সকাল থেকেই ফের তপ্ত পাড়ুই, যথেচ্ছ গুলি-বোমা, মৃত এক বিজেপি কর্মী

শুরুটা হয়েছিল গতকাল। মাকড়া গ্রামে যেমনভাবে শাসক দলের গুন্ডাবাহিনী ঢুকে পড়েছিল, শিরশিটা গ্রামে শনিবার দুপুরে একইভাবে তারা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপিই হামলা চালিয়েছে। কারণ তারা নাকি এলাকা দখল করার গোপন কর্মসূচি নিয়েছে। আর বিজেপির দাবি, এখানকার গ্রামগুলিতে তাদের প্রভাব বাড়ছে বলে ভয় পেয়ে হামলা চালাচ্ছে তৃণমূল। শিরশিটা, চৌমণ্ডলপুর ছাড়াও বোমাবাজি হয়েছে যাদবপুর গ্রামে।
এ দিন সকালে শিরশিটা গ্রামে এক দফা হামলা চালানোর পর দুষ্কৃতীরা ঝাঁপিয়ে পড়ে চৌমণ্ডলপুরে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের বাড়ি ভাঙচুর, মহিলাদের শ্লীলতাহানি, লুঠপাট কিছুই বাদ যায়নি। গুলি চালাতে-চালাতে যখন চৌমণ্ডলপুরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুর্বৃত্তরা, তখন আতঙ্কে পালাতে যান বিজেপি কর্মী জামির শেখ। তিনি ধান কাটছিলেন। সরাসরি তাঁর বুকে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, শিরশিটাতেও দু'জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সীমিত সামর্থ্য নিয়েও এ দিন দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
"২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এই জেলা থেকে একটাও আসন পাবে না বিজেপি"
প্রসঙ্গত, শিরশিটা, চৌমণ্ডলপুর, মাকড়া ইত্যাদি গ্রামগুলি সবই পাড়ুই থানার অন্তর্গত। লোকসভা ভোটের পর থেকেই এই সব গ্রামে বিজেপির প্রভাব বাড়তে থাকে। লক্ষণীয়, এই গ্রামগুলি মূলত মুসলিম অধ্যুষিত। অথচ একটা সময় এই অঞ্চলে তৃণমূলের প্রশ্নাতীত প্রভাব ছিল। পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে থাকায় স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত হয়ে পড়ে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাই সিপিএম যে কায়দায় গ্রাম দখল করত, একই কায়দায় তারা নেমে পড়ে। ফলে ব্যাপক আকারে হিংসা ছড়িয়েছে।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাহুল সিনহা বলেছেন, "গ্রাম দখল করার ক্ষেত্রে পুলিশ সাহায্য করছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।" পাড়ুইয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হওয়া সাগর ঘোষের ছেলে হৃদয় ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমাদের এখানে এক সাব ইন্সপেক্টর এসেছেন। তিনি নিজেকে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের আত্মীয় বলে পরিচয় দিচ্ছেন। বলছেন, পাড়ুইয়ে কেউ বিজেপি করতে পারবে না। যে বিজেপি করবে, তার অবস্থা খারাপ হবে।"
অন্যদিকে, পাড়ুইয়ের গ্রামে-গ্রামে সংঘর্ষের পরও বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল হুমকির সুরে বলেছেন, "২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে এই জেলা থেকে একটাও আসন পাবে না বিজেপি। ১১ টা আসনের সবগুলিই জিতব আমরা। যদি সেটা না হয়, আমি জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেব।" ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই কথাতেই লুকিয়ে আছে প্রচ্ছন্ন মস্তানি!












Click it and Unblock the Notifications