মমতার ‘প্রলেপে' বদলাল রাজনীতির মেজাজ, খগেনকে দেখতে গিয়ে ক্ষত সারানোর উদ্যোগে তৃণমূল
গত কয়েক দিনের দুর্যোগ ও রাজনীতির পর মঙ্গলবার শিলিগুড়ির হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি যেন এক নতুন মোড় এনে দিল রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে। আহত বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুকে দেখতে গিয়ে মমতা যেভাবে সহমর্মিতা দেখালেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হওয়া 'ক্ষত' তে প্রাথমিক প্রলেপ পড়েছে বলেই মনে করছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

রবিবার থেকে মঙ্গলবার এই দুদিনে তৃণমূল যেন ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল। উত্তরবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে যখন বহু মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে যাচ্ছে, তখন মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা গিয়েছিল রেড রোডে পুজো কার্নিভালে। বেহালা হাতে মমতার ছবি ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় হয়েছিল। বিজেপি থেকে বিরোধীরা তুলনা টেনেছিল সম্রাট নিরোর সঙ্গে। এমন প্রচারে দলের অন্দরে এমনকি বাইরেও অস্বস্তি বাড়ছিল।
দলের একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর উচিত ছিল কার্নিভালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে উত্তরবঙ্গে রওনা দেওয়া। অন্যদিকে, মমতা নিজে দাবি করেন, "রবিবার ভোর থেকেই পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছিলাম। কার্নিভাল বাংলার গর্ব, ক্লাবগুলোর সারা বছরের অপেক্ষার ফল। কোনও বিপর্যয়ের পর কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগে।"
তবে সোমবার মমতা উত্তরবঙ্গে পৌঁছনোর আগেই ঘটে যায় আরেক বিতর্কিত ঘটনা, নাগরাকাটায় আক্রান্ত হন বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু ও বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। রক্তাক্ত ছবিগুলি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা সরব হয়, পাশাপাশি তৃণমূলের একটি অংশও প্রথমে ঘটনাকে 'জনরোষ' বলে ব্যাখ্যা দেয়। পরে মুখ্যমন্ত্রী নিজে বলেন, "এই ঘটনা কাম্য নয়।" সেই বক্তব্যের পর দলও একক সুরে বলতে শুরু করে 'হামলা নয়, এখন দুর্যোগ মোকাবিলাই অগ্রাধিকার।'
এই মুহূর্তে যখন বিজেপি উত্তরের বিপর্যয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, তখন মমতার শিলিগুড়ি হাসপাতালের সফর পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। খগেনের কেবিনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর খোঁজ নেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। রাজনৈতিক সৌজন্যের এই পদক্ষেপে তৃণমূলের নেতারা যেন নতুন উদ্দীপনা পেয়েছেন। কেউ লিখেছেন "রাজনীতি যার যার, দিদি সবার।" কেউ তুলনা টেনেছেন নন্দীগ্রামের ঘটনার সঙ্গে "যখন দিদির পা ভেঙেছিল, তখন বিরোধীরা কটাক্ষ করেছিল, আর আজ দিদি আহত বিরোধী সাংসদের পাশে দাঁড়ালেন।"
রাজনীতির ময়দানে এই পদক্ষেপে যে তৃণমূল খানিকটা 'ক্ষত মেরামত' করতে পেরেছে, তাতে দ্বিমত নেই। বিজেপি যেভাবে কার্নিভালের ছবি দিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেছিল, মঙ্গলবারের হাসপাতাল সফরের ছবিই এখন তৃণমূলের হাতে পাল্টা অস্ত্র।
এদিকে উত্তরবঙ্গের আকাশ যেমন ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে, তেমনই রাজনীতির মেঘও কিছুটা সরে যাচ্ছে। যদিও মৃত্যু ও ক্ষয়ক্ষতির দগদগে চিহ্ন এখনও রয়ে গেছে। প্রায় ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন, বহু মানুষ নিখোঁজ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পর অন্তত রাজনৈতিক আবহে যেন নতুন এক সুর এনেছে যা সহমর্মিতা, সংযম ও নিয়ন্ত্রণের।












Click it and Unblock the Notifications