পিকে মনে করালেন বিজেপিকে দুই অঙ্কে আটকে রাখার চ্যালেঞ্জ! কোন সূত্রে সাফল্যের দুয়ারে মমতা
ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর সেই বাদ্যির সুরে সুর মিলিয়েই ফের পুরনো দাবির প্রতিদ্বনি শোনা গেল তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কণ্ঠে। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, আগামী ২ মে তাঁর টুইটের কথা মনে রাখবেন।
ভোটের বাদ্যি বেজে গিয়েছে বঙ্গে। আর সেই বাদ্যির সুরে সুর মিলিয়েই ফের পুরনো দাবির প্রতিধ্বনি শোনা গেল তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের কণ্ঠে। তিনি মনে করিয়ে দিলেন, আগামী ২ মে ভোটের ফলপ্রকাশের দিন তাঁর টুইটের কথা মনে রাখবেন। সেটাই হতে চলেছে। অর্থাৎ বাংলা তাঁর নিজের মেয়েকেই চায়। এবারের নির্বাচনে নিজের মেয়েকেই ক্ষমতায় আনবে বাংলা।

ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দেখার চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাখলেন পিকে
প্রশান্ত কিশোর কিছুদিন আগে দাবি করেছিলেন, বিজেপি দুই অঙ্কেই আটকে যাবে। অর্থাৎ ১০০ আসন পাবে না। এরপর তার সমর্থনে তিনি যুক্তিও দিয়েছিলেন। সেই হিসেবই আবার মনে করিয়ে দিলেন নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করার পরই। আগামী ২ মে ভোটের ফল প্রকাশ হবে। সেদিন তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী মিলিয়ে দেখার চ্যালেঞ্জ দিয়ে রাখলেন পিকে।

দাবির সমর্থনে ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের যুক্তি
কিন্তু কার জোরে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী ফলাতে চাইছেন? প্রশান্ত কিশোর তাঁর দাবির সমর্থনে যুক্তি দিয়েছিলেন, আসন্ন ভোট-যুদ্ধে তৃণমূল শুরু করবে ৩০ শতাংশের অধিকাংশের সমর্থন নিয়ে থেকে, আর বিজেপি শুরু করবে শূন্য থেকে। এটা একটা বড় অ্যাডভান্টেজ। ৭০ শতাংশ হিন্দু ভোটকেই টার্গেট করেছে বিজেপি। কিন্তু মনে রাখতে হবে বাংলা কিন্তু সম্প্রীতির পীঠস্থান।

বিজেপির সংকীর্ণতা শক্তি জুগিয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে
প্রশান্ত কিশোর বিজেপিকে হারাতে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন। আর অঙ্ক কষেই তিনি এগোচ্ছেন বিজেপিকে মাত দিতে। আর এই অঙ্কে তাঁর বড় প্রাপ্তি হল, বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা। এখনও সমস্ত বুথে কমিটি গঠন করতে পারেনি বিজেপি। ফলে বিজেপির এই সংকীর্ণতা শক্তি জুগিয়েছে প্রশান্ত কিশোরকে। সেইমতোই অঙ্ক কষে বিজেপিকে নম্বর দিয়েছেন তিনি।

বাংলায় কোনও মুখ নেই, বিজেপির আরও একটা সমস্যা
বিজেপির আরও একটা সমস্যা হল কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে ভরসা। বাংলায় কোনও মুখ নেই। এখনও পর্যন্ত কোনও নেতাকে সামনে রেখে লড়ার মতো ঘোষণা করতে পারেনি বিজেপি। যদিও বা দু-একজনকে এখন দেখা যাচ্ছে, তারা আবার তৃণমূল থেকে আসা নেতা। ফলে তৃণমূল-ছুট নেতাদের মুখ করে আদি নেতাদের রোষানলে পড়তে চাইছে না বিজেপি।

বঙ্গ বিজেপির দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেছেন অমিত শাহ
বঙ্গ বিজেপির কোনও নেতা এখনও বাংলার মুখ হয়ে উঠতে পারেননি। সবেধন নীলমণি দিলীপ ঘোষ। তিনি রাজ্য সভাপতি হলেও তাঁকে নিয়ে দোলাচলে আছে বিজেপি। দিলীপের রাফ অ্যান্ড টাফ রাজনীতির খারাপ প্রভাব পড়তে পারে বলে বিজেপি তাঁকেও মুখ করতে পারেনি। এবার আবার মুকুল রায়কেও দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেছেন অমিত শাহ।

বিজেপির নিজের কিছু নেই, সবই তৃণমূল ভাঙিয়ে
বিজেপি চাইছে তৃণমূলের দলবদলুদেরই সামনে রেখে যুদ্ধ জয় করতে। সেটা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যায়। কেননা তৃণমূল ইতিমধ্যেই বুঝিয়ে দিতে সমর্থ হয়েছে বিজেপির নিজের কিছু নেই, সবই তৃণমূল ভাঙিয়ে। আর তাঁরা যে তৃণমূলে স্বার্থ গুছিয়ে কেটে পড়েছে, তাও বোঝাতে অনেকটাই সফল তৃণমূল।

শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পরও প্রশান্ত কিশোর নির্ভরসায়
তাই শুভেন্দু হোক বা রাজীব বা অন্যান্যরা- দলবদলুদের নিয়ে বিশেষ কোনও ফায়দা বিজেপি লুটতে পারবে না বলে মনে করেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরও। শুভেন্দু বিজেপিতে যাওয়ার পরও তাই প্রশান্ত কিশোর নির্ভরসায় বলতে পারেন, আরও বেশ কয়েকজন তৃণমূল ছাড়তে পারেন। তাঁদেরকে দলছুট ধরে নিয়েই হিসেব দিচ্ছি, বিজেপি ৯৯ টপকাতে পারবে না।

মূল্যবৃদ্ধি বিজেপিকে পিছিয়ে দেবে লড়াইয়ে
এদিকে বিজেপির মহাসঙ্কট হল পেট্রোপণ্য-সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামছাড়া বৃদ্ধি। পেট্রোলের দাম বাড়ছে, দাম বাড়ছে ডিজেলের, আবার গ্যাসের দামবৃদ্ধিতেও হেঁসেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রের সরকার। ফলে এই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দামবৃদ্ধি বিজেপিকে পিছিয়ে দেবে লড়াইয়ে। তার ফলে তৃণমূল আরও বেটার ফল করবে।

ব্র্যান্ড মমতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার প্রশান্ত কিশোরের
এরপর রয়েছে ব্র্যান্ড মমতা। ব্র্যান্ড মমতাকে সঠিকভাবে ব্যবহার করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর দিদিরে বলো থেকে শুরু করে বাংলার গর্ব মমতা এবং হালে দিদির দূতকে নামিয়ে তিনি মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছেন। আর এই কর্মসূচি ও প্রচার পরিকল্পনায় তাঁর শেষতম সংযোজন বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামকে কাজে লাগিয়ে কিস্তিমাত!
প্রশান্ত কিশোর চেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ভাবমূর্তিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে। তাঁর ভাবমূর্তি যে এখনও বেশ উজ্জ্বল এবং তাঁকে টক্কর দেওয়ার মতো মুখ যে বঙ্গ বিজেপিতে নেই, তা বিলক্ষণ জানেন প্রশান্ত কিশোর। তা জেনেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নামকে কাজে লাগিয়ে কিস্তিমাত করতে চাইছেন একুশের ভোটে।

দিনের শেষে মমতার দুয়ারে এসেছেন বিরোধীরাও
শুধু ব্র্যান্ড মমতাকে কাজে লাগানোই নয়, তিনি জনকল্যাণমূলক নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারকেও মানুষ দরবারে পৌঁছে দিতে পরামর্শ দিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুয়ারে সরকার, পাড়ায় পাড়ায় সমাধানের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গিয়েছেন। যাঁরা সমর্থন করেন না, তাঁরাও দিনের শেষে মমতার দুয়ারে এসেছেন। এর একটা ভালো প্রভাব তো পড়বেই।

পিকে-স্ট্র্যাটেজি যদি সফল হল, তাহলে কেল্লাফলে তৃণমূলের
আর পরিষেষে বলা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মাস্টারস্ট্রোক তৃণমূলকে এগিয়ে দেবে অনেকটাই। ভোটের মুখেই তিনি বিভিন্ন ভাতা, বেতন বৃদ্ধি করে মানুশের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে জনমোহিনী প্যাকেজ প্রস্তুত করেই ফেলেছেন। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস যে একুশের লড়াইয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে থাকবে, তা বলাই যায়। এখন দেখার পিকের-কৌশলী সিদ্ধান্ত ভোট-ব্যাঙ্কে কতটা পর্যবষিত হয়। আর পিকে-স্ট্র্যাটেজি যদি সফল হল, তাহলে কেল্লাফলে তৃণমূলের। মমতার হ্যাটট্রিক অবশ্যম্ভাবী বাংলায়।












Click it and Unblock the Notifications