Panchayat Election Results 2023: শুভেন্দুর 'বালির বাঁধ' মান বাঁচাল বিজেপির, হিংসা নিয়ে রিপোর্ট দিচ্ছেন শাহকে
Panchayat Election Results 2023: বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার পঞ্চায়েত নির্বাচনেও পূর্ব মেদিনীপুরে সাফল্য পেল বিজেপি। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূলের দখলেই ছিল সব আসন।
রাজ্য়ের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, ৭৮-৭৯টি পঞ্চায়েতে জিতছে বিজেপি। তৃণমূল জিতছে ৮০-৮২টি আসনে। বাকি অনেকগুলি পঞ্চায়েতই ত্রিশঙ্কু। আজ দিনে বেশ কয়েকবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে কথা হয়েছে শুভেন্দুর।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দিল্লি পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল নিয়ে ভাবছে না। উদ্বিগ্ন হিংসা নিয়ে। এখানে এবার কোনও ভোটই হয়নি। লুঠ হয়েছে। কিছু পকেটে বিরোধীরা প্রতিরোধ গড়ে লড়াই চালিয়েছেন। এরপর জেতা বিরোধী প্রার্থীদের উপর চাপ তৈরি হবে। যাঁদের মেরুদণ্ড রয়েছে তাঁরা কেউ টিএমসিতে যাবেন না।
আজ রাতের মধ্যেই অমিত শাহকে রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে হিংসার বিস্তারিত তথ্য পাঠাবেন শুভেন্দু। শেষ লাইনে শুভেন্দু লিখতে চান, গণতান্ত্রিক উপায়ে এই সরকারকে সরানোর সময় এসে গিয়েছে। ৬ হাজার বুথে ভোট লুঠ হয়েছে বলে দাবি শুভেন্দুর। কাল আদালতের শুনানির দিকেও তিনি তাকিয়ে। অভয় দিচ্ছেন আক্রান্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বিজেপি কর্মীদের।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে ভোট পরবর্তী হিংসার খবর আসছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, বারাসতে ২০টি দোকানে তালা দিয়ে একটি পোড়ানো হয়েছে। শুভেন্দুকে তারকেশ্বর থেকে কাউন্টিং এজেন্ট ফোন করে বলেন, বাড়ি ফিরতে পারছি না। শুভেন্দু বলেন, দিঘার বাস ধরে কাঁথি আসতে। আগেরবারের মতো এবারও মেসে রাখবেন। চিন্তা নেই।

সরকারিভাবে ফল ঘোষণা হতে রাত গড়়িয়ে ভোর হয়ে যেতে পারে। জানা যাচ্ছে, নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের ১০টি পঞ্চায়েতে তৃণমূল ও বিজেপি ৫টি করে জিতছে। নন্দীগ্রাম ২ নং ব্লকে বিজেপি চারটি ও তৃণমূল কংগ্রেস ২টিতে জিতছে। আমদাবাদ ত্রিশঙ্কু।
নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে বিজেপি জিতছে বা জিতেছে ভেকুটিয়া, হরিপুর, নন্দীগ্রাম, গোকুলনগর ও সোনাচূড়ায়। তৃণমূলের দখলে মহম্মদপুর, কেন্দামারি, দাউদপুর, সামসাবাদ ও কালীচরণপুর। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকে বয়াল ১ ও ২. খোদামবাড়ি ২ ও বিরুলিয়ায় জিতেছে বিজেপি। খোদামবাড়ি ১ ও আমদাবাদ ১-এ জিতেছে তৃণমূল।
নন্দীগ্রামকে এবার তৃণমূলমুক্ত করার চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেটা না হলেও তৃণমূলের দখলে থাকা পঞ্চায়েতগুলি ছিনিয়ে নেওয়া কম কথা নয়। খোদামবাড়ি ১-এ তৃণমূল ও বিজেপি একটা সময় অবধি ৭টি করে বুথে জিতেছিল। শেষ বুথে ১২ ভোটে জেতে টিএমসি। সামসাবাদে তৃণমূলকে কড়া টক্কর দেন নির্দল প্রার্থীরা।

শুভেন্দুর কথায়, নন্দীগ্রামে বিজেপির টিকিটে যাঁরা লড়েছেন সেখানে সাকসেস রেট ৭০ শতাংশ। নন্দীগ্রাম ২ নম্বরে ১১৪টির মধ্যে ১০৮টি আসনে বিজেপির প্রতীকে লড়েছেন প্রার্থীরা, ৭০-৭৫টি আমাদের থাকছে। নন্দীগ্রাম ১ নং ব্লকের ১৯৩টির মধ্যে ১২১টিতে প্রার্থীরা বিজেপির প্রতীকে লড়েছেন। স্ট্রাইক রেট ১০০ শতাংশ।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, আমি অমিত শাহর উপস্থিতিতে বিজেপিতে যোগদান করেছিলাম। বিধানসভা নির্বাচনে অগ্নিপরীক্ষা দিয়েছি। দল আমাকে বিরোধী দলনেতা করেছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রচারের ফাঁকে যেটুকু সময় জেলায় ছিলাম, বালির বাঁধ দিয়েছি। বিরোধীরা বিভিন্ন জায়গায় সাধ্যমতো লড়েছেন। আমি বালির বাঁধ দিয়ে যতটা সম্ভব আসনে জেতাতে পেরেছি দলকে।
১১৫ থেকে ১২০টি আসন বিজেপি জিততে পারত বলে দাবি শুভেন্দুর। রাজ্য প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও পুলিশের মদতে ভোট লুঠ হয়েছে। তবে যেখানে তৃণমূল জিতেছে সেখানে লোকসভা ভোটে গ্রাম পঞ্চায়েত পিছু ৪ থেকে ৫ হাজার ভোটে জেতানোর চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন শুভেন্দু।












Click it and Unblock the Notifications