নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ চলাকালীন হাওড়ায় বহিরাগতরাই অশান্তি ছড়িয়েছে, দাবি পুলিশের
নাগরিকত্ব সংকটের মাঝেই গোটা দেশের সাথে পুড়ছে বাংলাও। রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে প্রত্যহ আসছে অশান্তির খবর। বিগত কয়েকদিন থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে সরগরম ছিল হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। এবার সিএএ বিরোধী হাওড়ার অশান্তিতে এবার 'বহিরাগত’ তত্ত্ব খাড়া করলো হাওড়া সিটি পুলিশ।

গত সপ্তাহের শনিবার থেকে হাওড়ার উলুবেড়িয়া, সাঁকরাইল, মানিকপুর, বাঁকড়া এবং কোনা এক্সপ্রেসের গরফা এলাকায় একাধিক তাণ্ডবের ছবি সামনে আসে। হাওড়া সিটি পুলিশের দাবি বহিরাগত দুষ্কৃতিরা মিলেই ওই সব এলাকায় পরিকল্পনা মাফিক দাঙ্গা বাঁধায়। হাওড়ার পুলিশ কমিশনার গৌরব শর্মা এই প্রসঙ্গে বলেন, '' বর্তমানে বহিরাগত দুষ্কৃতীদের ২ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বাকিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। তবে তাদেরকেও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।’’
পুলিশ সূত্রে খবর, সোমবার সকাল থেকেই হাওড়ার অঙ্কুরহাটি সহ বাঁকড়ার কবর পাড়া সংলগ্ন এলাকায় নয়া নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলছিল। পাশাপাশি সকাল থেকেই হাওড়া সিটি পুলিশের পক্ষ থেকে বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকায় বিক্ষোভকারীদের রাস্তা অবরোধ কর্মসূচী সফল হয়নি। পরবর্তীকালে দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীদের বহিরাগতরা মিশে গিয়ে তাদের উস্কনী দেয় বলে পুলিশের দাবি। তারপরই একটা বড় মিছিল অঙ্কুরহাটির ভিতর দিয়ে এসে প্রথমে সলপ মোড়ে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে। তারপরই অবরোধ তুলতে পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটায় পুলিশ। কিন্তুই তখনই কোথা থেকে যেন 'পুলিশ গুলি চালিয়েছে’ গুজব রটে যায় বলে জানায় পুলিশ। এরপরই পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা, পাথর ছুঁড়তে শুরু করে বিক্ষুব্ধ জনতা। একাধিক বাস সহ মোট ১০টি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের দাবি, প্রায় ২৫০ জন দুষ্কৃতীদের দল দু’টি ভুটভুটি করে গত শুক্রবার কলকাতা থেকে জলপথে প্রথমে হাওড়ায় ঢোকে। পরে গঙ্গা পেরিয়ে তারা উলুবেড়িয়ায় পৌঁছায়। সেখানে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের উলুবেড়িয়া স্টেশন প্রথমে লুঠপাট চালায়। পুলিশের আরও দাবি এই দলটিই পরের দিন সাঁকরাইল স্টেশন ভাঙচুরের পর আশ্রয় নেয় হাওড়ারই জগাছার সুলতানপুরের বোকোপাড়া এলাকায়।












Click it and Unblock the Notifications