড়িয়েই অভিষেক ফাঁস করলেন সেই বিরাট চক্রান্তের কথা!

তৃণমূলের অন্দরে থেকেই ষড়যন্ত্র শুভেন্দুর
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশান্ত কিশোরের মস্তিষ্ককে ধন্যবাদ জানিয়ে অনেক পোস্ট ঘোরাফেরা করছে। শুভেন্দুর অভিষন্ধি বুঝে ফেলার জন্য প্রশান্ত কিশোরকে সাধুবাদ দিয়েছেন অনেক তৃণমূল নেতা-কর্মী। এদিন কাঁথির সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারীর করা সেই ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দিলেন। তৃণমূলের অন্দরে থেকেই শুভেন্দু ষড়যন্ত্র করছিলেন বলে অভিযোগ ছিল।

শুভেন্দুর ডেরা দাঁড়িয়েই ষড়যন্ত্র ফাঁস অভিষেকের
অভিষেক এদিন কাঁথির সভায় দাঁড়িয়ে ফাঁস করে দেন শুভেন্দুর ষড়যন্ত্র। শুভেন্দুর ডেরা দাঁড়িয়েই যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটর পর তৃণমূলের ৩৫-৩৬ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপিতে যাওয়ার ছক ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। তৃণমূলের বিধায়কদের বিজেপিতে নিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি।

শুভেন্দুর গাত্রদাহের কারণ ফাঁস অভিষেকের
অভিষেক বলেন, শুভেন্দু অধিকারী গাত্রদাহ হয়েছিল পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে। তৃণমূলে থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরের পর্যবক্ষেক ছিলেন। লোকসভা নির্বাচনের পর ওই পদ তুলে দেয় তৃণমূল। শুভেন্দুবাবু ৫০টি আসনে আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা হয়নি।

৩৫-৩৬ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপিতে যোগের ষড়যন্ত্র
অভিষেকের কথায়, মুর্শিদাবাদের ২২, মালদহের ১২, উত্তর দিনাজপুরের ৯ এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ আসনে তাঁর প্রভাব থাকত। এই ৪৯ আসনের মধ্যে তৃণমূল ৩৫-৩৬ আসনে জিতত। তারপর ওই ৩৫-৩৬ জন বিধায়ককে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ছক কষেছিলেন। কিন্তু তিনি তো একা চালাক নন। ওই পদটি তুলে দিতেই তাঁর গাত্রদাহ হয়।

ভোট কৌশলী হিসেবে পিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর
প্রশান্ত কিশোর ২০২১-এর ভোট কৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃণমূলে পর্যবক্ষেক পদটি তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। ফলে শুভেন্দু তিন জেলায় কর্তৃত্ব হারান। তা মানতে পারেননি শুভেন্দু। তারপর থেকেই শুভেন্দু দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দেন তৃণমূলের সঙ্গে। শেষে তৃণমূল ত্যাগ করে তিনি বিজেপিতে নাম লেখান।

প্রশান্ত কিশোরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তৃণমূলীরা!
সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা প্রশান্ত কিশোরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছেন এই জন্যই যে, তিনি শুভেন্দু অধিকারীর অভিপ্রায় বুঝতে পেরে গিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর যোগাযোগ রয়েছে বিজেপির সঙ্গে। তিনি তৃণমূল ভাঙিয়ে ভোট-পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তাই সেই পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে তিনি দুধ কা দুধ, পানি কা পানি করে দিতে সমর্থ হয়েছেন।

অবজার্ভার প্রথা তুলে দিয়ে কো-অর্ডিনেটর প্রথা পিকের
প্রশান্ত কিশোর দায়িত্ব নেওয়ার পরই বুঝতে পেরেছিলেন, তৃণমূলে থেকেই অনেকে দলের ক্ষতি করছেন। তাঁদের পৃথক করতে হবে। তা না হলে জয়ের সরণি তৈরি করা যাবে না। তাই তাঁদের আলাদা করতেই তিনি দলের পরিকাঠামো পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছিলেন। অবজার্ভার প্রথা তুলে দিয়ে কো-অর্ডিনেটর প্রথা চালু করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications