নেতাজির জন্মজয়ন্তীতে মমতার বাণী, ইতিহাসের সম্মান, গণতন্ত্রের প্রশ্ন ও ‘শুনানি' বিতর্কে কটাক্ষ
ধর্মতলার মঞ্চে শুক্রবার ছিল নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ১২৯তম জন্মজয়ন্তীর সরকারি অনুষ্ঠান। কিন্তু শ্রদ্ধার পাশাপাশি সেই মঞ্চই হয়ে উঠল রাজনৈতিক বার্তারও ক্ষেত্র। রাজ্য সরকারের আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উঠে আনলেন বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ইতিহাসের প্রশ্ন ও 'এসআইআর' বিতর্ককে। তাঁর তীক্ষ্ণ মন্তব্য "নেতাজি আজ বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি শুনানিতে ডাকত?" শ্রোতাদের মধ্যে কৌতুক-উদ্বেগ দুই ই জাগাল।
ইতিমধ্যেই নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসুকে শুনানিতে ডাকার প্রসঙ্গ তুলে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনকে একযোগে আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এসআইআরের দাপটে তৈরি হচ্ছে আতঙ্কের রাজত্ব "প্রায় ১১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভয় পেয়ে রোজ তিন চারজন আত্মঘাতী হচ্ছেন। তাহলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা হবে না কেন? কেন্দ্রও দায় এড়াতে পারে না, অনুষ্ঠানের সরকারি মর্যাদা বজায় রাখতে সরাসরি কোনও দলের নাম উচ্চারণ না করলেও ইঙ্গিত স্পষ্ট "পার্টির নাম না হয় বললাম না। কিন্তু সবাই বুঝছেন কী বলতে চাইছি।"

মমতার বক্তব্যে উঠে আসে বৃহত্তর ইতিহাস সংস্কৃতির ক্ষয়ের অভিযোগ। তাঁর মতে "দেশের ইতিহাসকে গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মহাপুরুষদের অসম্মান করা হচ্ছে। ভাষার প্রতিও অসম্মান।" এর সঙ্গে যুক্ত হল নীতি-নির্মাণের দিকটিও। নেতাজির প্ল্যানিং কমিশন তুলে নীতিআয়োগ আনার সিদ্ধান্তে কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন "এটা খায় না মাথায় দেয় কেউ জানে না।"
এ দিনই জন্ম নেয় আরেক প্রশ্ন কেন এখনও ২৩ জানুয়ারি জাতীয় ছুটির স্বীকৃতি পেল না? মমতার আক্ষেপ "আমাদের দুর্ভাগ্য, নেতাজির জন্মদিনটিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন বলা হয়নি। তাঁর মৃত্যুদিনও আজ অবধি সরকারি ভাবে জানা গেল না।"
এসআইআর বিতর্ক থেকে শুরু করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি মমতার ভাষায় এটি এক বৃহত্তর যুদ্ধের অনুষঙ্গ "এটা কৌরবদের সঙ্গে লড়াই মানবিকতার সঙ্গে দানবিকতার লড়াই।" নেতাজির অমর স্লোগান উঁচিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাক দেন "দিল্লি চলো"।
সাধারণ মানুষ যে যন্ত্রণা ভোগ করছেন তার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন "আজ যারা মানুষকে কষ্ট দিচ্ছে, তাদেরও সেই কষ্ট পেতে হবে।" তিনি জানান, তাঁর বাড়িতে কর্মরত এক তরুণীর পরিবারকেও শুনানিতে ডাকা হয়েছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনকে এসআইআর নোটিস পাঠানোর ঘটনাকেও তুলে কটাক্ষ "বাবা মায়ের বয়স মিলিয়ে দেখতে বলছে! বুঝি এবার বিয়েটাও ওরাই ঠিক করে দেবে? প্রেম করার অধিকারও কি ঠিক করে দেবে?"
বেলা বাড়তেই কলকাতার এলগিন রোডে নেতাজি ভবনে হাজির হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, সাথে ছিলেন নেতাজির ভাইপো ও প্রাক্তন সাংসদ সুগত বসু। রাজধানী দিল্লিতে নেতাজির স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও।
নেতাজির জন্মদিনে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ইতিহাসের মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের প্রশ্ন মিলিয়ে যেন এক অন্য রকম দিনের চিত্র তুলে ধরল ধর্মতলা। সুভাষচন্দ্রের আদর্শ স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও নাগরিক অধিকার নতুনভাবে ফিরে এল সমকালীন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে।












Click it and Unblock the Notifications