দেখতে ভালো হয়নি মেয়ে, সদ্যোজাতকে নিয়ে নিষ্ঠুর বাবা-মা ঘটালেন অমানবিক কাণ্ড
মায়ের সাগর-যাত্রায় বাধ সেধেছিল ছেলে, তাই মা রেগে বলেছিল, ‘চল তোরে দিয়ে আসি সাগরের জলে।’ পরক্ষণেই মায়ের বুক অনুতাপে ভরে উঠেছিল। মায়ের মুখের কথাই সত্যি হয়েছিল সেক্ষেত্রে। কিন্তু এই মা কি নিদর্শন রাখলেন!
মায়ের সাগর-যাত্রায় বাধ সেধেছিল ছেলে, তাই মা রেগে বলেছিল, 'চল তোরে দিয়ে আসি সাগরের জলে।' পরক্ষণেই অনুতাপে ভরে উঠেছিল মায়ের বুক। মায়ের মুখের কথাই সত্যি হয়েছিল সেক্ষেত্রে। কিন্তু এই মা কি নিদর্শন রাখলেন! শুধু কি মা, বাবা ও পুরো পরিবারের সদস্যরাও সায় দেয় কন্যাসন্তানের গঙ্গা-প্রাপ্তিতে। তাই নির্দ্বিধায় সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে তারা ছুঁড়ে ফেলল গঙ্গার বুকে। এক রিকশা চালক ঝাঁপিয়ে পড়ে শেষপর্যন্ত তুলে আনেন সেই শিশুকে। রক্ষা পায় শৈশব।

কিন্তু কোথায় আশ্রয় পাবে অসহয়া শৈশব? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে শিশুর নবজীবন লাভের পর। মা-বাবাই যাকে চায় না, সেই শিশু কোথায় যাবে? এই প্রশ্নের মধ্যেই আমানবিক বাবা-মাকে ধরে ফেলে গণপ্রহার দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রাথমিক স্কুলে আটকে রাখা হয়। পরে গ্রেফতার করা হয় পরিবারের পাঁচ জনকে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়।
কী ছিল সেই শিশুর অপরাধ? জন্মের পর দেখা গিয়েছিল শিশুর ঠোঁট ও নাক স্বাভাবিক নয়। সেই কারণেই শিশুকে নিতে অস্বীকার করেছিল বাবা-মা। শনিবার কাটোয়া হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর দম্পতি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শিশুকে তারা গঙ্গাবঙ্গে স্থান দেবেন। সেইমতো পরিকল্পনা কষে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে চলে যান সোজা ভাগীরথীর কোটায়া হরিসভা ঘাটে।
তখন খানিক দূরে গঙ্গার ঘাটে স্নান করছিলেন বেশ কয়েকজন। তাঁরাই লক্ষ্য করেন এক মহিলা ও পুরুষ গঙ্গার বুকে কী নিক্ষেপ করল পুঁটলির মতো। তাঁদের দেখে সন্দেহ হয়। তাঁরা বুঝতে পারেন এ তো সদ্যোজাত। তখনই চিৎকার করে উঠেছিলেন তাঁরা। তা শুনতে পেয়েই গঙ্গার ঘাটে বসে থাকা রিকশা চালক রতন শেখ ঝাঁপিয়ে পড়েন গঙ্গায়। তুলে আনেন সদ্যোজাতকে। শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ এই ঘটনায় শিশুটির বাবা-মা, দাদু-দিদা ও পিসিকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা হল শান্ত, পারমিতা, সরস্বতী, বিশ্বনাথ ও ডলি। নিজের সন্তানকে কেন গঙ্গায় ছুডড়ে ফেললেন? জবাবে সরস্বতী জানায়, বিকলাঙ্গ মেয়েকে ঘরে নিয়ে গিয়ে কী করব! বাচ্চার চোখ-নাক-মুখ কিছুই ফোটেনি। আমরা গরিব মানুষ, তাই জলে ভাসিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু একরত্তি শিশুকে জলে ফেলতে এতটুকু কষ্ট হল না? লজ্জ্বায় মুখ ঢাকে সবাই। লজ্জ্বা মাতৃত্বেরও।
দুদিন আগেই আমেরিকায় শিশুর কান্না থামাতে জলে ডুবিয়ে তাকে হত্যা করে মা। প্রশ্ন উঠে পড়ে মাতৃত্ব নিয়ে। শিশু খুনের পর আবার তিনি অপহরণের গল্প ফেঁদে ফোন করেন পুলিশকে। তারপরই ফাঁস হয়ে যায় প্রকৃত সত্য। স্ত্রীর স্বীকারোক্তি শুনে অবাক হয়ে যান বাবা। তেমনই এক ঘটনা এবার বাংলার বুকে। ফের অসহায় শৈশব।












Click it and Unblock the Notifications