তৃণমূলের পার্টি অফিসে বিধায়কের জন্মদিন পালন পূর্বস্থলীর আইসি-র, খড়দহেও TMC-র মঞ্চে উর্দিধারী পুলিশ
পূর্ব বর্ধমানের কালনার সাতগাছি গ্রাম পঞ্চায়েত ও হুগলির আরামবাগে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী পঞ্চায়েত সদস্যদের সংবর্ধনা মঞ্চে দেখা গিয়েছিল কলকাতা ও রাজ্য পুলিশের দুই পুলিশকর্মীকে। দুজনেই সংবর্ধিতও হন।
তৃণমূল-পুলিশ মিলেমিশে একাকার, অভিযোগে সরব বিরোধীরা। এরই মধ্যে ফের একইরকম দুটি ঘটনা সামনে এলো। একটি পূর্ব বর্ধমানে, অপরটি উত্তর ২৪ পরগনায়।

পূর্বস্থলী উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়ের জন্মদিন ছিল ১৫ অগাস্ট। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিধায়ক। এ পর্যন্ত ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু বিধায়কের জন্মদিনে বড় বিতর্কে জড়ালেন পূর্বস্থলী থানার আইসি সন্দীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কিছু ছবি ও ভাইরাল হয়েছে। যাতে দেখা যাচ্ছে, বিধায়কের পার্টি অফিসে হাজির হয়েছেন পূর্বস্থলীর আইসি। তবে উর্দি পরে নয়। লাইটার দিয়ে মোমবাতি জ্বেলে, কেট কেটে তা বিধায়ককে খাওয়াতেও দেখা যায় আইসিকে। উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গেও বিধায়কের বার্থডে সেলিব্রেশনে মাতেন পূর্বস্থলী থানার ওই আধিকারিক। যা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে আইসি সন্দীপ কুমার গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বিধায়ক তাঁকে ডেকেছিলেন। তিনি জানতেন না ওইদিন বিধায়কের জন্মদিন, তার সেলিব্রেশন হবে। সেখানে গিয়ে যেটা হয়েছে সেটা নিছকই সৌজন্য। তিনি নিজে যে নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছেন তা জনগণের কাছ থেকে যাচাইয়ের কথাও বলেছেন বিতর্কে জড়ানো পুলিশ আধিকারিক।

যদিও বিধায়ক দাবি করেন, তিনি পুলিশ আধিকারিককে আমন্ত্রণ জানাননি। কেউ জন্মদিন উদযাপনের সময় চলে এলে তাঁকে চলে যেতে বলা শোভনীয় নয় বলেও দাবি তৃণমূল বিধায়কের। গোটা ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহেও তৃণমূলের দলীয় মঞ্চে দেখা গিয়েছে পুলিশ আধিকারিককে। রীতিমতো উর্দি পরে টিটাগড় পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলের তকফে আয়োজিত খেলা হবে দিবসের অনুষ্ঠানে হাজির হন খড়দহ থানার আইসি রাজকুমার সরকার। যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী, তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলরের সঙ্গে পুলিশ অফিসার সংবর্ধিতও হন।
এরপর তৃণমূল কাউন্সিলরদের হুঁশিয়ারি দিয়ে খড়দহ থানার আইসি বলেন, দলের কাউন্সিরদের উপরই নির্ভর করবে বিধায়কের ভাবমূর্তি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে মানুষের জন্য কাজ করুন। অসামাজিক কাজ করবেন না। তোলাবাজি করবেন না। আমি যদি আপনাদের নিরাপত্তা দিতে না পারি তাহলে এই জায়গায় থাকার যোগ্যতা আমার নেই। সোজা বিধায়ককে জানাবেন, এই লোকটা কাজ করেন না, একে রাখবেন না।
এ প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা কিশোর কর বলেন, তৃণমূল দলটা এখন পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করছে। বিরোধীদের শায়েস্তা করার পাশাপাশি তৃণমূলের কাউন্সিলরদের তোলাবাজি না করার বার্তা দিচ্ছে পুলিশ! শাসক দলের নেতাদের সুরেই কথা বলছেন পুলিশ আধিকারিক। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, দলের কী অবস্থা, পুলিশের নিরপেক্ষতা কোন জায়গায় গিয়েছে!
(ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া)












Click it and Unblock the Notifications