মমতার সিকিভাগও কি পারলেন মোদী! বাংলাকে এভাবে বঞ্চনা ভোটে ইস্যু হবে না তো
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। ২০১৯-এর ভোটে সেই সাফল্যের পরও বাংলার ভাঁড়ার কার্যত শূন্যই রয়ে গেল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলায় ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে বিজেপি। ২০১৯-এর ভোটে সেই সাফল্যের পরও বাংলার ভাঁড়ার কার্যত শূন্যই রয়ে গেল। মোদী সরকারে বাংলা পেল শুধু দুই প্রতিমন্ত্রী, কোনও পূর্ণমন্ত্রিত্ব তো নয়ই, সংখ্যাও বাড়ল না। আশা করে হয়েছিল অন্তত ছয়জন মন্ত্রী হবেন বাংলা থেকে, তার জায়গায় দুইয়েও আটকে সেই আশা দুরাশা হয়ে গেল।

১৮টি আসন পেয়েও সেই দুই!
এবার বাংলায় বিজেপির সাফল্যে চোখ কপালে উঠে যাওয়ারই জোগাড়। মুখে ২৩টির কথা বললেও বিজেপির তাবড় নেতারাও ভাবেননি ১৮টি আসন তারা পেতে পারে। কিন্তু এহেন সাফল্যের পরও যে বাংলাকে ব্রাত্য থাকতে হবে মোদী মন্ত্রিসভায়, তা মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। অনেকে মুখও খুলেছেন কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে।

মমতার ভিত নড়িয়েও বঞ্চনা
এবার বাংলা নিয়ে তো কম পরিকল্পনা করেনি বিজেপি। বাংলায় জয়ের লক্ষ্যে ভাবনা-চিন্তাও অনেক হয়েছে। সেই ভাবনার অঙ্গ হিসেবে ত্রিপুরা জয়ের পর ‘এবার বাংলা' স্লোগান দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিজেপি। সেই মিশন বাংলায় সফল মুকুল-দিলীপরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিত তারা নড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

অসাধ্য সাধন করেও আশায় জল
কিন্তু এই অসাধ্য সাধন করেও ফল মিলল কই! বাংলা তো সেই বঞ্চিত, অভহেলিতের দলে। মুকুল-দিলীপরা না হয় মন্ত্রী হবেন না বলেই দিয়েছেন। কিন্তু ২০২১-কে টার্গেট করে বাংলায় এবার মন্ত্রীর স্ংখ্যা বাড়বে এমনমটাই আশা করেছিল বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব। কর্মী-সমর্থকরাও আশায় ছিলেন, তাঁদের এলাকার সাংসদরা মন্ত্রী হবেন।

দুইয়ে দুই, ১৮-তেও সেই দুই
কিন্তু ২০১৪ সালে দুটি আসনে জিতেও যা হয়েছিল, এবার অভাবনীয় ১৮টি আসনে জিতেও সেই একই হল। বাংলার ভাগ্যে সেই দুই প্রতিমন্ত্রী। গতবার বাবুল সুপ্রিয় ও সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া হয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী। এবার বাবুলের সঙ্গে মন্ত্রী হলেন দেবশ্রী চৌধুরী। দুজনেই প্রতিমন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্তও নন।

ইউপিএ টু বনাম মোদী টু
অথচ ইউপিএ-টু সরকারে তৃণমূল মন্ত্রিসভা যোগ দেওয়ায় একজন ক্যাবিনেটমন্ত্রীর পাশাপাশি ছ-জন প্রতিমন্ত্রী পেয়েছিল বাংলা। সেবারও ১৯টি আসন জিতেছিল তৃণমূল। এক্ষেত্রেই প্রশ্ন উঠেছে কংগ্রেসী ক্ষমতামলে বাংলা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের ছ-সাতজন যদি মন্ত্রী হতে পারেন, তবে বিজেপির শাসনে বিজেপিরই পাঁচ-ছজন মন্ত্রী পাবে না কেন?

এই সিদ্ধান্ত কি বঞ্চনা?
তাহলে এই সিদ্ধান্তকে কি বঞ্চনা বলে ধরা হবে না? তা নিয়ে কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। যদিও বিজেপির একাংশ এই সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি বাংলা থেকে অভাবনীয় ফলাফ হয়েছে। তারপরও কেন বাংলা গুরুত্ব পাবে না দিল্লির রাজনীতিতে। বাংলাকে কেন খাটো করে দেখা হবে। বাংলায় বিজেপি সে সম্ভাবনা ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা ধাক্কা খাবে বলে মনে করছেন অনেকে।

টগবগিয়ে অশ্বমেধের ঘোড়া ছোটানই সার
এবার বাংলায় পদ্ম ফোটানোর টার্গেট করেছে বিজেপি। সেই লক্ষ্যে টগবগিয়ে ছুটে চলেছে বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া। বাংলার বুকে বিজেপির রথ ছোটাতে না দিলেও, বাংলায় বিজেপির ঘোড়া যে ছুটতে শুরু করেছে, তার লোকসভা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট। কিন্তপ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে বাংলার সঙ্গে এভাবে বঞ্চনা, বাংলার মানুষ ভালোভাবে নেবে না বলেই মনে করছে বিজেপির একাংশ।

বাংলায় বঞ্চনা, ইস্যু করবে তৃণমূল
বিজেপির একাংশের দাবি, কেন্দ্রে বাংলার এই বঞ্চনা, তৃণমূল কংগ্রেস আরও বেশি করে প্রচার করবে। এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলকে অনেকটাই অক্সিজেন দেওয়া হল বলেই ধারণা অনেক নেতা-কর্মীর। তাঁদের কথায়, বাংলায় মানুষ মোদী সরকারের উপর আস্থা রেখেই এবার ভোট দিয়েছে, কিন্তু তা যদি এভাবে মাঠে মারা যায়, তবে তা দলের পক্ষেও সুখকর হবে না।












Click it and Unblock the Notifications