Panchayat Election 2023: কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ! সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য ও কমিশন?
Panchayat Election 2023: পঞ্চায়েত নির্বাচন কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে করানোর নির্দেশ গতকালই দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর পথে রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন।
সূত্রের খবর, আজ রাত বা কালকের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ই-ফাইলিং করা হতে পারে। যদিও ইতিমধ্যেই শীর্ষ আদালতে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও কংগ্রেসের আবু হাসেম খান চৌধুরী।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কীভাবে কাজে লাগানো হবে তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ হয় রাজ্য নির্বাচন কমিশন দফতরে। উপদ্রুত এলাকা চিহ্নিত করা, সেই সঙ্গে স্পর্শকাতর এলাকায় কীভাবে অশান্তি ঠেকানো যায় তা নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেন স্বরাষ্ট্র সচিব বি পি গোপালিকা ও এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গায় অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। ভাঙড়, চোপড়া, নবগ্রাম-সহ একাধিক জায়গায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। অনেকে গুরুতর আহত। এই আবহে উপদ্রুত জেলা, স্পর্শকাতর এলাকা চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

দুই ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ জেলার উত্তেজনা প্রবণ এলাকা ও বুথগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
সেই সঙ্গে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রের কাছে বাহিনী চেয়ে তা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। সব বুথে বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে কত পরিমাণ কেন্দ্রীয় বাহিনী চাওয়া হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। বিস্তারিত কিছু না জানালেও রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের কথাতেও সেই সুরই ধরা পড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় বাহিনী কবে থেকে মোতায়েন করা হবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকছে।

রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বারবার বলছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী কোনও ফ্যাক্টর নয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বাহিনী এসেছিল। মানুষ তৃণমূলকেই ভোট দিয়েছেন। সিপিআইএম ও কংগ্রেস শূন্য হয়েছে। বিজেপি থেমেছে সত্তরের ঘরেই। যদিও কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে অস্বস্তি এড়াতে পারেনি রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কেন্দ্রীয় বাহিনী আনাকে কটাক্ষ করে বলেছেন. দুটি বুথের গণ্ডগোলেই ঢাল-তরোয়াল নিয়ে আসছে। মা-বোনেরা জোট বাঁধুন। ওদের আলুভাজা খাওয়াবেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছিল আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নয় রাজ্য। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সোমবার শীর্ষ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী গতকালই বলেছিলেন, আদালতের ঐতিহাসিক রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ থেকে কোনও নির্দেশ বের করে আনতে পারে সরকার ও কমিশন। সেটা যাতে না হয়, আমাদের বক্তব্য যাতে শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা শোনেন সে কারণে ক্যাভিয়েট ফাইল করব।

যেভাবে রাজ্যবাসীর করের কোটি কোটি টাকা রাজ্য সরকার হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে মামলা লড়তে ব্যয় করছে সেটা নিয়েও সরব রাজনৈতিক দলগুলি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার গতকাল হাইকোর্টের রায় মানার কথা বলেছিলেন। তিনিও কেন ভোল বদলালেন ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
সূত্রের খবর, সকাল থেকে আইনি আলোচনার পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের পরিকাঠামো নেই, পর্যাপ্ত পুলিশ নেই, এটা কীভাবে আদালত জানল তা নিয়ে সরকারি মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, রাজ্যকে আদালত সঠিকভাবে সুযোগ দেয়নি অবস্থান জানাতে।












Click it and Unblock the Notifications