সরস্বতী পুজোর আগে 'মন খারাপে'র আবহাওয়া! মাথায় হাত কয়েকটি জেলার ব্যবসায়ীদের
সকাল থেকে আকাশের মুখ ভার, সঙ্গে শুরু ঝির-ঝিরে বৃষ্টিও। এই অবস্থায় মাথায় হাত ফুটপাথ ব্যবসায়ীদের। আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই বিদ্যার দেবী সরস্বতীর আরাধণায় মাতবে বঙ্গবাসী, বাড়তি কিছু রোজগার হবে এই আশায় যখন বসে ওই সব ব্যবসায়ীরা, ঠিক তখনই 'ভিলেন' বৃষ্টির সৌজন্যে সেই আশা প্রায় একেবারেই শেষ বাঁকুড়া-সহ কয়েকটি জেলায়।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই বাড়ির বাইরে বেরোনো মানুষের সংখ্যাও হাতে গোনা। অন্য বছর সরস্বতী পুজোর আগের সকালে বাঁকুড়া শহরের ব্যবসায়ীদের যেখানে দম ফেলার সময় থাকে না, এদিন সেই সময় তখন শুধুই হাপিত্যেস করে বসে থাকা।

কৃষ্ণনগর থেকে মাটির সরস্বতী প্রতিমা এনেছিলেন রাজু মণ্ডল। তিনি বলেন, ৬০ হাজার টাকার প্রতিমা এনেছিলেন। এই অকাল বৃষ্টির ফলে বাজারে লোকজন নেই। ফলে লাভ তো দূরঅস্ত, মূলের টাকাটাই উঠে আসবে না বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। একই কথা বলেন ব্যবসায়ী মৃত্যুঞ্জয় গরাইও। তিনি বলছেন, শেষ পর্যন্ত কী হবে জানেন না! এখন বিক্রি হবে, সেই 'আশা'তেই বসে থাকা বলে জানিয়েছেন তিনি।
সমস্যায় ফল ব্যবসায়ীরাও। ব্যবসায়ী শ্যাম সূত্রধর বলেন, বিক্রির আশায় বেশি বেশি করে আড়ৎ থেকে ফল তুলেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সকাল থেকে খদ্দেরের দেখা নেই। এখন মহাজনের টাকা শোধ কী করে হবে সেটাই ভাবাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হতাশ শিক্ষক সিদ্ধার্থ মণ্ডলও! তিনি বলেন, স্কুলের পুজোর জন্য প্রতিমা নিতে গিয়েছিলেন, এখন যা পরিস্থিতি প্রতিমা তো রাস্তাতেই ভিজে যাবে। এই বিরক্তিকর আবহাওয়া ছাত্র-শিক্ষক সবার কাছেই ভীষণ 'মন খারাপে'র বলে তিনি জানিয়েছেন।
তবে এই পরিস্থিতি শুধু বাঁকুড়ার নয়, মালদহ, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূমের। ঘূর্ণাবর্তের কারণে উল্লিখিত জেলাগুলিতে আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয় আলিপুর আবহাওয়া দফতর। সেই মতো জেলাগুলিতে এদিন সকাল থেকে বৃষ্টিও হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications