শহরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী, কড়া নিরাপত্তার মাঝেও বিক্ষোভের আশঙ্কা
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সহ একাধিক ইস্যুতে রাজ্য জুড়ে চলছে একাধিক প্রতিবাদ ও আন্দোলন কর্মসূচি। নানা জায়গায় চলছে বিক্ষোভ। তারই মধ্যে শনিবার শহরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে আগে থেকেই বিক্ষোভকারীদের এই নয়া আইনের বিরোধিতায় একাধিক কর্মসূচি ছকে রাখা রয়েছে।

তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভকারী বড় চ্যালেঞ্জ রাজ্য তথা কলকাতা পুলিশের। আর সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী আসার আগে থেকেই ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেখানে বিমানবন্দরে নামা থেকে গঙ্গার ঘাট গন্তব্যে পৌঁছানো পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে টক্কর নেবেন বিধান নগর পুলিশ ও কলকাতা পুলিশ।
সূত্রের খবর, শনিবার বিকেলে কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে ভিআইপি রোডে হয়ে মা উড়ালপুর দিয়ে বিবাদীবাগে আসতে পারেন তিনি। আবার বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্সে হেলিকপ্টারে চেপেও আসার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ বিবাদীবাগ চত্বরে কারেন্সি বিল্ডিংয়ে পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে মিলেনিয়াম পার্কে হাওড়া সেতুর 'লাইট অ্যান্ড সাউন্ড' সূচনা করবেন। এছাড়াও বেলুড় মঠে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তার। শনিবার রাতে বিশ্রাম নিয়ে ১২ জানুয়ারি রবিবার রাজভবন থেকে নেতাজি ইন্ডোরে যাওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের ১৫০ তম বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মোদী। তারপর কপ্টার চেপে পৌঁছবেন বিমান বন্দরে।
জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তার জন্য মোট চার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থাকছে অতিরিক্ত ফোর্সও। ২০ জন ডিসি, ৩২ জন এসি। বিমানবন্দর থেকে বিধাননগর হয়ে আসার পথে হাডকো ক্রসিং থেকে নারকেলডাঙা হয়ে চিংড়িঘাটা ক্রসিং পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন ডিসি। তাঁকে সহযোগিতা করবেন দু'জন এসি। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ৪ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার, ১৬ জন সার্জেন্ট, ১৬ জন এএসআই এবং ৮০ জন সশ্রস্ত্র পুলিস। একইসঙ্গে রাস্তায় থাকবেন ৪০ জন লাঠিধারী হোমগার্ড। যারা সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করবে। এখন নারকেলডাঙা মেন রোড থেকে মা উড়ালপুল পর্যন্ত রাস্তাটিকে ভাগ করা হয়েছে আরও ৮টি সেক্টরে।
মা উড়ালপুলে দায়িত্বে থাকবেন দু'জন ডিসি। সঙ্গে ৮ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার ও ১১৮ জন সশস্ত্র পুলিসকর্মী মা উড়ালপুলে নজরদারি চালাবেন। মা উড়ালপুল থেকে ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিং পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা ডিসিকে সহযোগিতা করবেন ৩ জন এসি। তাঁর সঙ্গে থাকবেন ৬ জন ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার ও ১৩০ জন সশস্ত্র পুলিসকর্মী। মা উড়ালপুলের আশপাশের ছাদ থেকে বিশেষভারে নজরদারি চালানো হবে। নজরদারি চালাবে বায়নোকুলারধারী পুলিসকর্মীরা। একইসঙ্গে থাকবেন সয়ংক্রিয় রাইফেলধারী পুলিসকর্মীরা।
পুরো যাত্রা পথে প্রতিটি সেক্টরে ২টি করে মোটরসাইকেল পেট্রোল, ২টি করে পিসিআর ভ্যান থাকবে। যে কোনও জরুরি অবস্থায় যোগাযোগের জন্য কাজ করবে ভ্যানগুলি। প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরসিটিসি হেলিপ্যাড থেকেও ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিং পর্যন্ত নজরদারি চালানো হবে। সড়কপথ ছাড়াও এয়ারপোর্ট থেকে রেসকোর্স পর্যন্ত আসার জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে হেলিকপ্টারও। এর জন্য একজন অতিরিক্ত ডিসিকে রাখা হচ্ছে। এরপর ওল্ড কারেন্সি বিল্ডিং থেকে মিলিনিয়াম পার্ক পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবেন ২ জন ডিসি, ৪ জন এসি।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর, সড়কপথে এলে যে কোনও জায়গায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে পারেন তিনি। ফলে, রাস্তার দু'ধারে কলকাতা এবং বিধাননগর পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে।
মিলেনিয়াম পার্কের ফেয়ারলি প্লেসের জেটি ঘাট থেকে জলপথে বেলুড়মঠ যেতে পারেন প্রধান মন্ত্রী। সেইজন্য জলপথে থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘাটে ও জেটিতে থাকবে সশস্ত্র পুলিসি প্রহরা। পুরো পথের দায়িত্বে থাকবেন ২ জন এসি। একইসঙ্গে রিভার ট্রাফিক পুলিসের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদা অফিসার থাকবেন বিশেষ বোটে। যিনি প্রধানমন্ত্রীকে এসকর্ট করে নিয়ে যাবেন। এই বোটে থাকবেন বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ২ জন ডিএমজি অফিসারও। এছাড়া ডিএমজির একটি বোটও থাকবে জলপথের কনভয়ে। বেলুড়মঠ থেকে রাজভবনে ফেরার পথেও থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। তার নেতৃত্বে থাকবেন একজন ডিসি।
অন্যদিকে রবিবার এনআরসি ইস্যুতে কয়েকটি সংগঠন রাজভবন ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। তাই রাজভবন ঘিরে থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। রাজভবন থেকে ইন্ডোরে যাওয়ার পথে কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হতে পারে প্রধানমন্ত্রীকে। সেইজন্য আকাশবাণী থেকে ইন্ডোর পর্যন্ত নিরাপত্তার জাল বিছানো থাকবে। দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম কমিশনার অপরাধ।












Click it and Unblock the Notifications