গঙ্গার গ্রাসে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িও! একদিনে ২০০ বাড়ি মালদহের ভাঙনের কবলে
গঙ্গা-ভাঙন থেকে নিস্তার নেই মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকার। গঙ্গার গ্রাসে একের পর এক বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। মালদহে এবার গঙ্গার ভাঙনের মুখে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িও।
গঙ্গা-ভাঙন থেকে নিস্তার নেই মালদহের বিস্তীর্ণ এলাকার। গঙ্গার গ্রাসে একের পর এক বাড়ি তলিয়ে যাচ্ছে। আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষ। মালদহে এবার গঙ্গার ভাঙনের মুখে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িও। প্রাক্তন বিধায়কও এবার গঙ্গার ভাঙনের মুখে আশ্রয়হীন হতে বসেছেন। ইতিমধ্যেই নতুন আশ্রয়ের খোঁজ শুরু করেছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

মালদহের বিভিন্ন বসত এলাকায় ঢুকে পড়ছে গঙ্গার স্রোত। নিমেষের মধ্যে একের পর এক বাড়িকে গঙ্গা বঙ্গে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মালদহের বীরনগর, সরকারপাড়া- সর্বত্রই এই চিত্র। সোমবার এমনই পরিস্থিতি হয় প্রায় ২০০ বাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে। সাধারণ মানুষের আশ্রয় হয় গাছতলা বা রাস্তা বা মাঠের ধারে বানানো তাঁবু।
মাথার উপরের ছাদটুকুও আর সম্বল নেই। আশ্রয় হারিয়ে সবার চোখের জলটাই সম্বল শুধু। ভাঙতে ভাঙতে গঙ্গার গ্রাসের মুখে এবার দাঁড়িয়েছে প্রাক্তন বিধায়কের বাড়িও। আগেও বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কের বাড়ি গঙ্গার গ্রাসে তলিয়ে গিয়েছিল। এখন তিনি আর বিধায়ক নেই। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক স্বাধীনকুমার সরকার আবারও তিনি গঙ্গার গ্রাসে ঘর হারানোর মুখে দাঁড়িয়ে।
গঙ্গা ভাঙতে ভাঙতে এগিয়ে আসছে ক্রমশ। বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ি থেকে এখন মাত্র ৫০ মিটার দূরে রয়েছে গঙ্গা। সেই কারণে গঙ্গার গ্রাস থেকে বাঁচতে বসতভিটের সমস্ত জিনিসপত্র সরানোর কাজ শুরু করেছেন তিনি। ২০১৬ সালে বসতবাড়ি তলিয়ে গিয়েছিল গঙ্গায়। তারপর ফের স্বাধীনবাবু বাড়ি তৈরি করেছিলেন। এবারও তা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে মালদহের কালিয়াচক ব্লকের বীরনগর গার্স হাইস্কুলের একাংশ নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। শতাধিক পরিবার ওই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল। তাদের মাথার উপর থেকেও ছাদ চলে যায়। রাজ্য সরকার গৃহহীনদের একটা তালিকা তৈরি করেছে। অনেকে জমির পাট্টা পেলেও অনেকে পাননি। বাধ্য হয়েই এখানে ওখানে কোনওরকমে মাথা গোঁজার স্থান খুঁজে নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন ও মালদহের জেলাশাসক এদিন গঙ্গা ভাঙন কবলিত এবাকা পরিদর্শন করেন। সেচ প্রতিমন্ত্রী বলেন, বীরনগর স্কুলের পরিবর্তে অন্যত্র ত্রাণ শিবির খোলার ব্যবস্থা করছে সরকার। একইসঙ্গে ভাঙন প্রতিরোধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন, কালিয়াটকের তিন নম্বর ব্লকের ওই এলাকায় বাঙন প্রতিরোধের দায়িত্ব ফারাক্কা ব্যারেজের। রাজ্য সরকারের সেচ দফতরের ওই এলাকায় কাজের অনুমতি নেই। তাই ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications