বাংলায় ভাষণ শুরু করে ক্ষমা প্রার্থনা! কৃষ্ণনগর থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ প্রধানমন্ত্রী মোদীর
কৃষ্ণনগরে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে জনসভার মঞ্চ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী মোদী গেলেন হুডখোলা জিপে। এইভাবেই শনিবার জনসংযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দুই পাশে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।
প্রধানমন্ত্রী এদিন ভাষণ শুরু করেন বাংলায়। তারপরে হিন্দিতে চলে যান এবং ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ময়দান ছোট হয়ে গিয়েছে এদিনের সভার জন্য। তিনি সবাইকে যে যেখানে রয়েছেন, সেখানেই উপস্থিত থেকে ভাষণ শুনতে অনুরোধ করেন। তিনি স্লোগান তোলেন, এইবার..সমবেত জনগণ বলেন চারশো পার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুক্রবার ও শনিবার মিলিয়ে বাইশ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা শিলান্যাস করা হয়েছে। বাংলার জনগণের উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। তৃণমূল সরকার বাংলাকে নিরাশ করেছে বলেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তৃণমূল মানে দুর্নীতি, বিশ্বাসঘাতকতা, তৃণমূল মানে পরিবারবাদ। তৃণমূল বাংলার মানুষকে গরিব করে রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বাংলায় বলেন, মোদীর গ্যারান্টি মানে, সেই গ্যারান্টি পূর্ণ হওয়ার গ্যারান্টি। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গকে প্রথম এইমসের গ্যারান্টি দিয়েছিলাম। তা হয়েছে। কল্যাণীতে এইমস তৈরি হওয়ায় তৃণমূল সরকার মুশকিলে পড়েছে। তৃণমূল সরকার এই বড় হাসপাতাল পরিবেশগত অনুমতি দিতে বাধা দিচ্ছে। তিনি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে।
প্রধানমন্ত্রীর মুখে এদিন উঠে এসেছে সন্দেশখালির প্রসঙ্গ। তিনি বলেছেন, রাজ্য সরকার চায়নি সন্দেশখালির অপরাধী গ্রেফতার হোক। এখানকার মা-মাটি-মানুষ কাঁদছে। বিজেপির চাপে, মা-বোনেদের আন্দোলনে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতারে বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
রাজ্যে বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও প্রকল্প চালু হতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে মনরেগার ২৫ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করেছে তৃণমূল। ফলে গ্রামের গরিবদের কাছে সুবিধা পৌঁছয়নি। রাজ্যে সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম তৃণমূল বদল করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদী এদিন আগামী পাঁচ বছর বিনামূল্যে রেশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। এই প্রকল্পেরও তৃণমূল সরকার নিজেদের স্টিকার লাগাচ্ছে।
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় পনেরো হাজার কোটি টাকার রাজ্যের একাধিক সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন। এর মধ্যে রয়েছে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের উদ্বোধন করেন। ফরাকা থেকে রায়গঞ্জ পর্যন্ত চার লেনের জাতীয় সড়কের উদ্বোধনও করেন। আজিমগঞ্জ-মুর্শিদাবাদ রেল প্রকল্পের উদ্বোধনও করেন তিনি।
শুক্রবার আরামবাগের সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেছিলেন, যারা লুট করেছে, তাদের তা ফেরত দিতে হবে। তিনি বলেছিলেন, এত টাকা সিনেমাতেও দেখা যায়নি। তিনি বলেছিলেন, পরিশ্রমের টাকা লুট হতে দেব না। লুটেরাদের আক্রমণে তিনি ভয় পান না বলে জানিয়েছিলেন।
শুক্রবার মোদী মুখে উঠে এসেছিল শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি প্রসঙ্গ। পুরসভায় নিয়োগে দুর্নীতি ও রেশনে দুর্নীতি প্রশ্নও তিনি তুলেছিলেন। এছাড়া সীমান্তে গরু পাচারের কথাও তিনি তুলেছিলেন। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী ধর্নায় বসে পড়েন। তৃণমূলকে আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, রাজ্যে অপরাধ ও দুর্নীতির নয়া মডেল তৈরি করেছে তৃণমূল সরকার। তিনি বলেছিলেন, মোদী গ্যারান্টি দিচ্ছে ওদের ছাড়া হবে না।
সন্দেশখালির ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সেখানে মা-বেনেদের সঙ্গে যা হয়েছে, তাতে সারা দেশে আক্রোশ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেছিলেন, রাজা রামমোহন রায়ের আত্মা যেখানেই থাকুন না কেন, সন্দেশখালির ঘটনা দেখে কাঁদছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেছিলেন, মুসলিম ভাইবোনেরা তৃণমূলের গুণ্ডারাজকে উপড়ে ফেলবে।












Click it and Unblock the Notifications