৯০ দশকে বাংলায় কংগ্রেসের অবস্থা কি বর্তমান বিজেপির, ভোট প্রচারেও উঠছে প্রশ্ন! অঙ্ক জটিল, বলছেন বিশ্লেষকরা
ভবানীপুরে উপনির্বাচন (by election)। নির্বাচন কমিশনের দিন ঘোষণার দিন থেকেই ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (trinamool congress) । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (mamata banerjee) যে এই আসন থেকে জয়ী হবেন, তা আর বলার
ভবানীপুরে উপনির্বাচন (by election)। নির্বাচন কমিশনের দিন ঘোষণার দিন থেকেই ভোটের প্রচার শুরু করে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস (trinamool congress) । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (mamata banerjee) যে এই আসন থেকে জয়ী হবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। জয়ের ব্যবধান করত হবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন। অন্যদিকে এই কেন্দ্রের উপনির্বাচন নিয়ে বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই রাজ্যে বিজেপির অবস্থা গত শতকের ৯০ দশকের কংগ্রেসের অবস্থার মতো নয়তো, ঘুরপাক খাচ্ছে জটিল অঙ্ক।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা ঘিরেই প্রশ্ন
নির্বাচন কমিশনের তরফে ভবানীপুরের উপনির্বাচন নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের চিঠিকে হাতিয়ার করা হলেও, ভবানীপুরে উপনির্বাচনের নির্দেশিকাকে ঘিরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যেখানে সারা দেশে ৩১ টি আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা সেখানে ভবানীপুর আর ওড়িশার একটি আসনে উপনির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণ ভাবে যে আসন আগে খালি হয়, সেই আসনে আগে উপনির্বাচন করে এসেছে নির্বাচন কমিশন। সেক্ষেত্রে এই রাজ্যে আগে উপনির্বাচন হওয়ার কথা দিনহাটা কিংবা শান্তিপুরে। কেননা এই দুই আসন প্রথম খালি হয়েছিল দুই বিজেপি সাংসদ ছেড়ে দেওয়ায়। পরবর্তী সময়ে ভবানীপুর থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভবানীপুর আসনে ইস্তফা দিয়েছেন। আর রাজ্যে যখন উপনির্বাচনের কথা ঘোষণা করা হল, সেই সময় বাকি রাখা হল রাজ্যেই আরও চার আসনের উপনির্বাচন। যা সমান অধিকারের প্রশ্নের বিরুদ্ধে।

মুখ্যসচিবের অবস্থানেও প্রশ্ন
অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের অবস্থানেও প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একজন মুখ্যসচিব হলেন, রাজ্যের সব আধিকারিকদের প্রধান। প্রশাসনিক গঠনগত কারণে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ওপরে। একজন মুখ্যসচিব কখনই তাঁর পলিটিক্যাল মাস্টারকে জিতিয়ে আনার দায়িত্ব নিতে পারেন না বলেও মন্তব্য করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। কেননা এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকেই যায়, মুখ্যসচিব কী করে জানলেন কোথা থেকে দাঁড়াবেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তো রাজ্যের রাজনৈতির সঙ্গে পিছন থেকে নয়, সরাসরি জড়িয়ে পড়লেন!

প্রভাবশালীর দ্বারা প্রভাবিত নির্বাচন কমিশন
নির্বাচন কমিশন স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, অন্তত এমনটাই বলে দেশের সংবিধান। কিন্তু কোনও জায়গায় সেই সংস্থাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলেই চলতে হয়। অনুমতিও নিতে হয়। বিশেষ করে ভোটে বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে। ফলে ভবানীপুরে উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত যে নির্বাচন কমিশনের একার, তা কোনওভাবেই বলা যাবে না। আর এবিষয়টি যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দৃষ্টির অগোচরে হয়েছে, তা কখনই বলা যাবে না। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রভাবশালীর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং আরএসএস রাজি হয়েছে বলেই...
তৃণমূলের তরফে চারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে ভবানীপুরের উপনির্বাচন নিয়ে দরবার করা হয়েছে। কিন্তু সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে তো কেউ তো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি-আরএসএস শর্তের বিনিময়ে এই কাজে রাজি হয়েছে। কেননা বাংলায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যেখানে কোনও সাংবিধানিক সংকট দেখা দিতে পারে। ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাঁড়ানোর মতো অন্য আসনও ছিল।

তৃণমূলের ভবিষ্যত পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন
এই সিদ্ধান্তের প্রতিদান তৃণমূলকে দিতে হবে। সেক্ষেত্রে তাদের ভবিষ্যত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। কেননা একটু খেয়াল করে পিছনে ফিরে গেলেই দেখা যাবে ২০১৪-র পর থেকে তৃণমূলের অনেক সিদ্ধান্তই মোদী সরকারকে সাহায্য করেছে। সেইসব সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোটারের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। ২০১৪-র পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে চিটফান্ড কাণ্ডে তদন্ত চলছে। এই তদন্ত প্রক্রিয়া কখনও দ্রুত হয়েছে, আবার কখনও তা স্লথ হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাশ করাতে হবে। যেখানে কংগ্রেস-সহ সব বিরোধীরা বিরোধিতা করছে। সেই পরিস্থিতিতেতে তৃণমূল সেই বিলকে সমর্থন করেছে কিংবা ওয়াকআউট করে বিল পাশে সাহায্য করেছে।

বিরোধী ভোট বিভাজনের চেষ্টায় বিজেপি
মোদী সরকারের বয়স সাত বছর। আরও তিন বছর পরে সাধারণ নির্বাচন। একটা প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া যে বইবে, তা সবাই জানেন। সে ইন্দিরা গান্ধীর জমানাতেও হয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া মোকাবিলা করার অন্য পন্থাও রয়েছে। সেখান থেকে যদি বিরোধী ভোটকে ভাগ করিয়ে দেওয়া যায় কিংবা আঞ্চলিক দলকে ম্যানেজ করা যায়, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠান বিরোধিতাকেও জয় করা সম্ভব। সেই পরিস্থিতিতে যদি তৃণমূলকে ভবিষ্যতে দেখা যায়, কংগ্রেসের বিরোধিতা করে বিরোধীদের জোট বাধার চেষ্টা করছে, তাহলে তাতে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না। কেননা ইতিমধ্যেই তারা কখনও রাহুল কিংবা কখনও কংগ্রেসকে এড়িয়ে গিয়েছে।

৯০ দশকের কংগ্রেসের অবস্থা রাজ্য বিজেপির নেতা-কর্মীদের
বর্তমান পরিস্থিতিতে ৯০ দশকের কংগ্রেসের অবস্থা রাজ্য বিজেপির নেতা-কর্মীদের। ভবানীপুরে উপনির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন খারাপ প্রভাব পড়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
গত শতকের ৯০-এর দশকে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্যে শাসক বামেদের সম্পর্কের কথা করাও অজানা নয়। কেন্দ্রে কংগ্রেসকে সমর্থন করেছে বামেরা। প্রত্যুত্তরে রাজ্যে কংগ্রেস আন্দোলন বিমুখ থেকেছে। আন্দোলন করতে না পারার কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূলের জন্ম।
খানিকটা সেই রকমই রাজ্যে যখন বিজেপির নিচু তলার কর্মীরা অপেক্ষা করছিলেন ভবানীপুরে উপনির্বাচন না হলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী করেন। সেই সময় তাদের বিশ্বাসটাই ভেঙে দিয়ে নির্বাচন ঘোষণা। আর এই পরিস্থিতিতে ভবানীপুরে শুধু কেন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হল, তার সদুত্তর দিতে পারছেন না, রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ কিংবা শুভেন্দু অধিকারী, কেউই। কোনও একটি রাজ্যে ক্ষমতা দখলের থেকেও বড় প্রশ্ন হয়ে ওঠে দেশের ক্ষমতা দখল করবে কে।
অদূর ভবিষ্যতে কী হবে, তার জন্য অপেক্ষায় থাকা গেলেও, বেশ কিছু বিজেপি বিধায়কের দলবদল এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। সেই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিজেপি রাজ্যে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেখিয়ে ফেলেছে। এবার নিচের দিকে নামার পালা। যার জেরে আগামী নির্বাচনে যদি নরেন্দ্র মোদীকে প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখাও যায়, সেক্ষেত্রে বিজেপির আসন সংখ্যা কমবে বলেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications