'শহিদ সম্মান যাত্রা'য় বাধা, গ্রেফতার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী! গণতন্ত্রের হাড়-পাঁজর বেরিয়ে পড়েছে, বিস্ফোরক দিলীপ
'শহিদ সম্মান যাত্রা'য় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের বাধা! গণতন্ত্রের হাড়-পাঁজর বেরিয়ে পড়েছে, বিস্ফোরক দিলীপ
রাজ্যের চার জায়গা থেকে বিজেপির শহিদ সম্মান যাত্রা (shahid samman yatra) । এদিন যাত্রা শুরু পরেই তাতে অনুমতি না থাকা নিয়ে তা পুলিশির বাধার মুখে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় বিজেপি কর্মী সমর্থকদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু সেনকে। এদিন শহিদ সম্মান যাত্রা শুরুর আগে মুরলীধর সেন লেনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কর্মসূচির আগেই দলীয় নেতা-কর্মীদের গ্রেফতারিতে শাসকদলের পাশাপাশি প্রশাসনকে নিশানা করেন তিনি।

চার প্রান্তে শহিদ সম্মান যাত্রা
এদিন দলীয় সদর দফতর থেকে বাঁকুড়া পর্যন্ত শহিদ সম্মান যাত্রা শুরু করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুভাষ সরকার। অন্যদিকে বিমানবন্দর থেকে বনগাঁ পর্যন্ত যেতে কর্মসূচি শুরু করেন মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। উত্তরবঙ্গের দুই মন্ত্রী জন বার্লা এবং নিশীথ প্রামাণিক বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে যথাক্রমে আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। নির্দিষ্ট যাত্রা পথে কেন্দ্রের নতুনমন্ত্রীরা নিহত দলীয় নেতা-কর্মীদের বাড়িতে যাবেন।

দলীয় সদর দফতর থেকে যাত্রা শুরু সুভাষ সরকারের
দলীয় সদর দফতরে দলের রাজ্য সভাপতির সঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলন করার পরে বাঁকুড়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, এবার ভোট পর্বে এবং পরবর্তী সময়ে দলের যে সব কর্মী নিহত হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সম্মান জানাতেই এই কর্মসূচি। কলকাতায় দলীয় রাজ্য দফতর থেকে যাত্রা শুরুর পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী েসাজা চলে যান বেলুড় মঠে। বেলুড় মঠের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখে তিনি যাত্রা শুরু করেন বাঁকুড়ার উদ্দেশে।

বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরেই বাধা, গ্রেফতার মন্ত্রী
এদিন কলকাতা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর পরেই গৌরীপুর কালীবাড়ির কাছে যাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে সেখানে পুজো দিতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পুলিশ সেখান থেকে বিজেপির ট্যাবলো তুলে নিয়ে যায় এবং বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করে। যা নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। কোভিড প্রোটোকল না মানার কারণে এই গ্রেফতার বলে জানানো হয়েছে পুলিশের তরফ থেকে। পরে সেখান থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকু, বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার-সহ পাঁচ বিধায়ককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বাগডোগরা থেকে যাত্রা শুরু দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
অন্যদিকে বাগজোগরা বিমানবন্দ্র থেকে শহিদ সম্মান যাত্রা শুরু করেন অপর দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বার্লা এবং নিথীশ প্রামাণিক। দুইমন্ত্রীকে ঘিরেই বাগডোগরা বিমানবন্দরে ছিল বিজেপি নেতা-সমর্থকদের ভিড়। এদিন জন বার্লা বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পরে পঞ্চানন মোড়, শিলিগুড়ি পার্টি অফিস, মিলন মোড় পার্টি অফিস, কার্শিয়ং হয়ে দার্জিলিং যাবেন।

শিলিগুড়িতে ধুন্ধুমার
এদিন শিলিগুড়িতেও ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। শিলিগুড়ির হাসমি চকে যুব সংকল্প যাত্রা কর্মসূচি চালানোর সময় পুলিশ বিজেপি কর্মীদের বাধা দেয়। সেই সময় বিজেপি কর্মীদের হাতে ছিল বিশাল জাতীয় পতাকা। ভোর থেকেই জমায়েত শুরু হয়েছিল। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে পুলিশ কর্মসূচিতে বাধা দেয়। জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনও জমায়েত করা যাবে না। পাল্টা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে বচসায় জড়ান বিজেপির নেতা-কর্মীরা। বিজেপি কর্মীদের আটক হওয়া দেখে কর্মীদের পাশে দাঁড়ান শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এরপর তিনি জোর করেই পুলিশের গাড়িতে উঠে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের তরফে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে, বিজেপির কর্মসূচিতে পুলিশের কোনও অনুমতি ছিল না। তবুও জোর করেই কর্মসূচির আয়োজন হওয়ায় বিজেপি কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
পরে এই ঘটনা নিয়ে টুইট করে দার্জিলিং-এর সাংসদ রাজু বিস্তা প্রশ্ন করেন, এই বাংলায় কি জাতীয় পতাকা নিয়ে যাওয়াও অপরাধ?

দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
দিলীপ ঘোষ এদিন কর্মসূচি শুরু আগেই পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে শাসকদলের পাশাপাশি প্রশাসনকে নিশানা করেন। তিনি বলেন, এক ভয় কিসের। এরাজ্যে বিজেপির ৭৭ জন বিধায়ক এবং ১৮ জন সাংসদ রয়েছেন। তাঁদের জনগণ স্বীকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তা মানতে চাইছে না। রাজ্যে গণতন্ত্রের হাড়-পাঁজড় বেরিয়ে পড়েছে বলে কটাক্ষ করেন তিনি। কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, যে পদ্ধতিতে রাজ্যে গণতন্ত্র রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে তা নিন্দাজনক ও দুঃখজনক। তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, একদিকে তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে অন্যদিকে সংসদ অচল করে দেওয়া হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications