Panchayat Election 2023: কমিশনের নির্দেশ অগ্রাহ্য কালনার তৃণমূল বিধায়কের! গ্রেফতারির দাবি জানাল বিজেপি
Panchayat Election 2023: পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের জন্য এক নিয়ম, আর বিরোধী দলগুলির জন্য আরেক? এমন প্রশ্নই এবার উঠল পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। তৃণমূল বিধায়ক কমিশনের যে নির্দেশ অগ্রাহ্য করেছেন তা আদালত অবমাননার সামিল, মত বিজেপির।
বাঘনাপাড়ার সিকেডি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় বুথের ঘটনা। বিজেপির জেলা পরিষদের প্রার্থী দীপালি দাস ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ তুলতেই বচসায় জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল বিধায়ক। পুরসভার বাসিন্দা হয়ে কীভাবে একজন বিধায়ক এভাবে পঞ্চায়েতের বুথে ঘুরতে পারেন? প্রশ্ন উঠছে।

সকাল থেকে বাঘনাপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় বুথ জ্যামের অভিযোগ উঠছিল। বিরোধীদের নিশানায় শাসক দল। এরই মধ্যে বাঘনাপাড়ার বুথটিতে কালনার বিধায়ক দেবপ্রসাদ বাগের মুখোমুখি হয়ে যান বিজেপির জেলা পরিষদ প্রার্থী দীপালি দাস। বিভিন্ন এলাকায় শাসক দল বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট করছে, তাঁকেও কয়েকজন মদ্যপ নিগ্রহ করেছেন, এই অভিযোগগুলি বিধায়ককে জানান বিজেপি প্রার্থী।
বিজেপি প্রাথীর আরও অভিযোগ, বিধায়কের উপস্থিতিতেই চলছে ছাপ্পা ভোট। এমনকী শাসক দলের বহিরাগত দুষ্কৃতীরা প্রিসাইডিং অফিসারকে মারধর করেন বলেও অভিযোগ। তৃণমূল বিধায়ক বলেন, অশান্তির খবর পেয়েছি। তবে তৃণমূল বুথ দখল করতে গেলে প্রিসাইডিং অফিসারকে মারবে কেন? কারা ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না। সিপিআইএম, কংগ্রেস ও বিজেপি একজোট হয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে দাবি দেবপ্রসাদের।

এই কথোপকথন চলাকালীন আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিধায়ক রীতিমতো আঙুল উঁচিয়ে ওই মহিলা প্রার্থীকে চুপ থাকতে বলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে সরব হন। বলতে থাকেন রাজ্যে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি চুরি করছে আর রাজ্যের প্রাপ্য টাকা আটকে বঞ্চনা করছে।

বুথ চত্ত্বরে এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলার সময়ই বিজেপি অভিযোগ করে কমিশন ও প্রশাসনের দ্বিচারিতা নিয়ে। কমিশনের নির্দেশ মেনে কাঁথি থানার পুলিশ নোটিশ পাঠিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে জানায়, ভোটের দিন তাঁর গতিবিধি যে এলাকার তিনি ভোটার তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে বুথেও যেতে পারবেন না।
এই নোটিশ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শুভেন্দু অধিকারী। শুনানিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানায়, এই নির্দেশ সকল জনপ্রতিনিধির জন্যই জারি করা হয়েছে। শুনানির শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহা জানান, কমিশনের নির্দেশ মানতে হবে। এ প্রসঙ্গে কালনার বিধায়কের দাবি, তাঁকে পুলিশের তরফে কোনও নির্দেশ পাঠানো হয়নি।

কালনার বিধায়কের আরও দাবি, তিনি রাস্তা দিয়ে গিয়েছেন। বুথে ঢোকেননি। যদিও ভোটগ্রহণ কেন্দ্রেই তাঁকে বচসায় জড়াতে দেখা গিয়েছে। কালনার বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু বলেন, নোটিশ উনি পেয়েছেন, নাকি পাননি বড় বিষয় নয়। আইন জানা উচিত। আমিও তো পুরসভা এলাকা ছেড়ে গ্রামে ঘুরতে পারতাম। কিন্তু তা তো করিনি।
বিশ্বজিতের কথায়, বিধায়কের উপস্থিতিতে আমাদের প্রার্থীদের নিগ্রহ করে ভোট লুঠ করা হয়েছে। বাঘনাপাড়া এলাকার বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন চাই। একইসঙ্গে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি। বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পাণ্ডা বলেন, আমরা কালনার বিধায়ককে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। কলকাতা হাইকোর্টেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করব।

শঙ্কুদেব বলেন, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক তাঁর কেন্দ্রের মানুষের সুবিধা করতে পারবেন না। মৃত্যু হলে পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর অধিকার নেই। অথচ শাসক দলের বিধায়করা লুঠপাটে নেমে পড়েছেন নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো। তাঁদের পাশাপাশি এত মৃত্যু, হত্যার জন্য দায়ী নির্বাচন কমিশনারকেও গ্রেফতার করা হোক। ফৌজদারি প্রক্রিয়া চালু করা উচিত।
শঙ্কুদেব আরও বলেন, সারা বাংলাজুড়ে গতকাল রাত থেকেই সব বিধায়ক দৌড়ে গিয়ে ভোট লুঠ শুরু করেছেন। দশ বছর কাজের পরও এত ভয়! ১০ বছরে কাজের পর এত ভয়, এত আতঙ্ক। এত মৃত্যুমিছিলের প্রয়োজন হলো? কোন দলকে আমরা ক্ষমতায় এনেছিলাম। একটা দলকে সরিয়ে যাকে এনেছিল সে তো দেখি তার চেয়েও ভয়ঙ্কর।












Click it and Unblock the Notifications