Panchayat Exclusive: সভাধিপতি না হলে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ! পদ-প্রত্যাশীদের মরিয়া আর্জিতে অবাক টিএমসি নেতৃত্ব
Panchayat Election 2023: পঞ্চায়েতের ত্রিস্তরে বোর্ড গঠনের প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই তা হয়ে যাবে। তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল সাফল্য পেয়েছে। জেতার পর এবার অন্য চ্যালেঞ্জ।
পঞ্চায়েত স্তরে জল্পনা চলছে প্রধান ও উপ প্রধানের নাম নিয়ে। ইতিমধ্যেই ব্লক সভাপতি, বিধায়কদের তরফে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে তৃণমূলের শীর্ষস্তরে। পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদও ব্যতিক্রম নয়। তবে জেলা সভাধিপতির পরই সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ পদের জন্য।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবজোয়ার কর্মসূচি চলাকালীনই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল তৃণমূল। আইপ্যাকের সমীক্ষার ভিত্তিতে ভালো ভাবমূর্তি থাকা ব্যক্তিদেরই প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অনেক পদাধিকারী বাদ পড়েন। তাঁদের অনেকে নির্দল হয়ে দাঁড়ানোয় তৃণমূল জেলায় জেলায় অনেক নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করে। দরজা চিরতরে বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়।
অভিষেক এখন চিকিৎসার জন্য রয়েছেন বিদেশে। তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে রাত পর্যন্ত ভিড় লেগেই রয়েছে। বিধানসভার অধিবেশন থেকে বেরিয়েই অনেক বিধায়ক অভিষেকের অফিসে গিয়ে বসে থাকছে পছন্দের ব্যক্তিদের জন্য তদ্বির করতে। অনেককে বিফল মনোরথে ফিরতেও হচ্ছে। সবদিক খতিয়ে দেখে যোগ্যদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলের সূত্রের খবর, কোথায় কোন পদে কে বসবেন তা চূড়ান্ত করার মূল দায়িত্বে রয়েছেন অভিষেক। নিয়মিত তাঁর দফতরের সঙ্গে কথা হচ্ছে। সবকিছু জানানো হচ্ছে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। যাঁরা টিকিট পাননি, কিংবা হেরেও গিয়েছেন তাঁদের কেউ কেউ মেন্টর হতে চাইছেন।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি হওয়ার দৌড়ে থাকা বাঁকুড়ার অর্চিতা বিদ থেকে হুগলির মানস মজুমদারের মতো অনেকেই বিধানসভায় এসে প্রণাম করে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তৃণমূলের এক গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলছিলেন, এবার জেলা সভাধিপতি পদের জন্য যেমন অনেকেই মরিয়া, তেমনই প্রচুর আর্জি আসছে পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হওয়ার জন্য। অন্য কর্মাধ্যক্ষ পদের চাহিদা তেমন নেই।

জনস্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো কর্মাধ্যক্ষ পদের চেয়েও পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ডিমান্ড বেশি হওয়ার কারণ যে পাঁচ বছর ধরে দুর্নীতি করা, সেটা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। উল্টে যাঁরা ওই পদ পেতে চাইছেন বিশেষ করে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত সমিতিতে, দৌড়ে তাঁরা পিছিয়েই পড়ছেন বলে সূত্রের খবর। বোর্ড গঠনের পর বড় অশান্তির আশঙ্কাও এড়াতে পারছে না তৃণমূল।
তৃণমূলেরই এক বিধায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, ভোটের সময় আর কী অস্ত্র দেখেছেন? বোর্ড গঠনের জন্য কয়েকটা দিন অপেক্ষা করুন না। প্রধান, উপ প্রধানের নাম প্রকাশের পর আরও অনেক অস্ত্র বেরোবে। অর্থাৎ বোর্ড গঠনকে ঘিরে যে কোন্দল থাকবে সে ব্যাপারে নিশ্চিত শাসক দল। তবে তৃণমূলের মধ্যেই বাংলার ভোট সংস্কৃতি বদলানোর দাবিও উঠছে।
দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলছিলেন, আমার এলাকায় কোনও সন্ত্রাস করতে দিইনি। এখন তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোটের ফারাক ৩০ শতাংশে ঠেকেছে। বিভিন্ন ভোটের চরিত্র আলাদা। লোকসভা ভোটে তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের শতাংশের ফারাক কিছুটা কমলেও আমরাই বেশি আসন পাব। হিন্দু ভোটও তৃণমূলে ফিরেছে। বিজেপির ভোট কমার ধারা অব্যাহতই থাকবে।
ভোটের সময় গণ্ডগোল হয় নীচুতলায়। যদি বিজেপির আদালতে পেশ করা দাবিকে মেনেও নেওয়া যায় যে ৬ হাজার বুথে ছাপ্পা হয়েছে, তাহলেও ৫৫ হাজারের বেশি বুথে ভালো ভোট হয়েছে। যাঁরা গণ্ডগোল, অশান্তি, সন্ত্রাস করে থাকেন দলমত নির্বিশেষে সকলে যদি তাঁদের পাশে না থাকার বার্তা দেন তাহলেই দেখা যাবে ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবেই, দাবি ওই তৃণমূল নেতার।












Click it and Unblock the Notifications