Partha Chatterjee: একা পার্থর ‘কুকীর্তি’ হাজার! “না জানিয়েই নথিতে সইসাবুদ,” আদালতে বিস্ফোরক আরও এক আত্মীয়
Partha Chatterjee: আরও বিপদ বেড়ে গেল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বয়ান এবার এক আত্মীয়ের। এর আগে শ্বশুর পার্থর বিরুদ্ধ রাজসাক্ষী হয়েছিলেন জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্য। আর এবার পার্থর বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিলেন আত্মীয় কৃষ্ণচন্দ্র অধিকারী। নিয়োগ দুর্নীতির টাকার লেনদেন সম্পর্কে তিনি অবগত না হলেও তাঁকে দিয়ে শুধু সই করিয়ে নেওয়া হত বলে অভিযোগ কৃষ্ণচন্দ্রের।
আদালতে তাঁর দাবি, পিংলায় বাবলি চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জন্য কৃষ্ণচন্দ্রকে কনস্ট্রাকশনের সুপারভাইজার ও কয়েকটি কোম্পানি ডিরেক্টর করা হয়েছিল। কিন্তু এবিষয়ে তাঁকে কিছুই জানানো হয়নি বলে দাবি। তাঁর অজান্তেই তাঁকে ডিরেক্টর বানিয়ে সমস্ত নথিপত্র সই করিয়ে নেওয়া হত বলে দাবি।

কৃষ্ণচন্দ্র বলেন, "পিংলার স্কুলের জন্য কতটা জমি কেনা হচ্ছে, সে বিষয়ে আমায় জানানো হয়নি। টাকার লেনদেনের কোনও তথ্যও দেওয়া হত না। আমায় শুধু সই করতে বলা হত বিভিন্ন নথিতে। কল্যাণময়ের উপর ভরসা করেই সই করে দিতাম। নামেই সংস্থার ডিরেক্টর ছিলাম।" এদিকে, আদালতে পার্থের কল্যাণময় আগেই জানিয়েছিলেন, সবটাই তিনি করেছেন শ্বশুরের নির্দেশে। অর্থাৎ, দুর্নীতির কিংপিন যে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ই, তা বুঝিয়ে দিলেন কল্যাণময়, কৃষ্ণচন্দ্ররা।
এর আগে শ্বশুরের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হয়ে কেলেঙ্কারির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন কল্যাণময়। প্রাথমিকে নিয়োগে দুর্নীতিতে ইডির করা মামলায় অভিযুক্তদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে কল্যাণময় ভট্টাচার্যের নাম। ইডির আবেদনে আদালত মান্যতা দিয়েছে বলেও খবর। সূত্রের খবর, মঙ্গলবার চতুর্থবারের জন্য ফের সাক্ষ্য নেওয়া হতে পারে কৃষ্ণচন্দ্র অধিকারীর।
ইডির চার্জশিটে লেখা হয়েছিল, পিংলায় পার্থ চ্যাটার্জির স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামে যে স্কুল রয়েছে, সেখানেই পার্থর জামাই কল্যাণময়ের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল। বাবলি চ্যাটার্জি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের জন্য কোটি কোটি নগদ টাকা নিয়েছিলেন কল্যাণময়। প্রথমে স্কুলের জমি কেনা ও পরে কনস্ট্রাকশনের জন্য ১৫ কোটি টাকা নগদ দিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কৃষ্ণচন্দ্রের দাবি, ডিরেক্টর পদে তাঁকে রেখে না জানিয়েই সমস্ত সইসাবুদ করিয়ে নেওয়া হত।
প্রসঙ্গত, ইডির তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বিয়োগের পর প্রয়াতের নামে ট্রাস্ট গড়া হয়েছিল। আত্মীয় ও আস্থাভাজনদের নিয়ে গড়া হয়েছিল বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট। আর সেই ট্রাস্টের মাধ্যমেই চলত জমি কেনা ও স্কুল নির্মাণ। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির টাকা আত্মসাৎ করেই সেই কোটি কোটি টাকা ট্রাস্টে ঢালতেন পার্থ। এমনটাই অনুমান ইডির।












Click it and Unblock the Notifications