দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপারের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, সফরকালে খাদ্যতালিকায় কী কী থাকছে?
দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মালদহে এই কর্মসূচিতে হাজির ছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব-সহ বিশিষ্টরা।
মোদী ট্রেনে খুদে পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলেন। এই ট্রেনের কেটারিং চুক্তি পেল অসমের বিলাসবহুল মেফেয়ার স্প্রিং ভ্যালি রিসর্ট, যা প্রিমিয়াম রেল পরিষেবায় উত্তর-পূর্বের কোনও হসপিটালিটি সংস্থার প্রথম উদ্যোগ।

উত্তরবঙ্গের মালদহ টাউন স্টেশন থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হাওড়া ও গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটের এই ট্রেনটির শুভ সূচনা করেন। মেফেয়ার স্প্রিং ভ্যালি রিসর্ট ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)-এর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কেটারার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা জানিয়েছে। চুক্তির অধীনে স্থানীয় উপাদান দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বিভিন্ন পদ যাত্রীদের পরিবেশন হবে।
মেনুতে থাকছে বাসন্তী পোলাও, ছোলা ও মুগের ডাল, ছানার ও ধোকার পদ, অসমের জোহা চালের ভাত, মাটি মোহর, মসুর ডাল, মরসুমি সবজির ভাজা। এ ছাড়াও রয়েছে সন্দেশ, নারকেলের বরফি ও রসগোল্লার মতো আঞ্চলিক মিষ্টি।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, ট্রেনের মেনুটি রাতারাতি যাত্রার জন্য বিশেষভাবে তৈরি। এতে হালকা মশলাযুক্ত নিরামিষ খাবারের পাশাপাশি মরসুমি উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী রান্নার পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্বাদ অটুট রাখবে।
মেফেয়ার স্প্রিং ভ্যালি রিসর্টের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রতন শর্মা বলেছেন, "আধুনিক খাদ্যতালিকাগত প্রত্যাশা পূরণ করে বাংলা ও অসমের খাঁটি স্বাদ, ঐতিহ্য ও রন্ধনশিল্পের পরম্পরা তুলে ধরতে ট্রেনের প্রতিটি পদ যত্ন সহকারে তৈরি করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, এর লক্ষ্য খাবারের মাধ্যমে যাত্রীদের এক স্থানীয় অনুভূতি ও নিমগ্ন অভিজ্ঞতা প্রদান করা।
হাওড়া-কামাখ্যা বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি প্রায় ১০০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করবে। এতে ফার্স্ট এসি, এসি ২-টায়ার ও এসি ৩-টায়ার সহ ১৬টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ থাকবে, যার মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা প্রায় ৮২৩ জন।
এরগনোমিক বার্থ, স্বয়ংক্রিয় দরজা, উন্নত সাসপেনশন, শব্দ-হ্রাসকারী বৈশিষ্ট্য এবং 'কবচ' অ্যান্টি-কলিশন সিস্টেমের মতো আধুনিক সুবিধা দিয়ে সজ্জিত এই ট্রেন। প্রতি ঘণ্টায় এর অপারেটিং গতি ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত। রেলওয়ে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই পরিষেবা পূর্ব ভারত ও উত্তর-পূর্বের মধ্যে ভ্রমণের সময় কমিয়ে আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করবে। এটি একটি প্রিমিয়াম রাতারাতি রেল বিকল্প হিসাবে চিহ্নিত হবে।












Click it and Unblock the Notifications