Panchayat Election 2023: রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অস্বস্তি বাড়ছেই, জোড়া রিপোর্ট তলব কলকাতা হাইকোর্টের
Panchayat Election 2023: রাজ্য নির্বাচন কমিশনের অস্বস্তি বাড়ছেই। এবার জোড়া রিপোর্ট তলব করল কলকাতা হাইকোর্টের। আদালত অবমাননার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছে কমিশন।
পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আদালত অবমাননার মামলায় কমিশনের কাছে হলফনামা তলব করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সৌদি আরব থেকে কীভাবে মনোনয়ন পেশ করা হয়েছে সে ব্যাপারেও কমিশনকে জবাবদিহি করতে হবে।

রাজ্য নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশ আসার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর। ফলে কেন এবং কোন আইনবলে সময়মতো আদালতের নির্দেশ মান্য হলো না, কেন সময় নষ্ট করা হলো, তা এবার জানাতে হবে কমিশনকে।
এখানেই শেষ নয়। ৩ দিনে ২০ হাজার ৫৮০ জনের মনোয়ন প্রত্যাহার কেন হয়েছে সেটাও কমিশনকে জানানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২৭ জুনের মধ্যে হলফনামা তলব করা হয়েছে। ২৮ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বিরোধী প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি। এটা কাম্য নয়।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশের পরও কমিশন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর আবেদন করেনি। শুভেন্দুর আইনজীবী বলেন, নির্বাচনে নিরপেক্ষতার কথা বলা হলেও নির্বাচন কমিশন তা পালন করছে না।
২০ হাজার ৫৮০ জনের মনোয়ন বাতিল করা হয়েছে। এই অবস্থায় আমরা একজন প্রাক্তন বিচারপতিকে নির্বাচন পরিদর্শকের দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচন করার আবেদন জানাচ্ছি। উল্লেখ্য, আগে এমন আবেদন খারিজ হয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে।
কমিশনের আইনজীবী কিশোর দত্ত বলেন, আমরা আদালতের নির্দেশ মেনে মোট ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছিলাম। ৩১৫ কোম্পানি দিয়েছে। যা চাওয়া হচ্ছে তার চেয়ে কম পাঠাচ্ছে। আবার আদালত অবমাননার মামলা দায়ের হচ্ছে! পশ্চিমবঙ্গের ২৭৩ জন ডব্লিউবিসিএস অফিসার এবং ২২ জন আইএএস অফিসারকে পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছে।

অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করতে কমিশন যে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, সে কথাও জানান কমিশনের আইনজীবী। তিনি আরও বলেন, রাজ্য নির্বাচন কমিশন একটা স্বাধীন নিরপেক্ষ সংস্থা। নির্বাচনের আগেই কমিশনের ভুমিকা নিয়ে কিছু বলা কতটা যথাযথ তা আদালতের খতিয়ে দেখা উচিত। কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, কমিশন যত বাহিনী চাইবে তা পাঠানো হবে।
আবু হাসেম খান চৌধুরীর আইনজীবী ঋজু ঘোষাল প্রশ্ন তোলেন, সমস্ত বুথে চারটে করে ক্যামেরা বসাতে বিপুল ক্যামেরা লাগবে। তার বিজ্ঞপ্তি কোথায়? প্রধান বিচারপতি তখন বলেন, আদালতের নির্দেশ আছে। সেই নির্দেশ না মানলে তখন বিষয়টি আদালত দেখবে।

এদিকে, সৌদি আরবে থেকে তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল মামলায় কমিশনের কাছে রিপোর্ট চাইল হাইকোর্ট। ৪ জুন দেশের বাইরে গিয়ে ১২ জুন কীভাবে মনোনয়ন জমা মিনাখাঁর কুমারজোল পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রার্থীর? তদন্ত করে ২৮ জুন রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা।
রিপোর্ট দেখে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে মনোনয়ন বাতিল হবে কিনা। আগামী ২৮ জুন মামলার পরবর্তী শুনানি। উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটের বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই ৪ জুন দেশ ছাড়েন মোহারুদ্দিন গাজি। আদালতে জানায় অভিবাসন দফতর। তা হলে কী করে হাজির হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন এই তৃণমূল প্রার্থী? প্রশ্ন বিচারপতি অমৃতা সিনহার।
প্রসঙ্গত, সৌদি আরবে বসেই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মিনাখাঁর কুমারজোল পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রার্থী মোহারুদ্দিন গাজি। এই অভিযোগে তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় সিপিআইএম।












Click it and Unblock the Notifications