পঞ্চায়েত-যুদ্ধে নামার আগে অ্যাসিড টেস্ট সাত পুরসভায়, জেনে নিন কার কেমন শক্তি
পঞ্চায়েত ভোটের আগে শেষ ‘অ্যাসিড টেস্ট’। সম্মুখ সমরে নামার জন্য তৈরি শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। রবিবার রাজ্যের সাতটি পুরসভায় ভোটগ্রহণ।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে শেষ 'অ্যাসিড টেস্ট'। সম্মুখ সমরে নামার জন্য তৈরি শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই। রবিবার রাজ্যের সাতটি পুরসভায় ভোটগ্রহণ। জমজমাট প্রচার শেষ হয়েছে শুক্রবারই। এখন রবিবারের ভোটগ্রহণের জন্য তৈরি পুলিশ-প্রশাসন। তৈরি নির্বাচন কমিশনও। কড়া নিরাপত্তার মোড়কে সাত পুর এলাকাকে মুড়ে ফেলে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে কমিশন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে সমস্ত ব্যবস্থা পাকা।
রবিবার দুর্গাপুর, হলদিয়া, পাঁশকুড়া, নলহাটি, ধূপগুড়ি, বুনিয়াদপুর ও কুপার্স ক্যাম্প পুরসভার ভোটগ্রহণ। এছাড়া ঝাড়গ্রাম ও চাঁপদানি পুরসভার দু-টি ওয়ার্ডেও উপনির্বাচন হবে। শনিবার সকাল থেকেই ভোটকর্মী ও পুলিশ বাহিনী বুথে বুথে পৌঁছে গিয়েছে। রবিবার সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট নেওয়া হবে।

কোন পুরসভায় কে কেমন
ধূপগুড়ি : জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ি পুরসভায় ১৬টি ওয়ার্ড। মোট ৩৯টি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করা হয়েছে। ১৬টি ওয়ার্ডের ভোট ওই ৩৯টি কেন্দ্র গ্রহণ করা হবে। এই পুরসভার ক্ষমতায় রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ১৬ জনের মধ্যে ১১ জনই শাসকদলের কাউন্সিলর। বাকি পাঁচের চারজন বাম ও একজন বিজেপির। তবে এবার বামেরা জোর লড়াই দেবে বলে আশাবাদী।
বুনিয়াদপুর : দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর পুরসভায় ১৪টি ওয়ার্ড। মোট ২৩টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই পুরসভাটি নতুন। এবারই প্রথম ভোট গ্রহণ করা হচ্ছে। তাই প্রথমবার এই পুরসভায় কে ক্ষমতায় আসে তা নিয়ে জোর দড়ি টানাটানি শুরু হয়েছে। তৃণমূলের পাল্লা ভারী হলেও, বাম ও বিজেপিও লড়াই দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
কুপার্স ক্যাম্প : নদিয়ার কুপার্স ক্যাম্পের ওয়ার্ড সংখ্যা ১২। ২১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই পুরসভার দখল ছিল কংগ্রেসের হাতে। গতবার ১২টির মধ্যে ১১টি ওয়ার্ডে জিতেছিল কংগ্রেস। বাকি একটি ওয়ার্ডে জিতেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবার কংগ্রেস এই পুরসভা দখলে রাখতে পারে কি না, তা-ই দেখার। কারণ শঙ্কর সিং এখল দলবদল করে তৃণমূলে। ফলে কুপার্স ক্যাম্প দখলের ব্যাপারে এক কদম এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল।

হলদিয়া : পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া পুরসভায় ২৯টি ওয়ার্ড। মোট ৫১টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের শাসন চললেও হলদিয়া পুরসভা ধরে রেখেছিল বামেরা। ১৫টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিল গতবার। এবারও তাই এই পুরসভায় জোর লড়াই অপেক্ষা করে রয়েছে তৃণমূল ও বামেদের মধ্যে। বিজেপিও হলদিয়া পুরসভায় ভালো ফল করার ব্যাপারে আশাবাদী।
পাঁশকুড়া : পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া পুরসভার ওয়ার্ডসংখ্যা ১৭। মোট ৪৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। এই পুরসভা তৃণমূলের দখলে ছিল। ১২টি ওয়ার্ডে জয়ী হয়েছিল তৃণমূল ও বাকি পাঁচটি ছিল সিপিএমের দখলে। এবারও পাল্লা ভারী তৃণমূলের। ইতিমধ্যে দু-টি ওয়ার্ড বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে তৃণমূল। ফলে ভোট হবে ১৫টি আসনে।
দুর্গাপুর : দুর্গাপুর পুরসভা ৪৩টি ওয়ার্ড। একটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে ভোটগ্রহণ করা হবে ৪২টি ওয়ার্ডে। তৃণমূল সবকটি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। বিজেপি প্রার্থী দিয়েছে ৪১টি ওয়ার্ডে। বামেরা ৩৫টি ওয়ার্ডে ও কংগ্রেস ৮টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছে। কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট জোট করে এই পুরসভায় লড়ছে।
নলহাটি : বীরভূমের নলহাটি পুরসভায় ১৬টি ওয়ার্ড। গতবার এই পুরসভায় জিতেছিল তৃণমূল। ১টি ওয়ার্ডে জিতেছিল সিপিএম, কংগ্রেস ৩টি, বিজেপি ১টি ও নির্দল ১টি আসনে জেতে। বাকি ১০টি ওয়ার্ডে জয়লাভ করেন তৃণমূল প্রার্থীরা।












Click it and Unblock the Notifications