দ্বিতীয় দফার ভোট মেদিনীপুরে, লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কোন আসনে কে এগিয়ে
দ্বিতীয় দফার ভোটে মেদিনীপুরে লোকসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে কোন আসনে কে এগিয়েছিল
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের হাইভোল্টেজ লড়াই রাত পোহালেই শুরু হবে দ্বিতীয় দফার ভোটকে কেন্দ্র করে। এই দ্বিতীয় দফার ভোটে যেমন নন্দীগ্রামে শুভেন্দু বনাম মমতার লড়াই রয়েছে, তেমনই আবার ডেবরাতে ভারতী ঘোষ বনাম হুময়ুন কবীরের লড়াই রয়েছে। নজর কাড়ছে বাঁকুড়া থেকে কাকদ্বীপ বিধানসভা আসনও। একনজরে দেখা যাক এই সমস্ত দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ বিধানসভা আসনে লোকসভার নিরিখে কেমন ফলাফল হয়েছে।

৩০ আসনে নজরে হাইভোল্টেজ কেন্দ্র
৩০ আসনের মধ্যে বাংলায় দ্বিতীয় দফার ভোটে হাইভোল্টেজ আসন বলতে উঠে আসছে ডেবরা,ময়না,বাঁকুড়া,খড়গপুর সদর,নন্দীগ্রাম,চণ্ডীপুর,ঘাটাল,তমলুক এর মতো আসন। তবে যে ৩০ আসনে আগামীকাল ভোট হবে সেগুলি , তমলুক, পাঁশকুড়া (পূর্ব ও পশ্চিম), ময়না, নন্দকুমার,হলদিয়া, নন্দীগ্রাম, চণ্ডীপুর,মহিষাদল। এছাড়াও থাকছে বাঁকুড়া, ইন্দাস,বড়জোড়া, বিষ্ণুপুর,কোতুলপুর, সোনামুখী, ওন্দা। লড়াই হবে, খড়্গপুর সদর, নারায়ণগড়, সবং, পিংলা, ডেবরা, দাসপুর, ঘাটাল, চন্দ্রকোনা, কেশপুর কেন্দ্রে। এছাড়াও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা, পাথর প্রতিমা, কাকদ্বীপ, সাগর কেন্দ্রে হবে ভোট।

নজরে মেদিনীপুর
অধিকারীগড় মেদিনীপুরের তমলুকে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী তথা শুভেন্দুর ভাই দিব্যেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রে লোকসভা ভোটের ফলাফল অনুযায়ী তৃণমূল পেয়েছে ৯৩৬৮০ ভোট, বিজেপি পেয়এছে ৮৭,১৩২ টি ভোট। সিপিএম ওই কেন্দ্রে পেয়েছে ২৭,৯৫৮ টি ভোট। কংগ্রেসের ঝুলিতে ছিল ২১৩০ টি ভোট। পাঁশকুড়াতে তৃণমূল লোকসভা ভোটে পেয়েছে ৭৯,৪৩৭ টি ভোট, বিজেপি পেয়েছে ৭২,০৫৭ টি ভোট, সিপিএম পেয়েছে ২১,০৫৪ টি ভোট, কংগ্রেসের ঘরে গিয়েছে ২৬৭৬ টি ভোট।

নন্দীগ্রাম সহ মেদিনীপুরের বাকি কেন্দ্রে হাওয়া কেমন লোকসভার নিরিখে?
লোকসভা ভোটে নন্দীগ্রামে তৃণমূল এগিয়েছিল। এদিকে এবারে দাদা বনাম দিদির লড়াইয়ে জমে উঠেছে নন্দীগ্রামের মেগা ব্যাটল গ্রাউন্ডের ভোট। ২০১৯ লোকসভা ভোটে অধিকারীদের দাপটে থাকা নন্দীগ্রামে তৃণণূল কার্যত বিজেপিকে দাঁত ফোটাতে দেয়নি। তৃণমূলে ১ লাখের বেশি ভোট পায়। সেখানে বিজেপি ৬৬ হাজারের ঘরে ছিল। নন্দকুমারে তৃণমূল পেয়েছিল ৯৭ হাজারের বেশি ভোট। বিজেপি সেখানে ৮২,১১৬টি ভোট পায়। কংগ্রেস দুহাজার ও বামেদের তরফে সিপিএম ২৪,৯১৮ টি ভোট পেয়েছে। মহিষাদল আসনে তৃণমূল লিডে ছিল। তারা পেয়েছিল ৯৬ হাজারের একটু বেশি ভোট। বিজেপি পায় ৭৯ হাজারের কয়েকশো বেশি ভোট। বামেদের দখলে ২১,৮৩৫ টি ভোট যায়, কংগ্রেস ২৪২৮ টি ভোট পায়। হলদিয়ায় তৃণমূল ১,২৫,২৯৬ ভোটে লিড পায়। পাঁশকুড়া পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বিজেপি এগিয়ে যায় এই কেন্দ্রে। বিজেপি এখানে ভোট পেয়েছে ৯৭,৫২৮ টি। তৃণমূল ভোট পেয়েছে ৯৪,৬৮৩ টি। সিপিএমের দখলে ছিল ১৩ হাজারের বেশি কিছু ভোট। পাঁশকুড়া পূর্ব কেন্দ্রে তৃণমূল ২০১৯ সালের ভোটে এগিয়েছিল ।

মেদিনীপুরের বুকে বাকি আসনে কী হাওয়া ?
ঘাটাল আসনে ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে সবং আসন থেকে তৃণমূল লিড নিতে শুরু করে। উল্লেখ্য, এই ঘাটাল আসনে ২০১৯ সালে ভোটে লড়েছেন তৃণমূলের দেব বনাম বিজেপির ভারতী ঘোষ। এই লোকসভা আসনের অন্তর্গত রয়েছে সবং, পিংলা, ডেবরা দাসপুর, ঘাটাল, কেশপুর বিধানসভা আসন। পিংলাতে তৃণণূল ৯৯,৭৬০ টি ভোটে লিড নেয়। বিজেপি তার থেকে পিছিয়ে থেকেও ৯৮ হাজারের কিছু বেশি ভোট পায়। ডেবরা থেকে এগিয়ে ছিল বিজেপি। তৃণমূলের সঙ্গে তাদের ফারাক ছিল ৩ হাজারের কিছু বেশি ভোটের। দাসপুর আসনে তৃণমূল পেয়েছে ৯৯,২৪৬ টি ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৮৯ হাজারের কিছু বেশি ভোট। সিপিএম ১৭ হাজারের কিছু বেশি ভোট পায়।

কেশপুর থেকে চন্দ্রকোণায় কী ঘটেছিল?
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটের নিরিখে কেশপুরে তৃণমূল ১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে যায়। বিজেপির দখলে ছিল ৫২ হাজারের কিছু বেশি ভোট। সিপিএম এখানে সেভাবে লড়াই দিতেই পারেনি সেবার। চন্দ্রকোণাতে তৃণমূল ১ লাখর বেশি ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিল বিজেপির থেকে। এই কেন্দ্র আরামবাগ লোকসবার অধীনে। এদিকে, নারায়ণগড় খড়গপুরে বিজেপি দাপট ধরে রাখে। চণ্ডীপুর কেন্দ্র থেকে এবার তৃণমূলের প্রার্থী সোহম। যাংর বিপক্ষে রয়েছেন বিজেপির পুলককান্তি গুড়িয়া। রয়েছেন সিপিমের আশিস গুছাইত। এই কেন্দ্রে ২০১৬ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী।

২০১৬র বিধানসভা ফলাফলের নিরিখে মেদিনীপুর
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ আসনের মধ্যে ১৩ টিতে জয় পায় তৃণমূল। ৩ টিতে জেতে বামেরা। পশ্চিম মেদিনীপুরের ১৯ টি আসনের মধ্যে ১৭ টি আসনে জয় পায় মমতার দল। একটি আসনে ইউপিএ ও আরেকটিতে এনডিএ জিতে যায়।












Click it and Unblock the Notifications